|
ক্ষমতায় গেলে শ্রমিক-নারীর অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার গাজীপুরে ডা. শফিকুর রহমান
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ক্ষমতায় গেলে শ্রমিক-নারীর অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার গাজীপুরে ডা. শফিকুর রহমান মঙ্গলবার (৩ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জনগণের উন্নয়নের নামে গত ১৫ বছরে প্রায় সাড়ে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ হয়েছে—রডের বদলে বাঁশ ও সিমেন্টের পরিবর্তে ছাই ব্যবহারের মতো দুর্নীতির উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। এ ধরনের দুর্নীতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি অবশ্যম্ভাবী বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গাজীপুরকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, পুরো জেলা এখন শিল্প এলাকায় পরিণত হলেও সেখানে পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলার অভাব রয়েছে। প্রায় ৪০ লক্ষ শ্রমিক-কর্মচারী এখানে কাজ করলেও তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষিত নয়। ভোটে নির্বাচিত হলে গাজীপুরসহ সারাদেশে একটি ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন তিনি। নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক কারখানায় শ্রমিকদের, বিশেষ করে নারী ও মায়েদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না। বেতন বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য দূর করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আরও বলেন, সন্তান থাকা মায়েদের জন্য কাজের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় মায়েরা দিনে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করবে এবং তিন ঘণ্টা পরিবার ও সন্তানের জন্য সময় দিতে পারবে। প্রতিটি শিল্প এলাকায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, এতে শিশু ও মা—দু’জনেই সুস্থ থাকবে, যা ভবিষ্যৎ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। ![]() ক্ষমতায় গেলে শ্রমিক-নারীর অধিকার ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার গাজীপুরে ডা. শফিকুর রহমান যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতা দিয়ে যুবকদের শক্তিশালী করতে হবে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব ভবিষ্যতে তাদের হাতেই তুলে দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ইসলামী জাগরণ দেখে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। নারীদের অসম্মান ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও মায়েদের সম্মান রক্ষা করা হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় গেলে পাচার করা অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং ব্যক্তিগত নয়, ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হবে। দুপুর থেকেই রাজবাড়ী মাঠে খণ্ড খণ্ড মিছিল এসে জড়ো হয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে জনসভাস্থল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। হেলিকপ্টারে করে বিকেলে জনসভাস্থলে পৌঁছান জামায়াত আমির। অনুষ্ঠান শেষে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের হাতে প্রত্যেকের নিজনিজ মার্কা তুলে দিয়ে জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন জামায়াত আমীর। পরে ইসলামী সংঙ্গীত পরিবেশনার মধ্যদিয়ে সভার সফল সমাপ্তি হয়। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
