রাঙ্গাবালীতে বক্স কালভার্ট নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী
মো. বাচ্চু, রাঙ্গাবালী
প্রকাশ: Sunday, 1 February, 2026, 2:12 PM
রাঙ্গাবালীতে বক্স কালভার্ট নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি বক্স কালভার্ট (সেতু) নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নকশা বহির্ভূত কাজের প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের সেনের হাওলা ও গঙ্গিপাড়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হলুদিয়া খালের ওপর একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অধীনে ৪০ লাখ ৫০ হাজার ৭১১ টাকা ৬৫ পয়সা ব্যয়ে বক্স কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। বর্ষার অজুহাতে মাঝপথে কাজ বন্ধ থাকার পর পুনরায় কাজ শুরু হলে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত মানের পরিবর্তে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট দেওয়া হচ্ছে এবং ঢালাইয়ের ভেতরে মাটি ফেলে তার ওপর কংক্রিট ঢালা হয়েছে। এমনকি লবণ পানি ব্যবহার করেও নির্মাণকাজ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
এলাকাবাসী জানান, তাদের চোখের সামনেই লবণ পানি ও নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। তাদের আরও অভিযোগ, রডে সামান্য টান দিলেই তা উঠে যাচ্ছে এবং হাত দিয়ে ধরলে পাথর খুলে পড়ছে। লবণ পানি দিয়ে প্লাস্টার করায় পুরো কাঠামো দুর্বল ও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।
রাঙ্গাবালীতে বক্স কালভার্ট নির্মাণে ভয়াবহ অনিয়ম প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে দিল এলাকাবাসী
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরাও। তারা প্রথমে স্থানীয়দের কাজ চালু রাখতে অনুরোধ করলেও পরে নিজেরাই কাজ বন্ধ করে দেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জানায়, প্রকল্পটি তারা সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্য একজনকে দিয়েছেন। তবে চূড়ান্ত দায় মূল ঠিকাদারের ওপরই বর্তায় বলে স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা। তারা জানান, সাব-কন্ট্রাক্টর অতিরিক্ত অর্থ নিলেও কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করেননি।
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করেন এবং নিজে না এসে তার অফিসের একজন স্টাফকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে পাঠান। অপর প্রান্ত থেকে তিনি জানান, সেতু নির্মাণকাজটি প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে কথা বলবেন বলে জানান। পরবর্তীতে তিনি ঘটনাস্থলে এসে স্থাপিত বেইজ ভেঙে পুনঃস্থাপনের ব্যবস্থা নেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, “রাঙ্গাবালীর হলুদিয়া খালের ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজের ত্রুটির বিষয়ে আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেনের হাওলা ও গঙ্গিপাড়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে হাটবাজারে যাতায়াতের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেতু নির্মাণকাজ মানসম্মতভাবে পুনরায় শুরু করার জোর দাবি জানিয়েছেন।###