কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গাধর, সঙ্কোষসহ বিভিন্ন নদ-নদীর অববাহিকায় জেগে ওঠা চারাঞ্চলগুলো এখন বিস্তির্ণ সবুজের মাঠ। বন্যায় পলি জমে ডাল চাষের উপযোগী হয়েছে চরের জমিগুলো। দিগন্তজোড়া এই মাঠ জুরে মাসকলাই, খেসারী, মসুর, সুলটিসহ নানা জাতের ডাল চাষে স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা।
এবার ডাল ক্ষেতে পোকার আক্রমণ কম থাকায় ডালের দানাও হয়েছে ভালো। কিছু এলাকায় শুরু হয়েছে ডাল উত্তোলনের কাজও। অল্প পরিচর্যা আর কম খরচে অধিক লাভ হওয়ায় খুশি চাষিরা। উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের আয়নালের ঘাটপাড়, ফান্দের চর, কচাকাটার শৌলমারী এলাকায় গিয়ে বালুময় বিস্তির্ণ মাঠজুড়ে দেখা গেছে মাসকলাইয়ের সবুজ সমারহ। সবুজের আল্পনায় প্রকৃতি পেয়েছে এক নতুন প্রতিচ্ছবি। আর এই প্রকৃতি উপভোগ করতে এসেছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। কৃষিজমির এই বাঙালিয়ানায় ছবি তুলে রেখে দিচ্ছেন স্মৃতির পাতায়।
কৃষকরা বলছেন প্রতিবছর বন্যা পরবর্তী সময়ে পলি জমে এসব চরের জমিতে। আরএই পুলিযুক্ত মাটিতে অন্যান্য ফসল খুব একটা না হওয়ায় মাসকলাই চাষ করেছেন তারা। অল্প পরিচর্জা আর কম খরচে অধিক লাভের আশাও করছেন তারা। পূর্ব সাপখাওয়া এলাকার কৃষক মাহাতব আলী ফটকু জানান, এ বছর তিনি দুধকুমার নদের অববাহিকায় ফান্দের চরে প্রায় ৩ বিঘা জমিতে মসকলাই চাষ করেছেন। হালচাষ, কীটনাশক ও সার প্রয়োগ ও কৃষি শ্রমিকসহ সবমিলে খরচ হয়েছে প্রায় প্রায় ১১ হাজার টাকা। তবে ৩ বিঘা জমিতে তিনি ৮মণের উপর কালাই পেয়েছেন।
মণ প্রতি বিক্রি করছেন ৪ হাজার ৪০০ টাকা করে। এতে করে খরচ বাদেই দ্বিগুণ লাভবান হয়েছেন তিনি। এছাড়াও ওই চরে কৃষক হারুন উর রশিদ চাষ করেছেন দেড় বিঘা, বাবু মিয়া ২ বিঘা এবং রিয়াজুল ইসলাম ইদুল নামের আরেক কৃষক করেছেন প্রায় বিঘা জমিতে। তবে কৃষক রিয়াজুল ইসলাম ইদুল জানায়, মাসকলাই খেতে সঠিক সেচ ব্যবস্থা না থাকায় খেতের কিছু কিছু অংশে পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে গেছে।
এরপরও অধিক লাভ আসবে বলেও ধারণা করছেন তিনি। কচাকাটার শৌলমারীর চরের কৃষক শামসুল আলম জানান, বন্যা পরবতী সময়ে তার প্রায় দুই বিঘা জমি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো। জমিতে পলি জমে ধান চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আর ধান লাগানোর সময়ও ছিলো না। তাই এই জমিতে মাসকলাই চাষ করেছেন তিনি। সেচ, সারসহ অন্যান্য খরচ তেমন নেই বললেই চলে। ফলনও ভালো হয়েছে। ন্যায্য দাম পেলে অধিক লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি। অপরদিকে মাসকলাই তুলে ওই জমিতে বোরো আবাদ করবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন জানান, এ বছর চরের জমিগুলোতে মাসকলাই ২৩৫ হেক্টর, মুগডাল ৫২ হেক্টর, মশুর ডাল ১৯৭ হেক্টর, খেসারী ১৭৫ হেক্টর, ছোলা ৬ হেক্টর, মটর ৩ হেক্টর এবং ১০ হেক্টর জমিতে অরহর ডালের চাষ হয়েছে। এদিকে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় নদীবেষ্টিত চর এলাকার ৪২৫ জন কৃষককে ডালজাতীয় বীজ ও সার প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন চরাঞ্চলের বেলে দো-আঁশ মাটি ডাল চাষের উপযোগী আর ডাল শস্য চাষে শ্রম ও উৎপাদন খরচের থেকে দ্বিগুণ লাভ হওয়ায় এই শস্য চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের। তাই ডাল শস্যের ফলন ভালো করতে কৃষকদেরকে পরামর্শসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে।