|
মাদক বিক্রির অভিযোগে দারাজের বিরুদ্ধে নারকোটিক্সের মামলা
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() মাদক বিক্রির অভিযোগে দারাজের বিরুদ্ধে নারকোটিক্সের মামলা সোমবার (১৭ আগস্ট) মামলায় দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে অভিযান চালিয়ে দারাজের পণ্য সরবরাহকারী আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করে নারকোটিক্স। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, দারাজের ওয়েবসাইটে ‘সিবিডি ওয়েল’ নামের একটি পণ্য বিক্রির তথ্য পেয়ে বিষয়টি নজরদারিতে আনে নারকোটিক্সের গোয়েন্দা শাখা। পরে সংস্থাটির সদস্যরা কয়েকটি পণ্য অর্ডার করেন। দারাজের ডেলিভারি কর্মীর মাধ্যমে পণ্য হাতে পাওয়ার পর নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় ওই ‘সিবিডি ওয়েল’-এ উচ্চমাত্রায় গাঁজার তরল উপাদান টিএইচসি (টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল) পাওয়ার দাবি করেছে নারকোটিক্স। এরপরই পণ্যটির উৎস অনুসন্ধানে অভিযান চালানো হয়। নারকোটিক্সের ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা অঞ্চলের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, বাড্ডার সাঁতারকুল এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিবিডি ওয়েল ও সংশ্লিষ্ট উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। সেখান থেকেই আনিসুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযানসংশ্লিষ্টদের দাবি, আনিসুর দীর্ঘদিন জাপানে অবস্থান করেছিলেন। সেখানে গাঁজার তরল উপাদান ব্যবহার করে তেল তৈরির কৌশল শেখেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পরে দেশে ফিরে সুগন্ধি সাবান তৈরির আড়ালে এই কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬-এর ‘ক’ ধারায় সাইবার স্পেস বা ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে মাদকদ্রব্য বা সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্ট্যান্সের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সরবরাহ, প্রচার বা লেনদেনকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড ও সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। নারকোটিক্সের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বলেছেন, মাদকের বিস্তার ঠেকাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দারাজের পাশাপাশি সন্দেহজনক অন্যান্য প্ল্যাটফর্মও নজরদারির আওতায় রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে নিষিদ্ধ বা মাদকজাত পণ্য কীভাবে তালিকাভুক্ত ও বিক্রির সুযোগ পেল? সংশ্লিষ্টদের দায়-দায়িত্ব নির্ধারণে তদন্ত কতদূর যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। দারাজ বাংলাদেশ জানিয়েছে, পণ্যের নিরাপত্তা, প্রচলিত আইন মেনে চলা এবং গ্রাহকের আস্থা প্রতিষ্ঠানটির সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নীতিমালা বা আইনবহির্ভূত কোনো পণ্য প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হলে তা প্রতিরোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মৌখিক অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পণ্যটি তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বিক্রেতার বিরুদ্ধে নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অনুরূপ পণ্য শনাক্ত ও অপসারণে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো পণ্য নিয়ে সন্দেহ বা আপত্তি থাকলে দারাজকে জানানোর জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ করা হয়েছে। প্রতিটি অভিযোগ পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ কেনাকাটার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে দারাজ।
|
| « পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ » |
