|
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব, এগিয়ে জামায়াত
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব, এগিয়ে জামায়াত দলীয় সূত্রে জানা যায়, বাগমারা আসনে অন্তত তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন, যারা নিজ নিজ গ্রুপকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সক্রিয়। এদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং কে হবেন দলের চূড়ান্ত প্রার্থী এ নিয়ে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। ফলে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও বিভ্রান্তি ও হতাশা দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তিকে দুর্বল করছে। অন্যদিকে, একই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার সুসংগঠিত ও পরিকল্পিতভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, চিকিৎসাসেবা প্রদান ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সূত্র ধরে তিনি উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন বলে স্থানীয়দের দাবি। নির্বাচনের আগে গত কয়েক সপ্তাহে তাঁর ধারাবাহিক জনসংযোগ, বাড়ি বাড়ি প্রচারণা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংকট আরও প্রকট হয় গত শনিবার (২৯ নভেম্বর) হামিরকুৎসা মাঠে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশকে কেন্দ্র করে। ওই সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ। তাঁর বক্তব্যের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সমাবেশ শেষে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক কামাল হোসেন ও জেলা যুবদলের সদস্য সচিব রেজাউল করিম টুটুল প্রকাশ্যে চাঁদের বক্তব্যের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের বক্তব্য মাঠপর্যায়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক পরিবেশ বানিয়ে দিচ্ছে। তাঁদের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাগমারা বিএনপিতে পাল্টাপাল্টি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই ঘটনাটি স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় ঐক্যকে আরও দুর্বল করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাগমারায় বিএনপির বর্তমান অবস্থা দলটির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তারা বলছেন, একটি নির্বাচনী আসনে যখন দলীয় প্রার্থী নির্ধারণ নিয়ে এমন হুমড়ি-খাওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন সাধারণ কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। এর ফলে সংগঠিত প্রতিপক্ষ সহজেই মাঠে এগিয়ে যেতে পারে। বিএনপির এখনও পর্যন্ত একক প্রার্থীকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হতে না পারাকে বিশ্লেষকরা বড় ধরনের কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী ডা. বারী প্রতিদিন ইউনিয়নভিত্তিক সফর, পথসভা, স্থানীয় বাজারে জনসংযোগ, তরুণ ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ একের পর এক কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। তাঁর উন্নয়নমুখী বক্তব্য, চিকিৎসা সেবার অভিজ্ঞতা এবং শান্ত-সৌম্য ব্যক্তিত্ব তাঁকে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলছে বলে জানা গেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাগমারার নির্বাচনী মাঠে বর্তমানে দুই রকম পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে একদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও নেতৃত্বসংকট; অন্যদিকে জামায়াতের ডা. বারীর সুসংগঠিত, পরিকল্পিত ও ধারাবাহিক প্রচারণা। এতে বিরোধীরা রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছে স্থানীয় মহল। বাগমারার সাধারণ ভোটারদের মতে, বিএনপি যদি দ্রুত দলীয় সংকট সমাধান করে নেতৃত্বের প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারে, তবে আসন্ন নির্বাচনে তাদের অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তারা মনে করেন, সময় যত গড়াচ্ছে, ততই প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিচ্ছেন যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
