|
পাথরঘাটায় রক্তাক্ত সংঘর্ষ: বিএনপি নেতাদের কুপিয়ে জখম, জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার
তামান্না জেনিফার, বরগুনা
|
![]() পাথরঘাটায় রক্তাক্ত সংঘর্ষ: বিএনপি নেতাদের কুপিয়ে জখম, জামায়াতের আমির গ্রেপ্তার শনিবার সকালে পাথরঘাটা পৌর শহরের ব্যস্ত ঈমান আলী সড়কে অবস্থিত তার নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ বলছে, বিএনপি নেতাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বজলুর রহমান এজাহারভুক্ত আসামি। এই ঘটনার পর পুরো পাথরঘাটা উপজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিএনপি, জামায়াত ও তাদের অঙ্গসংগঠনের অন্তত ১১ জন নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পাথরঘাটা পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা বজলুর রহমান (৫০), রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আবুল কালাম ওরফে গদি কালাম (৫৫), চরদুয়ানী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ওমর সানি (৩০), এছাড়াও হৃদয় মোল্লা (১৯), ইমরান (১৮), এমদাদুল হক (৩০), মো. মুন্না (২৪), মো. নাসির চৌধুরী (৪৭), মো. আব্দুর রহমান (৩৫), তোহা ইব্রাহিম (২৪), মো. মোস্তফা হাং (৫৩) ও মো. নাসির শেখ (২৫)। জামায়াতের পক্ষ থেকে বরগুনা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শামীম হাসান অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রকৃত আসামিদের না ধরে নিরপরাধ জামায়াত নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে। দুই পক্ষকে ‘ব্যালেন্স’ করার নামে আমাদের আমিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ ফারুক বলেন, রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষ ও সন্দেহভাজন হিসেবে আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা আটকদের দ্রুত মুক্তি দাবি করছি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বরগুনা-২ আসনে নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াত ও বিএনপি সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার, এলাকা দখল ও রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ চলছিল। এসব সংঘর্ষে ধারালো অস্ত্রের ব্যবহার, কুপিয়ে জখম, পাল্টা হামলা ও প্রকাশ্য হুমকির অভিযোগ ওঠে। সর্বশেষ হামলার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। পাথরঘাটা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার অভিযান কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নয়, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনতেই পরিচালিত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” বরগুনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, নির্বাচন ঘিরে কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে জন্য যৌথবাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক সহিংসতায় সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
