গাজীপুর মহানগরীতে সুদের পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন এক নারী ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তার ছেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত চারজন পলাতক থাকায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার আওতাধীন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কলমেশ্বর এলাকার দুলাল মার্কেটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম রানু বেগম ওরফে রানী (৪৫)। তিনি স্থানীয় ‘রানী ফ্যাশন গ্যালারি’ নামের একটি নারী পোশাকের দোকানের মালিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রানী দীর্ঘদিন ধরে কাপড় ব্যবসার পাশাপাশি এলাকায় সুদের ভিত্তিতে টাকা লেনদেন করতেন। একই এলাকার মুদি দোকানদার নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে আশিকের কাছে পাওনা টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে শনিবার সকালে তাদের মধ্যে কথা- কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নজরুলের ছেলে আশিক ধারালো ছুরি দিয়ে রানীর বুকে আঘাত করে।
মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে রানীর ছেলে হৃদয় (২২)কেও ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করা হয়। এতে মা-ছেলে দুজনই গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দুপুর ১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রানীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হৃদয় বর্তমানে ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্ত আশিক গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তবে এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর বলেন, “আমরা কোনো অপরাধী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দিই না। আশিক যদি দোষী হয়ে থাকে, তাহলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। বর্তমানে সে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে যুক্ত নয়।”
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— নজরুল, আশিক, রনি ও আশিকের পিতা। সবাই একই এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই চার অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন।
নিহতের ছেলে হৃদয় বাদী হয়ে গাছা মেট্রো থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান লিটন জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
এদিকে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”