ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
পত্নীতলায় সফল পুষ্টি উদ্যোক্তা নাসিমা খাতুন
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 28 April, 2026, 12:00 PM

পত্নীতলায় সফল পুষ্টি উদ্যোক্তা নাসিমা খাতুন

পত্নীতলায় সফল পুষ্টি উদ্যোক্তা নাসিমা খাতুন

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ১৯৯১ সালে আলপাকা গ্রামের আব্দুর রউফের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খাতুন।একে অভাবী পরিবার এবং বড় সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রম করে এগিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। 

এসএসসি পাশ করার পর থেকেই ব্র্যাক শিক্ষা প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান করে এইচএসসি এবং বিএসএস পাশ করেন নাসিমা খাতুন। কর্মের প্রয়োজনে ব্র্যাকের ওয়াশ প্রোগ্রামে সমন্বয়কারী এবং ইএসডিও এর গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ কর্মসূচিতে ইউনিয়ন ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করেছেন।

তিনি দি হাঙ্গার প্রজেক্ট এর বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের নারী নেত্রী হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রহণ করেন এবং টেকসই পুষ্টির লক্ষ্যে বৈশ্বিক জোট কর্মসূচি শুরু হলে পুষ্টি উজ্জীবক হিসেবে প্রায় ৩ বছর শিহাড়া ইউনিয়নে কাজ করেছেন।

নাসিমা খাতুন  সাপাহার উপজেলার সেলিম রেজার সাথে ২০১৯ এ পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।বর্তমানে তাদের ২ টি পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামীর এলোমেলো এবং মাদকাসক্ত জীবনে পরিবারে অশান্তি লেগেই থাকে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এখন নাসিমা খাতুন।

উপজেলার শিহাড়া ইউনিয়নের জনবহুল গ্রাম হালাকান্দর।গ্রামের পূর্বপাড়ায় মুসলিমের বাড়ির উঠানে দেখা গেল গর্ভবতী মরিয়ম বেগমের রক্তচাপ পরিমাপ করছেন পুষ্টি উদ্যোক্তা নাসিমা খাতুন।তিনি সপ্তাহে একদিন এই গ্রামে আসেন।গ্রামের সকল বয়সী নারী পুরুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার দায়িত্ব পালন করে আসছেন এই পুষ্টি উদ্যোক্তা।এলাকার গর্ভবতী নারীদের আস্থা এবং ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছেন বিগত কয়েক বছরে। 

জানা যায যে, দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের টেকসই পুষ্টির লক্ষ্যে বৈশ্বিক জোট কর্মসূচিতে পুষ্টি উজ্জীবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি।বিগত ৩ বছরে এলাকার গর্ভবতী-প্রসূতি  এবং ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের কাছে অত্যন্ত আস্থা এবং ভরসার পাত্র হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন তিনি। 

এলাকার সকল গর্ভবতীকে গর্ভকালীন এবং প্রসূব পরবর্তী চেকআপ নিয়মিত কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে করিয়েছেন।নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির ক্ষেত্রে সবসময় সোচ্চার রয়েছেন। ফলে এলাকায় মাতৃমৃত্যু এবং শিশু মৃত্যু শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। 

অপর দিকে সংখ্যালঘু,আদিবাসী এবং নিম্ন আয়ের মানুষদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সেবা দিতে দেখা যায় এই পুষ্টি উদ্যোক্তাকে।  

বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের বৈশ্বিক ফান্ড বন্ধ হয়ে গেলেও নাসিমা খাতুন বসে থাকেন নি। তিনি ইতোপূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রতিদিনই মানুষের বাড়ি ভিজিট করতে শুরু করেন। এলাকায় কার কি চাহিদা তিনি প্রাথমিকভাবে তা নিরূপণ করেন। ইতোমধ্যে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট থেকে তিনি সামাজিক  কাযক্রমে মডেল বাস্তবায়নের ওরিয়েন্টেশনে যুক্ত হন। 

পূর্বের অভিজ্ঞতা আর নতুন কর্ম-কৌশল বাস্তবায়নে তিনি মাঠে নেমে পড়েন। প্রথম প্রথম শুধু ব্লাডপ্রেসার, ডায়াবেটিস এবং হিমোগ্লোবিন পরিমাপ করে তিনি আয় শুরু করেন।

এলাকার নববধু, নারী এবং কিশোরীদের সেনেটারি ন্যাপকিনের সরবরাহ তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। নাসিমা তার এলাকায় গর্ভবতীদের জন্য ক্যালসিয়াম,আয়রন,অনুপুষ্টির সাপ্লিমেন্ট, ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য অনুপুষ্টির সাপ্লিমেন্ট হিসেবে মনিমিক্স বিস্কুট,ডায়াপার, সাবান,শ্যাম্পু,জন্মবিরতিকরণ পিল,ব্লাড প্রেশার, ডায়াবেটিস,হিমোগ্লোবিন পরিমাপ,স্যালাইন,  মাল্টিভিটামিন,হেয়ার রিমোভারসহ বিভিন্ন নিত্য পণ্য সরবরাহ করছেন।

নাসিমা খাতুন বলেন,গত মার্চ মাসে শুরু করে এপ্রিলের ৩ সপ্তাহে তিনি ২৮ হাজার টাকারও বেশি পণ্য বিক্রয় করেছি।পণ্য কেনার খরচ বাদ দিয়ে ৮ হাজার ৫ শ টাকার বেশি আয় হয়েছে। 

আত্ম-প্রত্যয়ী নাসিমা খাতুন আজ স্বনির্ভরতা এবং অগ্রসর সমাজ সেবকের ভুমিকায় এগিয়ে চলেছেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status