ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২৬ ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
কনস্টেবল হুমায়ুন হত্যার নেপথ্যে স্ত্রীর পরকীয়া আর পাওনা টাকা: অভিযোগপত্র
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Friday, 10 July, 2026, 10:16 PM

উপরে বাঁ থেকে সালমা, মরিয়ম ও পলি; নিচে রাব্বি, কায়েস ও রাফি

উপরে বাঁ থেকে সালমা, মরিয়ম ও পলি; নিচে রাব্বি, কায়েস ও রাফি

রাজধানীর দয়াগঞ্জে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কনস্টেবল হুমায়ুন কবীর হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক বছর পর আদালতে জমা দেওয়া অভিযোগপত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে পুলিশের দাবি, স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক এবং ১০ লাখ টাকার দেনা থেকে মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় হুমায়ুনকে। এ ঘটনায় ১১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ।

যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আওলাদ হুসাইন গত ২৬ মার্চ ঢাকার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। গত ১ জুলাই ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক অভিযোগপত্রটি আমলে নেন। আগামী ১৩ আগস্ট পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।

গত বছরের ২৮ এপ্রিল সকালে দয়াগঞ্জ বটতলা এলাকার একটি বাড়ির ফটকের সামনে থেকে হুমায়ুন কবীরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ডিএমপির পরিবহন বিভাগে জলকামানের চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহত কনস্টেবল হুমায়ুন কবীর

নিহত কনস্টেবল হুমায়ুন কবীর


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নিহতের স্ত্রী সালমা বেগমের সঙ্গে আত্মীয় রাজিব হোসেনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। একই সময়ে আত্মীয় মলি ওরফে মরিয়মের পরিবারও হুমায়ুনের কাছ থেকে নেওয়া ১০ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধে চাপের মুখে ছিল। তদন্তে পুলিশের দাবি, হুমায়ুনকে হত্যা করা হলে একদিকে পরকীয়া সম্পর্কে আর বাধা থাকবে না, অন্যদিকে ঋণের দায় থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে—এই উদ্দেশ্য থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নের জন্য পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি ঠিক করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, হুমায়ুন নিহত হওয়ার পর তার চাকরির প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা থেকে ওই অর্থ পরিশোধ করার কথা ছিল।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সালমা বেগম, তার কথিত প্রেমিক রাজিব হোসেন, মরিয়ম ওরফে মলি, পলি বেগম, কায়েস হাওলাদার, ফজলে রাব্বি শুভ, রাফি খান, আকাশ, আশিক, সজিব ও সাব্বির। বর্তমানে সালমা, পলি ও রাফি কারাগারে রয়েছেন। রাজিব, মলি, কায়েস ও শুভ জামিনে আছেন। বাকি চারজন এখনও পলাতক।

তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যার কয়েক দিন আগে সালমা ও পলি একটি ফার্মেসি থেকে ঘুমের ওষুধ সংগ্রহ করেন। ঘটনার রাতে খাবারের সঙ্গে সেই ওষুধ মিশিয়ে হুমায়ুনকে অচেতন করা হয়। গভীর রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ভাড়াটে খুনিরা বাসায় প্রবেশ করে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রথমে হুমায়ুনের হাত-পা বেঁধে ফেলা হয়, এরপর রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে মরদেহ বাসার নিচে ফেলে রেখে সবাই সরে যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আওলাদ হুসাইন বলেন, পরকীয়া, আর্থিক লেনদেনসহ একাধিক কারণকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তদন্তে ১১ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও চারজন এখনও পলাতক।

মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই খোকন হাওলাদার বলেন, "আমরা শুধু ন্যায়বিচার চাই। ভাইকে তো আর ফিরে পাব না। আদালতের কাছে প্রত্যাশা, অপরাধীরা যেন সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।"

বর্তমানে হুমায়ুন কবীরের ১৩ বছরের ছেলে ও সাত বছরের মেয়ে পটুয়াখালীর বাউফলে চাচার পরিবারে থেকে পড়াশোনা করছে। নিহতের ভাবি রোজিনা শিলা বলেন, "শিশু দুটির জীবনে বাবা-মায়ের শূন্যতা কখনও পূরণ হবে না। আমরা তাদের যত্ন নিচ্ছি, কিন্তু তারা যেন এই নির্মম হত্যার বিচার পায়—এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।"

অন্যদিকে, সালমা বেগমের আইনজীবী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, তার মক্কেলের জামিন শুনানির প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগের বিষয়ে তিনি পরে বক্তব্য দেবেন বলে জানান।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status