|
জুনে ভাটার টানের পরও বছরে রেকর্ড রেমিটেন্স
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() জুনে ভাটার টানের পরও বছরে রেকর্ড রেমিটেন্স ২০২৫-২৬ অর্থবছরের রেমিটেন্সের এই পরিমাণ গত অর্থবছরের চেয়ে ১৭ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮৮ লাখ ডলারের রেমিটেন্স দেশে এসেছিল। তবে গত কয়েক মাসে রেমিটেন্স প্রবাহে যে ইতিবাচক ধারা চলছিল, অর্থবছরের শেষ মাস জুনে এসে তাতে ভাটার টান দেখা দিয়েছে। জুন মাসে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা। এই অংক আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। আর গত বছরের জুনের চেয়ে দশমিক ৬০ শতাংশ কম। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ২৮২ কোটি ২৫ লাখ ডলার দেশে এসেছিল। গত বছরের নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এরপর ডিসেম্বর থেকে মে পর্যন্ত টানা ছয় মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স দেশে আসে। জুন মাসে সেই ধারায় ছেদ পড়ল। বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার রেমিটেন্সের মাসিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরের শেষ মাস জুনের প্রথমার্ধে রেমিটেন্স প্রবাহের গতি বেশ ভালোই ছিল। কিন্তু এরপর তা কমতে থাকে। শেষ দিকে এসে একেবারেই কমে যায়। শেষ পর্যন্ত জুন মাসের ৩০ দিনে দেশে এসেছে ২৮০ কোটি ৬০ লাখ ডলার; প্রতিদিন গড়ে এসেছে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। ৩০ জুন মঙ্গলবার ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষ হয়েছে। এই আর্থিক বছরজুড়েই অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক ভালো অবস্থায় ছিল। শেষ মাস জুনে এসে তা কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। গত মার্চ মাসে রেকর্ড ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ডলার দেশে এসেছিল। এরপর মে মাসে আসে ৩৪২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। মার্চে ছিল রোজার ঈদ। আর মে মাসে কোরবানির ঈদ হয়। উৎসব সামনে রেখে প্রবাসীরা বেশি টাকা পাঠানোয় রেমিটেন্সও বেশি আসে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, এবার দুই ঈদের পরও প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। কিন্তু জুনের শেষের দিকে এসে কিছুটা কমে গেছে। এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। রেমিটেন্সে প্রতি ডলারে এখন ১২৩ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। সে হিসাবে জুন মাসে ৩৪ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। প্রতিদিনে গড়ে এসেছে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার; বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হজার ১৫০ কোটি টাকা। দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর মধ্যে এখন রেমিটেন্সই সবচেয়ে ভালো অবস্থানে আছে, যা সঙ্কটে পড়া অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছে। আর এই রেমিটেন্সের উপর ভর করে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। মঙ্গলবার দিন শেষে বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস বা মোট হিসাবে ছিল ৩৭ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
