ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বৈশাখ ১৪৩৩
ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত : ২৫ বছরের পথচলায় নীলকান্ত-গীতা দম্পতি
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 14 February, 2026, 9:31 PM

ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত : ২৫ বছরের পথচলায় নীলকান্ত-গীতা দম্পতি

ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত : ২৫ বছরের পথচলায় নীলকান্ত-গীতা দম্পতি

শৈশব থেকেই কটু কথা শুনে বড় হয়েছেন নীলকান্ত। উচ্চতায় খাটো হওয়ায় অনেকেই তাকে ভিন্ন চোখে দেখতেন। মানুষের ভিড়েই থেকেও যেন নিঃসঙ্গতা ঘিরে থাকত তাকে। প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের নানা মন্তব্যের আঘাত নীরবে সহ্য করেই বড় হয়েছেন তিনি।
তবু থেমে থাকেননি—প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন সব সময়।

সমবয়সীদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পড়াশোনা করলেও পারিবারিক ও বাস্তব সমস্যার কারণে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি নীলকান্ত। স্বপ্ন ছিল একটি ভালো চাকরি করার, কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। পড়াশোনার পথ থেমে গেলেও জীবনযুদ্ধ থামেনি।

কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই তিনি খুঁজে নেন টিকে থাকার শক্তি।

এরই মধ্যে জীবনে আসে নতুন আলো। সবাই যখন নীলকান্তের ভবিষ্যৎ ও বিয়ে নিয়ে দুশ্চিন্তায়, তখন তার জীবনে আসেন গীতা রাণী। একই উচ্চতা, একই রকম জীবনসংগ্রাম আর মানসিক মিল—এই তিনটি বিষয় তাদের কাছাকাছি নিয়ে আসে।

পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব, সেখান থেকে জন্ম নেয় ভালোবাসা। কয়েক মাস একে অন্যকে জানার পর তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন এবং মানুষের কটূক্তিকে উপেক্ষা করেই শুরু করেন একসঙ্গে পথচলা।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নর জোতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এই দম্পতির সংসার জীবনের বয়স এখন ২৫ বছর। দুই যুগের বেশি সময় ধরে সুখ-দুঃখ, অভাব-অনটন ও নানা প্রতিকূলতা একসঙ্গে মোকাবেলা করে চলেছেন তারা। তাদের একমাত্র মেয়ের বিয়েও দিয়েছেন ইতিমধ্যে।

অভাব ছিল, কষ্ট ছিল—তবু কখনো একজন আরেকজনকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি। বরং প্রতিটি কঠিন সময়ে একে অন্যের শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নীলকান্ত বলেন, ছোটবেলা থেকে অনেক কথা শুনেছি, কিন্তু গীতাকে পাশে পাওয়ার পর মনে হয়েছে আমি একা নই। জীবনের যত কষ্টই আসুক, একসঙ্গে থাকলে সবকিছু সহজ মনে হয়।

গীতা রাণী বলেন, ‘আমাদের জীবনে অনেক অভাব ছিল, কিন্তু আমরা কখনো একে অন্যকে দোষ দিইনি। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক মানে শুধু সুখ নয়—দুঃখও একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও এই দম্পতি অনন্য উদাহরণ। প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষিকা সাবিত্রী রাণী বলেন, ‘তারা দেখতে খাটো—এটাই হয়তো একমাত্র অপূর্ণতা। কিন্তু তাদের ভালোবাসা ও বোঝাপড়া অনেক বড়। আমরা কখনো তাদের সংসারে বড় কোনো ঝামেলা দেখিনি। তারা সত্যিই একে অন্যের পরিপূরক।’

গ্রামের অনেকেই জানান, সামাজিক কটুক্তি ও অবহেলা সত্ত্বেও নীলকান্ত-গীতা দম্পতি কখনো হাল ছাড়েননি। নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করে প্রতিদিনের ছোট ছোট সংগ্রাম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় সম্পর্ককে করেছেন আরও দৃঢ়।

সময়ের স্রোতে বদলে গেছে অনেক কিছু, বদলায়নি শুধু তাদের সম্পর্কের দৃঢ়তা। ২৫ বছরের দীর্ঘ পথচলায় তারা প্রমাণ করেছেন—দাম্পত্যের মূল শক্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। সমাজের চোখে তারা হয়তো ভিন্ন, কিন্তু একে অন্যের চোখে তারা পরিপূর্ণ।

এই দম্পতির গল্প মনে করিয়ে দেয়—শারীরিক গড়ন বা সামাজিক অবস্থান নয়, সম্পর্কের আসল ভিত্তি হলো হৃদয়ের মিল। জীবনের প্রতিটি ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে হাত ধরে এগিয়ে যাওয়ার নামই সত্যিকারের ভালোবাসা। আর সেই ভালোবাসারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন ঠাকুরগাঁওয়ের নীলকান্ত-গীতা দম্পতি।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status