|
কবর জিয়ারত শেষে সাদ্দাম
‘স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো’
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ‘স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো’ সাদ্দাম বলেন, ‘আমি এক হতভাগা স্বামী, আমি এক হতভাগা বাবা। আমি আমার সন্তানকে কোলে নিতে পারিনি। হে খোদা, তুমি আমার স্ত্রী-সন্তানকে ক্ষমা করে দাও। আমার স্ত্রী যদি হত্যার শিকার হয়ে থাকে, তাহলে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।’ এরপর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে কিছু সময় থাকেন সাদ্দাম। সেখানে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যখন আমাকে যশোর কারাগারে দেওয়া হয়েছে, তখন আমার স্ত্রী মনে করেছে, আমি আর কখনও বের হতে পারব না। আমি মনে করি, স্ত্রী-সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনেকবার জামিন চেয়েছি, জামিন হয়নি। আমি আমার ছেলেকে কোলে নিতে পারিনি, আমার স্ত্রী-সন্তানের লাশের বিনিময়ে আমাকে জামিন দেওয়া হলো।’ বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা এলাকার একরাম হাওলাদার ও দেলোয়ারা একরাম দম্পতির ছেলে জুয়েল হাসান সাদ্দাম। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। গতকাল দুপুর ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান সাদ্দাম। এর আগে সোমবার হাইকোর্ট তাঁর ছয় মাসের জামিন দেন। ২৩ জানুয়ারি দুপুরে সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা ওরফে স্বর্ণালী (২২) ও ৯ মাসের ছেলে সেজাদ হাসান নাজিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মা ও ছেলের মরদেহ সাবেকডাঙ্গা গ্রামে সুবর্ণার বাবার বাড়িতে আনা হয়। সেখানে গোসল শেষে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে লাশবাহী গাড়িতে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয় তাদের মরদেহ। সেখানে স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ শেষবারের মতো দেখেন সাদ্দাম। ওই দিন রাতে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে তাদের জানাজা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে মা-ছেলের পাশাপাশি দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পরও সাদ্দামকে প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় সমালোচনা হয় দেশজুড়ে। এদিকে সাদ্দামের মুক্তি নিয়ে যশোর কারা কর্তৃপক্ষ লুকোচুরি করেছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কারাফটকে যশোরের গণমাধ্যমকর্মীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কারা কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকর্মীদের মুক্তির বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ গণমাধ্যমকর্মীরাও। কারাফটকের বাইরে থেকে বারবার কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। কয়েক দফা যশোর কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রশাসন গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছে। সন্ধ্যায় বাড়ি পৌঁছানোর পর স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করেছেন আমার ভাই। তাদের কবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।’ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আসিফ উদ্দীন জানান, বুধবার দুপুরে সাদ্দাম মুক্তি পেয়েছেন। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
