|
দুই বছরেও আলোর মুখ দেখলো না সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর
৫৯ বছর পর চালুর দশ দিনেই বন্ধ রাজশাহী-মুর্শিদাবাদ নৌপথ
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ৫৯ বছর পর চালুর দশ দিনেই বন্ধ রাজশাহী-মুর্শিদাবাদ নৌপথ আমদানি রপ্তানি কারকদের অভিযোগ, এখন নদী ড্রেজিং ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করার পরও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পানামা ও এনবিআরের গা ছাড়া ভাবের কারণে ঝুলে আছে এই বন্দরের ভাগ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও কাস্টমের দাবি অনুযায়ী অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ করতেও প্রস্তুত উদ্যোক্তারা। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাবেই স্থবির হয়েছে বন্দরটি। তবে, কিছুটা সময়ক্ষেপণ হলেও বন্দরটি নিয়ে আশাবাদী বিআইডব্লিউটিএ। পাথর আমদানিকারক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই নৌ বন্দরে ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগে সব ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন করেছে। আমার ৩ টি পণ্যবাহী জাহাজ সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরে মাসের পর মাস পরে আছে। প্রতি মাসে ১৫ লাখ টাকা করে তাদের ভাড়া বাবদ দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দ্রুত বন্দরটি চালু না হলে ব্যবসায়ীরা চরম বেকায়দায় পড়বে। তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে লাখ লাখ টন পাথর বাংলাদেশে আনতে হয় সড়কপথে বা ট্রেনে করে। এতে খরচও বেশি হয়। নৌপথে পাথর আনতে পারলে খরচ অনেক কমে যাবে। পাশাপাশি এ নৌরুটটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বর্ষাকালে দুই থেকে আড়াই হাজার টন কার্গো যাতায়াত করতে পারবে। আর খরা মৌসুমে সেটি ৭০০ থেকে ৮০০ টনে দাঁড়াবে। সুলতানুল ইসলাম তারেক নামের আরেক আমদানিকারক বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দরের পানামা মনে করেন এই বন্দরটি চালু হলে তাদের ব্যবসা নষ্ট হয়ে যাবে। এটি ভুল ধারণা। যার যেদিক দিয়ে সুবিধা হবে সেদিক দিয়ে পন্য আনা নেয়া করবেন। সরকার দুই বন্দর থেকে রাজস্ব পাবেন। এজন্য সরকারের উচিত দ্রুত এখানে কাস্টমস বসিয়ে বানিজ্য শুরু করা। জানা গেছে, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জের সঙ্গে ভারতের মুর্শিদাবাদের মায়া নৌবন্দরের দূরত্ব মাত্র ১৮ কিলোমিটার। এই নৌপথ চালু হলে ভারত থেকে সিমেন্ট তৈরির কাঁচামাল, পাথর, মার্বেল, খনিজ বালু ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যসামগ্রী বাংলাদেশে আসবে। বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র, মাছ, পাট ও পাটজাত পণ্য ছাড়াও বিভিন্ন কৃষিপণ্য ভারতে যাবে। এসব পণ্য মূলত বিভিন্ন স্থলবন্দরের মাধ্যমে সড়ক ও রেলপথে বাংলাদেশে আমদানি করা হয়। যা সময় ও খরচ অনেক বেশি লাগে। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের মাধ্যমে এসব পণ্য ভারত থেকে আমদানিতে সময় ও খরচ কম হবে। এতে উপকৃত হবেন দেশের ব্যবসায়ীরা। এর আগে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত হয় বাংলাদেশের সুলতানগঞ্জ আর পশ্চিমবঙ্গের ধূলিয়ান নৌরুটে বাণিজ্য চালুর। রাজশাহী থেকে মুর্শিদাবাদের ধূলিয়ান পর্যন্ত ৭৮ কিলোমিটার একটি নৌপথের অনুমোদন থাকলেও পদ্মা নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে কার্যকর করা যায়নি। পরে সিদ্ধান্ত হয় রুটটি সুলতানগঞ্জ থেকে মায়া নৌবন্দর পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত করার। আড়াআড়িভাবে ২০ কিলোমিটার পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে পণ্য আনা-নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ ঘাটে পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। প্রস্তুত করা হয়েছে পন্টুনও। পাশেই রাখা হয়েছে বিশাল আকৃতির একটি ট্রলার। ওই ট্রলার দিয়েই পণ্য পাঠানোর কথা রয়েছে ভারতে। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরের ঘাটটি রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক থেকে ১ কিলোমিটার দক্ষিণের পদ্মার শাখা নদী মহানন্দার মোহনার কাছাকাছি। সুলতানগঞ্জের এই পয়েন্টে সাধারণত সারা বছরই গভীর পানি থাকে। অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের মায়া নৌবন্দরটি মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর মহকুমা শহরের কাছে ভারতীয় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের সঙ্গে যুক্ত। ফলে সুলতানগঞ্জ-ময়া পথে নৌবাণিজ্য শুরু হলে পণ্য পরিবহন খরচও যেমন অনেক কমবে, তেমনি এই নৌবন্দরটি চালু হলে এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সেই সাথে সুলতানগঞ্জ ঘাটটি নদী বন্দরের মর্যাদা পাবে। বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক এ, কে, এম আরিফ উদ্দিন বলেন, সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও এনবিআর কেন এই নৌ বন্দরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিচ্ছে না- তা উদ্বেগজনক। নৌবন্দর চালু না করার পেছনে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো স্বার্থ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা দরকার। তা না হলে এতদিনে জমজমাট থাকতো এই রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সুলতানগঞ্জ নৌবন্দরটি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত নৌ-প্রটোকলের আওতায় নদীপথে দুই দেশের মধ্যে কম খরচে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুলতানগঞ্জ নৌবন্দর চালু হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। বিভিন্ন পণ্য আনা-নেওয়ায় সুলতানগঞ্জ-মায়া নৌরুট হয়ে উঠতে পারে লাভজনক একটি ক্ষেত্র। রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহ-সভাপতি শামসুর রহমান শান্তন বলেন, এই নৌ বন্দর চালু হলে সরকার যেমন রাজস্ব আদায় করবে, তেমনি ব্যবসায়িক জোন হিসেবে গড়ে উঠবে এই অঞ্চল। এই অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা সচল হবে এই নৌ বন্দরকে কেন্দ্র করে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো বন্দরটি চালু হলে পণ্য আমদানিতে ২০-২৫ শতাংশ ব্যয় কমবে। এছাড়া অনেক সময় কম লাগবে পন্য আনা নেয়ায়। বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এই নৌ বন্দরকে ঘিরে। এদিকে ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করা হবে। বিআইডব্লিউটিএ ও এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের মতামতের ভিত্তিতে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া সরকার প্রধান চাইলে এই বন্দরে দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম দ্রুতই চালু করা হবে বলে তিনি আরও জানান। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
