ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৩ আগস্ট ২০২৬ ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সুমন্তি চাকমার পরিবারের খোজ নিলেন বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন
রুপম চাকমা, বাঘাইছড়ি
প্রকাশ: Monday, 3 August, 2026, 8:37 PM

সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সুমন্তি চাকমার পরিবারের খোজ নিলেন বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন

সাজেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সুমন্তি চাকমার পরিবারের খোজ নিলেন বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন

সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার ধারাবাহিকতায় এবার সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে আবারও মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে মারিশ্যা জোন (২৭ বিজিবি)। নিহত সুমতি চাকমার পরিবারের পাশে থেকে শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, তাঁর ছোট্ট মেয়ের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে শিক্ষা উপকরণ, পোশাক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি।

সোমবার (৩ আগস্ট) রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকায় নিহত সুমতি চাকমার পরিবারের হাতে শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী, পোশাক, নগদ আর্থিক সহায়তা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন মারিশ্যা জোনের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে পরিবারটির জন্য চাল, ডাল, চিনি ও ভোজ্যতেল বিতরণ করা হয়।

এর আগে গত ১৮ জুলাই ২০২৬ বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক থানা থেকে আনুমানিক ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার পূর্বে এবং বাঘাইহাট বাজার থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরের চম্পাতলী এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিন টন ওজনের একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে সুমতি চাকমা নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই মারিশ্যা জোনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়। সে সময় জোন কমান্ডার নিহত পরিবারের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এবার তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই অঙ্গীকারেরই প্রমাণ দিল বিজিবি।

দুর্ঘটনায় মাকে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে যায় আট বছর বয়সী প্রান্তি চাকমা। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মারিশ্যা জোন তার শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখতে শিক্ষা সহায়ক সামগ্রী, নতুন পোশাক এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

এছাড়া পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট লাঘব করতে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়, যাতে তারা অন্তত প্রাথমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে।

মানবিক এই উদ্যোগে অংশ নেয় উপজেলা প্রশাসনও। বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান-এর পক্ষ থেকে পরিবারটির জন্য একটি ঘর নির্মাণের উদ্দেশ্যে টিন এবং অতিরিক্ত খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।

এতে সরকারি প্রশাসন ও বিজিবির সমন্বিত সহযোগিতায় একটি অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।

মারিশ্যা জোনের জোন কমান্ডার বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারা দেয় না, মানুষের কল্যাণেও কাজ করে।

তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনেও বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই নিহত সুমতি চাকমার কন্যা প্রান্তি চাকমার শিক্ষাজীবন যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও পরিবারটির যেকোনো প্রয়োজনে মারিশ্যা জোন পাশে থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মারিশ্যা জোনের মেডিকেল অফিসার মেজর অমিত কুমার সাহা (এএমসি), বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, সাজেক ইউনিয়ন চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা, সুপ্তশ্রী সাহা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বলেন, দুর্ঘটনার পর শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেনি বিজিবি; বরং দীর্ঘমেয়াদে একটি অসহায় পরিবারের ভবিষ্যতের কথাও ভাবছে। বিশেষ করে ছোট্ট প্রান্তি চাকমার শিক্ষার দায়িত্বে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় উদ্যোগ।

তাদের মতে, এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করবে এবং জনকল্যাণে বিজিবির ইতিবাচক ভূমিকার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সহায়তা গ্রহণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে নিহত সুমতি চাকমার পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে তারা চরম সংকটে পড়েছিলেন। এমন কঠিন সময়ে মারিশ্যা জোন যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, তা তারা কখনো ভুলবেন না। বিশেষ করে শিশুকন্যা প্রান্তির ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের কথা চিন্তা করে যে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে, তার জন্য তারা বিজিবির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মানবিক সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের এমন উদ্যোগের মাধ্যমে মারিশ্যা জোন আবারও প্রমাণ করল—সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি মানুষের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোও তাদের অন্যতম অঙ্গীকার। পার্বত্যাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status