|
শিক্ষাঙ্গন হঠাৎ অশান্ত, নেপথ্যে কী?
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() শিক্ষাঙ্গন হঠাৎ অশান্ত, নেপথ্যে কী? এর বাইরেও দুই-এক জায়গায় সংঘর্ঘে জড়িয়েছেন বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ও জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। হঠাৎ কেন সংঘাতে জড়াল চব্বিশের আন্দোলনের মিত্র দুই ছাত্র সংগঠন? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই জন শিক্ষক ও তিনটি ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলেছেন, আধিপত্য বিস্তার এবং ছাত্র সংসদগুলোর মেয়াদ ঘনিয়ে আসায় নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার চেষ্টার কারণে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সংঘাতে জড়াচ্ছে। তারা বলছেন, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘এককভাবে’ নিয়ন্ত্রণে নেয় ছাত্রশিবির। ২০২৫ সালের ছাত্রসংসদ নির্বাচনগুলোর মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করে সংগঠনটি। তাদের মতে, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর শিক্ষাঙ্গনে ছাত্রদল নিজেদের অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এখন যে ঘটনাগুলো ঘটছে তা তো আর নতুন কিছু না। আধিপত্য বিস্তার, উস্কানিমূলক কথাবার্তা, রাজনৈতিক শিষ্টাচারহীনতা সবকিছুই দায়ী। আগে যেমন হতো এখনও হয়। “এটা, ছাত্ররাজনীতি যতদিন থাকবে, ততদিন এসব ঘটনা ঘটবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেমন আছে তেমনই থাকবে।” ‘গুপ্ত’ লেখা দিয়ে শুরু অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের দাবি ওঠে। গেল বছর প্রথম ঢাকা বিশ্ববিদ্যাল কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচন হয়, যেখানে ছাত্রশিবিরের কাছে ধরাশায়ী হয় ছাত্রদল। তখন ছাত্রশিবিরের কৌশল নিয়ে যেসব আলোচনা সামনে আসে, সেখানে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রশিবিরের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার কথাই বেশি আসে। হলগুলো প্রশাসনহীন হয়ে পড়লে ‘ব্যাচ প্রতিনিধি’ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা হলে আধিপত্য বিস্তার করেন বলে আলোচনা-সমালোচনা ছড়ায়। বলা হয়, ডাকসু নির্বাচনে অনেক ব্যাচ প্রতিনিধি ছাত্রশিবিরের সমর্থনে জয়লাভ করেছেন। একইভাবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নির্বাচনেও ছাত্রশিবির বিপুল জয় পায়। এরপর থেকে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুপ্ত রাজনীতির’ অভিযোগ ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির জয় পেলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপি ক্ষমতায় আসে। গেল এপ্রিল ‘গুপ্ত’ লেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নথ বিশ্ববিদ্যায়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। সংঘর্ঘ হয় চট্টগ্রাম সিটি কলেজে। এসব ঘটনার পর থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে বিভিন্ন ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম ‘বাগযুদ্ধ’ শুরু হয়। ঢাবিতে ‘সমকামিতার’ অভিযোগ ওঠার পর হাতাহাতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের ছাত্রশিবির সমর্থিত এজিএস ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে দুই বহিরাগত অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামি’ কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ ঘিরে রোববার ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনাকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে শিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে বলে হল প্রভোস্ট জানালে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রক্টরসহ একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের ছবি প্রদর্শনী নিয়ে বেরোবিতে সংঘর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির রেশ না কাটতেই সোমবার সন্ধ্যায় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠন দুটির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ঘ হয়। ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ উপলক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় ওই সংঘর্ষের ঘট্না ঘটে। অভ্যুত্থানের দুই বছরে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী নিয়ে সেখানে অস্থিরতা তৈরি করার অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ বলেন, “আমাদের মতের সাথে মিল না হলে তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের প্রোগ্রামে হামলা করবে কেন?” তার অভিযোগ, ঢাকা কলেজে জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে, ঢাকা আলিয়াতে হল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আর জগন্নাথে টেন্ডার নিয়ে মারামারি হয়েছে। যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিতদের ছবি প্রদর্শনীর কারণে এসব ঘটনা ঘটছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যাদেরকে যুদ্ধাপরাধী বলা হচ্ছে, তারা খালেদা জিয়ার আমলে মন্ত্রী ছিলেন। জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছেন। তাহলে, জিয়াউর রহমান আর খালেদা জিয়া সবচেয়ে বড় যুদ্ধাপরাধী। ছাত্রদল এসব মনগড়া কথা বলছে। তারা আসলে ক্যাম্পাসগুলোতে সংঘাত করে দখল করবে এটাই তাদের উদ্দেশ্য।” রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারের সংগঠন ‘নভো কালচার’ এর উদ্যোগে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজন নেতার ছবি সংবলিত বিলবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সেমিনারে ঢোকা নিয়ে জবিতে সংঘর্ষ মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যা আশেপাশের এলাকায়ও ছড়ায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে এদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত এক সেমিনারে ঢোকা নিয়ে প্রথমে ক্যাম্পাসে মারামারিতে জড়ান উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা; পরে যা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে পুলিশ সহ আইনশৃঙ্গলা বাহিনী মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি সেসময় নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। জবির খবরে ঢাকা কলেজে সংঘর্ঘ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের খবর ছড়ানোর পর ঢাকা কলেজেও উত্তেজনা ছড়ায়। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে দুই পক্ষের মধ্যে। এ সংঘর্ষের পরপরই নিউ মার্কেট এলাকায় দুইটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর পর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা ঢাকা কলেজে ও সায়েন্সল্যাব মোড়ে অবস্থান নিলে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। ‘হলের সিট দখল’ নিয়ে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজের পর রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে মারামারি হয়েছে। স্থানীয় ও শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, হলের সিট দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরই জেরে বিকালে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ঢাকার তিন শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষের পর বুধবার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দফায় ছাত্র সংগঠন দুটির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে কর্মসূচিতে ছাত্রশিবিরের মিছিলে ‘বহিরাগতদের অংশগ্রহণের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে দুই সংগঠন। নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ঘ, নোয়াখালীতে হট্টগোল জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুধবার সরকারি তোলারাম কলেজে এক সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে এক সভায় পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির সমালোচনা করে ছাত্রশিবির নেতার দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হট্টগোল হয়। তবে অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা দাওয়াত পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্য সংগঠনের নেতা যা বলছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, “সম্প্রতি ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘাত-সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে ক্যাম্পাসগুলোতে নিজেদের দখলদারিত্ব কায়েম করার জন্য। এরমধ্যে ছাত্রদের কোন স্বার্থ নেই, শিক্ষার কোন দাবি নেই। এসব সংঘাতে শিক্ষার্থীরা আহত হচ্ছেন, শিক্ষার সুষ্ঠু স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।” প্রশাসন নিশ্চুপ থেকে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকেই পরোক্ষভাবে উৎসাহ দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নাজিয়া হোসেন রাশা বলেন, “ক্যাম্পাসগুলোতে এখন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের শক্তি প্রদর্শনের ও আধিপত্য বিস্তারে লড়াই চলছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ও গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাস; অথচ অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির প্রাক্কালে সেই আকাঙ্ক্ষার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্রই আমরা দেখছি।” তিনি বলেন, “আমরা আশঙ্কা করছি, কোনো একটি দলের একক দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় ক্যাম্পাসগুলো আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শিমুল কুম্ভকার বলেন, “ক্যাম্পাসেগুলোতে শিবির এবং ছাত্রদলের সংঘর্ষের ঘটনা এখন প্রায় নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভিন্নমত থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনের দলীয়করণ এবং পক্ষপাতিত্বের কারণে মতভেদ থেকে সহজেই অসহিষ্ণুতা এবং সহিংসতার রূপ নিচ্ছে। “বিভিন্ন ক্যাম্পাসে জামায়েত এবং বিএনপির মদদপুষ্ট প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব এবং লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি এই সহিংসতাকে আরো সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে।” দুই শিক্ষক যা বলেছেন রাজনৈতিক দলগুলোর জুলাই অভ্যুত্থানের ‘মালিকানা’ নিয়ে বিরোধকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষের কারণ মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যোলয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীম উদ্দিন খান। তিনি বলেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মালিকানা নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের সংঘাত সৃষ্টি হয়েছে। তার প্রভাব ছাত্র রাজনীতিতে পড়েছে।” জুলাই অভ্যুত্থানের পরেও বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলায়নি, এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে অধ্যাপক তানজীম বলেন, “একসময় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগ আধিপত্য বিস্তার করেছিল, এখন শিবির যেভাবে আধিপত্য বিস্তার করে আছে। সেখানে অন্য দলগুলো আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করছে। শিবিরের ধরণটা ভিন্ন।” ছাত্রদল সংঘাতের মাধ্যমে ছাত্রশিবিরের আধিপত্যকে দুর্বল করতে চায় বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ। তিনি বলেছেন, “ছাত্র সংসদগুলোর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ছাত্রদলের নতুন কমিটি হবে। ৫ অগাস্ট থেকে শিবিরের যে আধিপত্য বিস্তার, তা দুর্বল করতেই হয়ত ছাত্রদল সংঘাতে যাচ্ছে।” বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিতদের ছবি টাঙ্গানোকে নিয়ে সংঘাতের কথা বাদ দিলে ঢাকা কলেজ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় সংঘর্ষের কারণ কি? প্রশ্ন তুলে অধ্যাপক সাব্বির বলেন, “এখানে তো কারণ নেই। এর দ্বারা পরিষ্কার যে দুই সংগঠন একক আধিপত্য ধরে রাখতে চায়।” তার মতে, “ছাত্রদল বা ছাত্রশিবির যদি মনে করে একক আধিপত্য নিয়ে ক্যাম্পাসগুলো চালাবে, তারা ভুল ভাবছে। এখন আর আগের সেই পরিবেশ নাই। এতে শিক্ষাঙ্গনের ক্ষতি হবে, তবে এককভাবে এখন আর কেউ থাকতে পারবে না।” যা বলছে ছাত্রশিবির ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, “ছাত্রদল লাগামহীন মিথ্যাচার করছে। আমরা কাউকে হামলা করিনি। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদল আমাদের হামলা করেছে। আমরা তার এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দিইনি। “তবে আমাদেরকে এভাবে ক্রমাগতভাবে হামলা করলে আমরা চুপ থাকবো না। আমরা তা প্রতিহত করবো।” ছাত্রদল সংগঠনটি অছাত্র, ‘আদুভাই’ দিয়ে ভরা মন্তব্য করে সাদ্দাম বলেন, “তারা আমাদের হামলা করে ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। আমাদের আধিপত্য বিস্তারের দরকার নেই। ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে ছাত্রশিবিরের প্রতি শিক্ষার্থীদের সমর্থন প্রমাণিত হয়ে গেছে।” ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের কারো ছাত্রত্ব নেই বলা হলে তিনি বলেন, “আমি ক্যাম্পাসগুলোর কমিটির কথা বলছি। আমাদের বয়স আর ছাত্রদলের সভাপতির বয়সের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।” ছাত্রদল কী বলছে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, “আমরা ছাত্রশিবিরকে হামলা করিনি বরং তারা আমাদেরকে হামলা করেছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছাত্রদলকে হামলা করে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে। যা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা উল্লাস করেছে। “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও একটি অনুষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে হামলা করে ক্যাম্পাসে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে।” তিনি বলেন, এ দুটি ঘটনায় প্রমাণিত কারা ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে চায়। “বরং ছাত্রশিবির ছাত্রলীগের মত তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করছে।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
