|
‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দিতে সাঁতারে ২ নারীসহ ৩৫ জন
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ‘বাংলা চ্যানেল’ পাড়ি দিতে সাঁতারে ২ নারীসহ ৩৫ জন টেকনাফ শাহ পরীর দ্বীপ থেকে সেন্ট মার্টিন নৌপথে স্রোতোধারাটির নাম ‘বাংলা চ্যানেল’। এই চ্যানেলের দূরত্ব ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার। সাঁতার শেষ হবে সেন্ট মার্টিন দ্বীপের উত্তর সৈকতে। এবার ১৯তম বারের মত এই আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে শাহ পরীর দ্বীপ পশ্চিম সমুদ্র সৈকত থেকে সাঁতার শুরু হয়। সাঁতার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলাউদ্দীন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এবার ‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতারে অংশ নিচ্ছেন ঢাকসুর সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল। এর আগে তিনি একবার ‘ডাবল ক্রস’ ছাড়াও ছয়বার চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন। সবশেষ ২০২৩ সালে তিনি ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে চ্যানেল পাড়ি দিয়ে প্রথম হয়েছিলেন। সপ্তমবার চ্যানেল জয়ের উদ্দেশে এসে সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, “এর আগে ছয়বার ‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতরে পাড়ি দিয়েছি। ২০২১ সালে ডাবল পাড়ি দিয়েছি। আজ সাগর অনেকটা প্রতিকূল সত্ত্বেও আবারও প্রথম হওয়ার চেষ্টা করব।” ‘কিং অব বাংলা চ্যানেল’ খ্যাত ২০ বার চ্যানেল পাড়ি দেওয়া সাঁতারু এবং ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার বলেন, এবার দুইজন নারীসহ ৩৫ জন সাঁতারু অংশ নিয়েছেন। এই সাঁতার আন্তর্জাতিক রীতি মেনে পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক সাঁতারুর জন্য বোট ও উদ্ধারকর্মী রয়েছে। এবারের আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ঢাকা ব্যাংক পিএলসি ও ডাইনামিক ডেন্টিস্ট্রি। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে ভিসাথিং, স্টুডিও ঢাকা এবং সরকার এগ্রো। সাঁতারুরা জানান, প্রথমবার ‘বাংলা চ্যানেল’ অভিযান পরিকল্পনার নায়ক স্কুবা ডাইভার ও চিত্রগ্রাহক মরহুম কাজী হামিদুল হক। তার পরিকল্পনায় ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারি লিপটন সরকার, ফজলুল কবির সিনা ও সালমান সাঈদ প্রথম চ্যানেল পাড়ি দেন। লিপটন সরকার এ পর্যন্ত ১৬ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডের সাঁতারু ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী ভ্যান গুল মিলকো এ চ্যানেল পাড়ি দেন। সে বছর থেকে ‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতারের নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল ওপেন ওয়াটার লং ডিসটেন্স সুইমিং’ তালিকাভুক্ত হয়। পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে এবং মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্ব আরোপ করতে এ সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চারকে উৎসাহিত করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এই চ্যানেলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো বেশি পরিচয় করার লক্ষ্যে গত ১৯ বছর ধরে এই আয়োজন করা হচ্ছে। সাঁতারে অংশ নেন দুই নারী হচ্ছেন- ঢাকা ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আক্তার এবং চ্যানেল পাড়ি দেওয়া প্রথম নারী এম এস টি সোহাগী আক্তার। অন্য সাঁতারু মধ্যে রয়েছেন- মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ সামসুজ্জামান আরাফাত, সাইফুল ইসলাম রাসেল, ফেরদৌস আলম, আব্দুল্লাহ আল রোমান, মাহাদী হাসান সায়েম, এস এম শাহরিয়ার মাহমুদ, এম ডি রাশেদুজ্জামান, জয়তু দাস, ফজলে রাব্বী চৌধুরী, আতিকুল ইসলাম, ইশাক মুন, আব্দুল মতিন, নাদিম মাহমুদ, ফয়সাল আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম, জাহেদুল ইসলাম, ইমতিয়াজ-বিন-ফারুক ভূঁইয়া, এনামুল হক, রাতুল রেমা, শাখাওত হোসেন সাকিব, তৌফেকুজ্জামান, সোয়েব শাহনাওয়াজ, আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রানা, খন্দকার শওকত ওসমান, হাফিজুর রহমান, তারেক হাসান, আবু রাজিন মণ্ডল, বদর উদ্দিন, আতাউর রহমান। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
