ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১ জুলাই ২০২৬ ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
পুলিশের ভেতরে দুর্নীতির চিত্র কতটা ভয়াবহ?
বিবিসি বাংলা
প্রকাশ: Tuesday, 1 October, 2019, 3:46 PM

পুলিশের ভেতরে দুর্নীতির চিত্র কতটা ভয়াবহ?

পুলিশের ভেতরে দুর্নীতির চিত্র কতটা ভয়াবহ?

বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর কোন কোন অংশের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি’র অভিযোগ বেশ পুরনো হলেও সাম্প্রতিক ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের পর এ নিয়ে নতুন করে জোরোলো আলোচনা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, পুলিশের কারো কারো দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা শুধু অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যের সঙ্গেই নয়, বরং এর বিস্তৃতি আরো ব্যাপক।

কিন্তু একটি প্রশিক্ষিত বাহিনী ও সেবা সংস্থা হিসেবে পুলিশের ভেতরে দুর্নীতির চিত্র আসলে কেমন? আর দুর্নীতির বিস্তারই বা ঘটছে কিভাবে?

দীর্ঘদিন ধরেই জনশক্তি রফতানি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ফরিদ আহমেদ (ছদ্মনাম)।

ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল।

তবে কয়েকবছর আগে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থার একটি দল এসে যখন তার কাছে বিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে তখন মি. আহমেদ বেশ অবাক হয়েছিলেন, ভয়ও পেয়েছিলেন। তিনি বলেন,

“ওরা সাদা পোষাকে হঠাৎ করেই আমার অফিসে আসলো। অফিসে ঢোকার পর ইউনিফর্ম পরে নিলো। সবার মোবাইল, সিসি ক্যামেরা অফ করে দিলো। এরপর শুরু হলো পুরো অফিস তন্নতন্ন করে খোঁজা। আমাকে বলা হচ্ছিল, আমি নাকি সাগরপথে মালয়েশিয়ায় লোক পাচার করি। আমি অস্বীকার করলাম। বললাম প্রমাণ দেন।”

মি. আহমেদ বলেন, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা অপরাধের কোন প্রমাণ দিতে পারেন নি।

কিন্তু তাকে কিছু পাসপোর্টসহ আটক করে তাদের একটি অফিসে নেয়। এরপরই মানবপাচারকারী হিসেবে মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিশ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় তার কাছে।

“আমাকে বলা হল, যদি টাকা দেন তাহলে পাসপোর্টের ছোট্ট একটা মামলা দিয়ে চালান করে দেয়া হবে। আর টাকা না পেলে আমার নামে মানবপাচারকারী হিসেবে মামলা দেবে। মিডিয়া আসবে, আমার ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাবে।”

“আমি তখন প্রচণ্ড ভয়ে ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ১২ লাখ টাকায় রফা হয়। ছোট্ট একটা মামলা দেয়া হয়। যেটায় পরদিন আমি কোর্ট থেকে জামিন পাই।”

ফরিদ আহমেদের যে অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে তা নতুন নয়।

এর আগেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোন কোন অংশের বিরুদ্ধে এভাবে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, ঘুষ নিয়ে অনৈতিক সুবিধা দেয়া, অবৈধভাবে টাকা লেনদেনের মতো দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।

সম্প্রতি ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের পর পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই আলোচনা ব্যাপক মাত্রা পেয়েছে।

পুলিশে দুর্নীতির চিত্র কেমন?
বাংলাদেশে সরকারি সংস্থাগুলোর সেবাখাতে দুর্নীতি নিয়ে ২০১৭ সালে একটি জাতীয় ‘খানা’ জরিপ করে দুর্নীতি বিরোধী আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল টিআইবি।

খানা বলতে সাধারনত: এক চুলায় খাওয়া-দাওয়া করেন এমন পরিবার বোঝায়।

সেই জরিপে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে দুর্নীতিতে শীর্ষে স্থান পায় পুলিশ।

দেখা যায়, পুলিশের কাছে সেবা নিতে গিয়ে ৭২.৫ শতাংশ খানা দুর্নীতি-অনিয়মের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। বছরে টাকার অংকে যা দুই হাজার ১শ কোটি টাকারও বেশি।

পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গ্রেফতার, ট্রাফিক সংক্রান্ত বিষয়, পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশন, মামলা দায়ের, চার্জশীট এমনকি জিডি করতে গিয়েও ৭০ শতাংশেরও বেশি মানুষ খানা দুর্নীতির শিকার হয়েছেন।

জরিপে দেখা যায়, সবেচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয় চার্জশীট সংক্রান্ত বিষয়ে। টাকার অংকে যা গড়ে ২১ হাজার টাকারও বেশি।

হাইওয়ে পুলিশ, স্পেশাল ব্রাঞ্চ, থানা পুলিশসহ সকল সংস্থাতেই কমবেশি দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে টিআইবি’র ঐ জরিপে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, জরিপ করতে গিয়ে তারা দেখেছেন পুলিশের মধ্যে দুর্নীতির ব্যাপ্তি ও গভীরতা অনেক।

তিনি বলেন,”পর্যবেক্ষণে আমরা যেটা দেখতে পাই যে, এখন এমন আর কোন অপরাধ নেই যেটাতে পুলিশ জড়িয়ে পড়ছে না। এটার ব্যপ্তি খুব গভীর, বিস্তৃত এবং সকল পর্যায়ে। কেউ কেউ যেমন সততার দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন, তাদের সংখ্যা কম আবার অবস্থানও দুর্বল হয়ে আসছে।”

কেন এমন দুর্নীতি?
মি. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, একদিকে যেমন ব্যক্তিগতভাবে নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনা আছে। অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে পুলিশকে ব্যবহার করার যে প্রবণতা, সেখান থেকেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

তার মতে, দুর্নীতি এতো বিস্তৃত হওয়ার কারণ এর সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ।

এর ফলে যেমন অনেকে জবাবদিহিতার বাইরে থাকার সুযোগ পান। আবার অনেকে রাজনৈতিকে উদ্দেশ্য সাধনে বাধ্য হওয়ার পর নিজেও ব্যক্তিগতভাবে অন্যান্য অপরাধে জড়িয়ে অর্থ উপার্জনের পথ ধরছেন।

তিনি বলছেন, বাহিনীর মধ্যে যেমন দুর্নীতি-অনিয়ম-অপরাধের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তেমনি রাজনৈতিক কারণে পুলিশকে অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়া বন্ধ করতে হবে।

পুলিশ কী করছে?
পুলিশ সদর দপ্তর জানাচ্ছে, পুলিশের যারা দুর্নীতিতে জড়াচ্ছেন, সেটা সংখ্যা হিসেবে খুব বেশি নয়।

তবে কম বেশি যেটাই হোক, এরকম অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহাকারী মহাপরিদর্শক (মিডিয়া) সোহেল রানা জানাচ্ছেন, গত ২০ মাসে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে ১৪ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status