ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
ডিজিটাল ব্যাংকের দুয়ার খুলবে কবে?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 6 August, 2026, 11:45 AM

ডিজিটাল ব্যাংকের দুয়ার খুলবে কবে?

ডিজিটাল ব্যাংকের দুয়ার খুলবে কবে?

তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশে ডিজিটাল ব্যাংক নিয়ে আলোচনা হলেও এখনো তা আলোর মুখ দেখেনি।

দুই দফায় আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে, পরিবর্তন আনা হয়েছে নীতিমালায়; চূড়ান্ত অনুমোদন বা লাইসেন্স নিয়ে ঝক্কি-ঝামেলাও হয়েছে। কিন্তু চালু হয়নি ডিজিটাল ব্যাংক; কবে সেবার পাবেন গ্রাহকরা সেটিও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

দেশে ডিজিটাল ব্যাংক কবে আসবে–এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান শনিবার রাতে বলেন, “দ্বিতীয় দফায় যে আবেদনগুলো জমা পড়েছিল, সেগুলোর মূল্যায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

“মূল্যায়ন শেষ হলে কমিটি সেই প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে জমা দেবে। গভর্নর তা বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের (বোর্ড) সভায় উত্থাপন করবেন। বোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে।”

আলোচিত ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সবশেষ ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদেশি অংশীদারত্ব আছে।

আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এমন প্রতিষ্ঠানও আছে যাদের অন্য দেশে ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনার অভিজ্ঞতা আছে। আবেদনকারীদের তালিকায় আছে বিকাশ, রবি ও বাংলালিংকের অংশীদারত্বে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানও।

ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্সের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল।

ডিজিটাল ব্যাংকের দুয়ার খুলবে কবে?

ডিজিটাল ব্যাংকের দুয়ার খুলবে কবে?

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ দিন–বিএনপি সরকার গঠনের আগের দিন (১৬ ফেব্রুয়ারি) তড়িঘড়ি করে একটি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদের মুখে আটকে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল ওই প্রতিবাদ করেছিল।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তরফে তখন দাবি করা হয়েছিল, কোনো প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স অনুমোদনের জন্য পর্ষদ সভা আহ্বান করা হয়নি। যে আবেদনগুলো জমা পড়েছিল, সেগুলো সভায় উপস্থাপনের জন্য পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেছিলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিসে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সভার মূল উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যে প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, গভর্নর অতীতে সেই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতার মৌলিক নীতির পরিপন্থি।

আওয়ামী লীগের সময়ে যা হয়েছে

দেশে ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হয় ২০২৩ সালে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ওই বছরের ১৪ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা ঘোষণা করে। ওই নীতিমালার ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রথম দফা ডিজিটাল ব্যাংক গঠনের প্রস্তাব বা আবেদন আহ্বান করে।

ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যূনতম ১২৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন লাগবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছিল। নীতিমালার আলোকে ওই বছরের ২০ জুন আগ্রহীদের থেকে আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তখন ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। সেখান থেকে তিন ধাপে আবেদন মূল্যায়ন করে ৯টি প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিচালনা পর্ষদের সভায়।

তবে নগদ ও কড়ি ছাড়া বাকি সাতটি আবেদনের মধ্যে স্মার্ট ডিজিটাল ব্যাংক, নর্থ ইস্ট ডিজিটাল ব্যাংক এবং জাপান-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংককে পরে এলওআই (লেটার অব ইনটেন্ট বা আগ্রহপত্র) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তখন বিকাশ, ডিজি টেন এবং ৩৬টি ব্যাংককে আলাদা ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স না দিয়ে ‘ডিজিটাল ব্যাংকিং উইং’ খোলার অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আবেদন নাকচ করা হয়।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০২৪ সালের জুনে নগদ ব্যাংক পিএলসিকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২০২৩ সালের অগাস্টে নগদ ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির নামে এলওআই দেওয়া হয়।

তবে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাচারের টাকায় বিদেশে কোম্পানি খুলে এসব ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অভিযোগ সামনে আসে। এ কারণে নগদ ব্যাংক পিএলসির লাইসেন্স স্থগিত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর কড়ির নামে এখনও লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

অন্তবর্তী সরকারের সময়ের যা ঘটেছে

অন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালের ২৬ অগাস্ট ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন করে আবেদনপত্র আহ্বান করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক খাতে বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এর লক্ষ্য হল আর্থিক খাতের দক্ষতা বাড়ানো, সেবার পরিসর বিস্তৃত করা আর ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসই) অর্থায়নের সুযোগ সহজ করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ঋণপ্রবাহ সহজ করতে ডিজিটাল ব্যাংককে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার মনে করা হচ্ছে।

এর আগে ২১ আগস্ট এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংক কোম্পানি গঠনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে দেয়। ২০২৩ সালের ১৪ জুনের নীতিমালা অনুযায়ী যা ছিল ১২৫ কোটি টাকা। নীতিমালার অন্য সব শর্ত অপরিবর্তিত রাখা হয়।

মূল্যায়নের অপেক্ষা

নতুন প্রজ্ঞাপনের আলোকে ১২টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে।

আবেদন করা প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে–১২টি কোম্পানি মিলে গঠন করা ‘ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, ভুটানের ডিকে ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, ২২টি ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী সংস্থা মিলে প্রস্তাব দেওয়া ‘আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২’, ব্যক্তি পর্যায়ে সামষ্টিকভাবে আবেদন করা ‘৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, মোবাইল কোম্পানি রবি আজিয়াটার ‘বুস্ট’, কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা ও ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী মিলে ‘আমার ব্যাংক’, প্রবাসী উদ্যোক্তাদের ‘অ্যাপ ব্যাংক’, বাংলালিংক ও স্কয়ার গ্রুপের যৌথ উদ্যোগ ‘নোভা ডিজিটাল ব্যাংক’, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা আশা এর ‘মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি’, আকিজ রিসোর্সের ‘মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক’, ব্র্যাক ব্যাংকের মালিকানাধীন বিকাশের ‘বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক’, ডিবিএল গ্রুপের ‘জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক’, আইটি সলিউশন লিমিটেডের ‘উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক’।

চলতি বছরের মধ্যে কোনো ডিজিটাল ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে পারবে কি না–এমন প্রশ্নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ খান বলেন, সেটা নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, “কয়েক ধাপে যাচাই বাছাই করে তবেই দেওয়া হবে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স। এমনও হতে পারে–সব প্রতিষ্ঠানই সব শর্ত পূরণ করেছে; ডিজিটাল ব্যাংক পরিচালনার যোগ্য। আবার এমনও হতে পারে দু-একটি সব শর্ত পূরণ করেছে। আবার এমনও হতে পারে ১২টির কোনটিই সবগুলো শর্ত পূরণ করেনি। তাই কোনো কিছুই এখন নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।”

ডিজিটাল ব্যাংক কী

ডিজিটাল ব্যাংক হবে ইন্টারনেট ও অ্যাপ-নির্ভর সেবা, যা যন্ত্রের মাধ্যমে নিতে হবে। এ ব্যাংকের স্থাপনা থেকে কোনো সেবা নেওয়া যাবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, এটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শুধু প্রধান কার্যালয় থাকবে। সেবা দিতে কোনো কার্যালয় থাকবে না। অর্থাৎ এই ব্যাংক কোনো ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) বা বুথ বসিয়ে সেবা দেবে না।

ডিজিটাল ব্যাংকের নিজস্ব কোনো শাখা বা উপশাখা, এটিএম, সিডিএম অথবা সিআরএমও থাকবে না। সব সেবাই দেওয়া হবে অ্যাপ, মোবাইল ফোন বা ডিজিটাল যন্ত্রের মাধ্যমে।

গ্রাহকদের লেনদেনের সুবিধার্থে এ ব্যাংক ভার্চুয়াল কার্ড, কিউআর কোড ও অন্য কোনো উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য চালু করতে পারবে। তবে লেনদেনের জন্য কোনো প্লাস্টিক কার্ড দিতে পারবে না। এ ব্যাংকের সেবা নিতে গ্রাহকরা অন্য ব্যাংকের এটিএম, এজেন্টসহ নানা সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে ডিজিটাল ব্যাংক কোনো ঋণপত্র (এলসি) খুলতে এবং বড় ও মাঝারি শিল্পে কোনো ঋণ দিতে পারবে না; কেবল ছোট ঋণ দিতে পারবে।

এক যুগ আগে মোবাইল ফোন থেকে মোবাইলে টাকা পাঠানোর সুবিধা যেভাবে বিপ্লব ঘটিয়েছিল, ডিজিটাল ব্যাংক চালু হলে তার চেয়েও বেশি সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন এ খাত সংশ্লিষ্টরা। এর মাধ্যমে টাকা জমা, ঋণ গ্রহণ, প্রবাসী আয় গ্রহণসহ সব ধরনের আর্থিক সেবা হাতের মুঠোয় চলে আসবে।

কোনো ধরনের শাখা স্থাপন ছাড়াই সম্পূর্ণ ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় সেবার খরচ অনেক কমে যাবে, যা সাধারণ মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকে আরও সহজ করবে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status