ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৮ জুলাই ২০২৬ ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
উত্তপ্ত ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, কে হবে নতুন ডন
*মিরপুরে ভয়ংকর ফোর স্টার বাহিনী * অধিপত্য বিস্তারে ব্যস্ত ছোট ছোট উপ-গ্রুপ *রাজধানী জুড়ে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নীরব চাঁদাবাজি চলছে
বিপ্লব বিশ্বাস
প্রকাশ: Tuesday, 28 July, 2026, 1:59 PM

উত্তপ্ত ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, কে হবে নতুন ডন

উত্তপ্ত ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড, কে হবে নতুন ডন

রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নিয়ন্ত্রণ পেতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড। শুধু ডনদের পরিবর্তন হয়েছে, বাকি সব ঠিকই আছে। আধিপত্য নিতে রক্ত ঝরিয়ে মহড়া দিচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গ্রুপ। পালি বিদেশে থেকেও কেউ কেউ ঢাকাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। আগে যেখানে যোসেফ-হারিছ-মানিক-জিসানরা নিয়ন্ত্রণ করত, এখন সেখানে পিচ্চি হেলাল-ইমন-মুরাদসহ অনেকের নাম যুক্ত হয়েছে। 

চাঁদাবাজি, ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত-লেগুনা ও বাস টার্মিনালের তোলাবাজি ঠিকই চলছে। কোথাও কোথাও এতদিন যারা আওয়ামী লীগের হয়ে নানা অপকর্ম করত, এখন শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় অন্য কোনো দলের নাম জুড়ে দিচ্ছে। বিনা ভোটের কাউন্সিলরদের জায়গা দখল করেছে অন্য কোনো দলের স্থানীয় পাতি নেতারা। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্ডারওয়ার্ল্ডের যেসব ডন জামিনে ছাড়া পেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেই বেশিরভাগ অভিযোগ আছে। 

এদিকে অপরাধ জগতের ডনরা নিজেদের আধিপত্য জিইয়ে রাখতে অবৈধ অস্ত্র-গুলির জোগান দিয়ে নতুন বাহিনী গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। দলের নতুন সদস্যদের দিয়ে অবাধ্য পুরোনো সহযোগীদের ক্ষমতা কেড়ে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। নয়া এ মেরুকরণে আন্ডারওয়ার্ল্ড উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় অস্ত্রবাজি ও খুনোখুনি ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলার ভয়াবহ অবনতি ঘটায় সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। 

বিগত সরকারের আমলে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করত সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজের দুই ভাই হারিছ ও যোসেফ। ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করে যারা যা কিছু উপার্জন করত, তার ফিফটিন পার্সেন্ট ঘরে বসেই নিয়ে নিত যোসেফ-হারিছ। এমনকি রাজনৈতিক যেসব সন্ত্রাসী ছিল, তাদের কাছ থেকেও ভাগ নিত এ দুই ভাই। আওয়ামী লীগের পতনের পর যোসেফ-হারিছসহ অনেক ডনই এখন লাপাত্তা। তবে সেই স্থানটি দখল করে নিয়েছে ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া অনেক সন্ত্রাসী।

গত ৫ আগস্টের পর আন্ডারওয়ার্ল্ডের বেশ কজন সন্ত্রাসী জেল থেকে মুক্তি পায়। এর মধ্যে একজন হলো মোহাম্মদপুরের পিচ্চি হেলাল। পিচ্চি হেলাল এখন আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। ধানমন্ডি-মোহাম্মদপুরসহ ঢাকার পশ্চিমের এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে পিচ্চি হেলাল বাহিনী হাত দেয়নি। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য ছেড়ে পালিয়েছে। ওসবের প্রতিটি এখন পিচ্চি হেলালের কব্জায়।  জেল থেকে বের হওয়ার পরই বেশ কয়েকটি খুনের সঙ্গে নাম জড়িয়ে পড়ে এই পিচ্চি হেলালের। গত তিন মাসে অন্তত দুই ডজন ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা দাবি করেছে বিদেশে অবস্থান করা এই সন্ত্রাসী কখনো নিজে ফোন করে, আবার কখনো সহযোগীদের পাঠিয়ে চাঁদা দেওয়ার তাগাদা দিচ্ছে; দিচ্ছে হত্যার হুমকি, ফলে আতঙ্কে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

১৬ আগস্ট রাতে কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার-৪ থেকে জামিনে মুক্তি পায় শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার অন্যতম ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল। এছাড়াও ‘কিলার আব্বাস’ হিসেবে পরিচিত মিরপুরের আব্বাস আলী, তেজগাঁওয়ের শেখ মোহাম্মদ আসলাম ওরফে সুইডেন আসলাম, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন ও খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসুও কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছে। রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গত এক মাসে সন্ত্রাসীদের পৃথক ছয়টি গ্রুপ চাঁদা দাবি করে আসছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ও মিরপুর এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান মামুনের পরিচয় দিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে ২০ লাখ টাকা করে চাঁদা দাবি করা হয়।
পল্লবী থানা বিএনপির ৯১ নম্বর  ওয়ার্ড (সাংগঠনিক ওয়ার্ড) কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন এখন মিরপুর এলাকার আতঙ্ক। বিদেশি একটি নম্বর থেকে ব্যবসায়ীদের নিজে ফোন করে চাঁদা দাবি করে সে। আবার কারো কারো কাছে সহযোগীদের পাঠিয়ে চাঁদা দেওয়ার তাগাদা দিচ্ছে। মিরপুর এলাকায় তার কয়েক ডজন সহযোগী রয়েছে। চাঁদার টাকা তুলে তারাই মামুনের কাছে পাঠায়।

২০২০ সালে পল্লবী এলাকার বিএনপির দুই রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার জন্য ভাড়ায় খাটছিল গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও মোশাররফ হোসেন। তাদের প্রত্যেকেই মামুন-জামিলের অন্যতম ক্যাডার। রিমান্ডে তারা জানিয়েছিল, প্রাণ বাঁচাতে ব্যবসায়ী, বাডি়র মালিক, কাউন্সিলর, এমনকি মাদক কারবারিরাও তার লোকদের হাতে চাঁদা তুলে দিত। অন্যথায় টার্গেট ব্যক্তিকে খুন করে ফেলত মামুন।

১৯৯৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মামুনের বিরুদ্ধে পল্লবী ও মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে ২৭টি মামলা হয়। 

 ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি পল্লবীর বাইতুন নুর জামে মসজিদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, আটক ব্যক্তি শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন মর্মে জানা যায়। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, খুন, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে পল্লবী থানায় ২৭টি মামলা, ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও দুটি সাজা পরোয়ানার তথ্য পাওয়া যায়।

কাইল্যা খোকন সবুজবাগ-বাসাবো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। ফিনল্যান্ড থেকে ১০ আগস্ট কাইল্যা খোকন দেশে আসে। এরপর থেকে পুরো এলাকায় তাণ্ডব শুরু করে। খিলগাঁও, পল্লীমা সংসদ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে মাদক সম্রাট মকবুল। কদিন আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি টিম ওই এলাকায় অভিযান চালালেও মকবুলকে গ্রেপ্তার করতে পারেন। রাজধানীর মগবাজার থেকে শাহজাহানপুর বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে মুরাদ। ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্তি পেয়ে জেল থেকে বের হয়েই এই মুরাদ তার বাহিনীকে সংঘবদ্ধ করে বেপরোয়াভাবে মাঠে নেমেছে। শেল্টার নিয়েছে সাবেক এক কাউন্সিলরের।

সাবেক ওই কাউন্সিলর দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে সম্প্রতি ঢাকায় এসেছে। মুরাদ জেল থেকে বের হয়েই কয়েকজন ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের চাঁদা হাতিয়ে নিয়েছে।  মতিঝিল এলাকার নিয়ন্ত্রণ যুবলীগের হাত থেকে সাবেক এক কাউন্সিলরের হাতে গেছে।  তবে যুবলীগ নেতারা চাঁদার একটি ভাগ নিয়মিত পাচ্ছে। মিল্কী হত্যার আসামি ওই যুবলীগ নেতারা এখনো বহালতবিয়তেই রয়েছে। 

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে আমাদের দুই ধরনের পুলিশিং ব্যবস্থা চলমান। আমরা গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছি। এ ব্যাপারে নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত। সেখানে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তথ্য যাচাইয়ের পর দ্রুতই অ্যাকশনে যাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর জামিন পাওয়া সন্ত্রাসীদের অনেকেই দেশের বাইরে পালিয়ে গেছে। তাদের কেউ কেউ এরই মধ্যে দেশে ফিরেছে। অনেকেই চেষ্টা চালাচ্ছে দেশে ফেরার। কেউ কেউ কারাগারে বসেই নির্দেশনা দিচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল করার। জামিনে বেরিয়ে এসে যারা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছিল তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— কিলার আব্বাস, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন ও খোরশেদ আলম ওরফে রাসু ওরফে ফ্রিডম রাসু। এর মধ্যে টিটনকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রায়েরবাজারে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নাম উঠে এসেছে পিচ্চি হেলালের। মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, এলিফ্যান্ট রোডসহ আশপাশের এলাকার অপরাধজগতে পিচ্চি হেলালের অন্যতম প্রতিদ্বনদ্বী ইমন। এলিফ্যান্ট রোডের বিপণিবিতান মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে ব্যবসায়ী এহতেশামুল হককে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় ইমনের লোকজন জড়িত বলে জানা গেছে। জামিন পওয়ার পর ইমন থাইল্যান্ড চলে গেলেও তার অপতৎপরতা থেমে নেই। আহত ব্যবসায়ী পিচ্চি হেলালের পরিচিত বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে ও বছিলা পশুরহাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে ইমনের স্ত্রীর বড় ভাই টিটনকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র মতে,  সম্প্রতি ঢাকায় অন্তত ১৬টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। গত জানুয়ারি থেকে মার্চ— এই তিন মাসে রাজধানী ঢাকায় ১০৭টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মার্চে ৩৩টি হত্যাকাণ্ড হয়। এ ছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ৩৮ ও জানুয়ারিতে খুনের ঘটনা ঘটে ৩৬টি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সারা দেশে ৮৫৪টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ২৮৭টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। আর ফেরুয়ারিতে ২৫০ ও মার্চে খুন হয় ৩১৭টি।

জানা গেছে, এলাকাভিত্তিক শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছে আবার গ্রুপ-উপগ্রুপ।এ নিয়েও রয়েছে অস্থিরতা। সানজিদুল ইসলাম ইমন, সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ ও ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির খবর বারবার সামনে আসছে। এরপর চলতি বছরের মাঝামাঝিতে কুষ্টিয়া থেকে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। নজরদারি রাখা হয় আরও কয়েকজনকে। বিষয়টি টের পেয়ে দেশ ছাড়েন পিচ্চি হেলাল।যদিও এর আগেই তাকে দুই দফা হত্যাচেষ্টা চালায় ইমন গ্রুপের সদস্যরা। 

সূত্র মতে, একদিকে জেল থেকে বের হয়ে অথবা দেশে ফিরেই এলাকায় একক রাজত্ব করতে চাচ্ছেন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। অপরদিকে এক সময়ে এসব সন্ত্রাসীর নির্দেশে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে এসেছেন তারাও এলাকার কর্তৃত্ব ছাড়তে নারাজ। কারণ দখল, চাঁদাবাজি, খুনোখুনি, ভাড়ায় খাটা, আধিপত্যের লড়াইসহ নানা অপকর্মের মাঠ পর্যায়ের নিয়ন্ত্রক তারাই। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে দলছুট ক্যাডারদের কাছে টেনে নিচ্ছেন ৫ আগস্টের পর মুক্তি পাওয়া ও দেশে ফিরে আসা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা, চাঁদার ভাগ বাড়ানো ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়াসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র হাতে তুলে দেওয়ারও প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এরই মাঝে মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী মামুন, ইব্রাহিম, শাহাদাত ও মুক্তার মিলে গড়ে তুলেছে ভয়ংকর ‘ফোর স্টার গ্রুপ’। এই সন্ত্রাসী গ্রুপটির গডফাদাররা বিদেশে থাকলেও দেশে নির্বিঘনে চলছে তাদের অপরাধ সাম্রাজ্য। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তাদের হয়ে দেশে মাটিতে কাজ করছে প্রায় ১০০ স্থানীয় সন্ত্রাসী।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর এখন পর্যন্ত শুধু মিরপুর জোনে হত্যার শিকার হয়েছে অন্তত ৫৭ জন। এর মধ্যে শুধু পল্লবীতেই খুন হয়েছে ১৫ জন। এসব হত্যাকাণ্ডের পেছনে ফোর স্টার গ্রুপের নাম আসছে তদন্তে। সূত্র মতে, ফোর স্টার গ্রুপের মামুনের নিয়ন্ত্রণে মিরপুর ১২, পল্লবী, বাউনিয়া ও সাগুফতা, ইব্রাহিমের নিয়ন্ত্রণে মিরপুর ১৩, ১৪, ভাসানটেক ও কালশী, শাহাদাতের নিয়ন্ত্রণে মিরপুর ১, ২, ৬ ও ৭, সর্বশেষ মুক্তারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে মিরপর ১০ ও ১১। এসব এলাকার চাঁদাবাজি, মাদক কারবার থেকে শুরু করে হেন কোনো অপকর্ম নেই যা তারা করছে না। যদিও এসব নিয়ে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চায় না।

 জানা গেছে, মামুন বাহিনীর হয়ে দেশের মাটিতে তার অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে তারই বড় ভাই জামিল, ছোট ভাই মশিউর, রফিকুল, শহিদুল, নাটা আলমগীর, কালা মোতালেব, দেলোয়ার হোসেন রুবেল, রাজন, সানি, ভাগ্নে মামুন, সোহেল, কায়েস। কিলার ইব্রাহিমের হয়ে কাজ করছে— যুবরাজ, সাবু, শাকিল, ভাগ্নে সোহেল, কালা ইব্রাহিম, জনি। শাহাদাতের হয়ে টিপু সুমন, ফিটিং শিশির, বিহারি নিলা, প্রচার সাইফুল, পিচ্চি আলামিন, শামিম। মুক্তারের হয়ে তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে— হাড্ডি সোহাগ, নওশাদ, আশিক, ডাসা শরিফ, এলেক্স জুয়েল, শুটার জাকির, তপু, আমিন, রকি, ছোট রাকিব, শাহাপরান, মিঠু, আতিকসহ আরও অনেকে।

সূত্র মতে, তালিকাভুক্ত পলাতক অপরাধী রবিন রাজধানীর বাড্ডায় চাঁদাবাজদের একটি চক্র নিয়ন্ত্রণ করেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মেহেদী নামে অপর এক সন্ত্রাসীও সক্রিয় রয়েছে। তার ক্যাডারাই গুলশান থানা বিএনপি নেতা সাধনকে খুন করে। এই মেহেদীর ছদ্মনাম কলিন্স। তার ক্যাডাররা স্থানীয় ব্যবসা ও নির্মাণ সাইট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা ওঠায়। পুলিশ জানায়, মেহেদী ও রবিন ভাটারাতেও গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করে। বিদেশ থেকে স্থানীয় গ্যাং নিয়ন্ত্রণকারী তালিকাভুক্ত অন্য অপরাধীরা হলেন জিসান আহমেদ, ডালিম মাহবুব ও চঞ্চল। এই চক্রের কিছু সদস্য আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড ও থানা পর্যাযে়র নেতা। 

সম্প্রতি কারওয়ান বাজার এলাকায় ¯সেচ্ছাসেবক নেতা মোছাব্বির খুনে নাম আসে বিদেশে পলাতক দীলিপ ওরফে দাদা দীলিপের। এর আগে তার নাম শোনা না গেলেও বিদেশে পলাতক অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের হয়ে তিনি কারওয়ান বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে। কারাগারে বসেই মগবাজারের কিছু এলাকা এখনও নিয়ন্ত্রণ করছে সুব্রত বাইন, তার মেয়ে খাদিজা ও সুব্রত বাইনের সেকেন্ড ইন কমান্ড মোল্লা মাসুদ। তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকা দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের ক্যাডাররা। যদিও মালিবাগ, রামপুরা, খিলগাঁও, পল্টন ও মতিঝিল এলাকায় একক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে জিসানের। নতুন করে মগবাজারের নিয়ন্ত্রণ নিতে গিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন সুব্রত বাইন ও জিসান। এ নিয়ে মগবাজারের মধুবাগে খুনের ঘটনাও ঘটেছে। সেই মামলায় বাইনের মেয়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status