|
গোলকিপারের গোলে রিয়ালকে প্লে অফে টেনে নিয়ে গেল মরিনিওর বেনফিকা
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() গোলকিপারের গোলে রিয়ালকে প্লে অফে টেনে নিয়ে গেল মরিনিওর বেনফিকা বুধবার লিসবনে বেনফিকার কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে রিয়াল। একই দিনে বার্সেলোনা, চেলসি, স্পোর্টিং লিসবন ও ম্যানচেস্টার সিটি জেতা, আর নিজেদের এই হারের ফলে লিগ পর্বে রিয়ালের অবস্থান হয় নবম। ফলে তাদের খেলতে হবে দুই লেগের নকআউট প্লে-অফ। অন্যদিকে বেনফিকাকে অতিরিক্ত ২ ম্যাচ খেলতে হলেও তারা সানন্দেই তা খেলবে। কারণ, আরেকটু হলে যে সে সুযোগটাও হাত ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছিল! ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত রিয়ালের কোচ ছিলেন মরিনিও। ক্লাব ছাড়ার পর সাবেক দলের বিপক্ষে কখনো জেতেননি তিনি। সেই জয়টা গেল রাতে তুলে নিতে শুরু থেকেই তিনি ছেঁকে ধরেছিলেন রিয়ালকে। তবে এক মৌসুম আগের ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা কিছু সুযোগ তৈরি করেছে। ৩০ মিনিটে এমবাপে হেডে গোল করে রিয়ালকে এগিয়ে দেন। কিন্তু ছয় মিনিট পর পাল্টা আক্রমণে আন্দ্রেয়াস শেলডারুপ বল নিয়ে উঠে আসেন। তাকে মার্ক করার দায়িত্ব যার কাঁধে ছিল, সেই রাউল আসেনসিও এক পর্যায়ে পিছলে পড়ে যান। ফলে অনায়াসেই গোলটা রিয়ালের জালে জড়ান শেলডারুপ। বিরতির একটু আগে পেনাল্টি পায় বেনফিকা। কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দিকে টানে ফাউল করে রিয়াল মাদ্রিদ। ভেঞ্জেলিস পাভলিদিস আগের বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম পর্বের শেষ গেমউইকে বার্সেলোনার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেও দলকে জেতাতে পারেননি। সেই তিনি গত রাতে রিয়ালের বিপক্ষে পেনাল্টিতে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধে বল দখলে রাখলেও রিয়াল সমতাসূচক গোলের দেখা পাচ্ছিল না। উলটো বেনফিকাই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ৫৪ মিনিটে। পাভলিদিসের বাড়ানো বলে আবার গোল করেন শেলডারুপ। ৫৮ মিনিটে রিয়ালকে খেলায় ফেরানোর আভাস দিয়েছিলেন এমবাপে। আর্দা গুলেরের বাড়ানো বলে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতে চলতি মৌসুমে তার গোলের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১২তে। তবে সেটা রিয়ালের জন্য যথেষ্ট হয়নি। শেষ দিকে উত্তেজনা বাড়ে। আসেনসিও ও রদ্রিগো লাল কার্ড দেখলে রিয়াল নেমে আসে নয় জনে। তবে এরপরও বেনফিকাকে চোখ রাঙানি দিচ্ছিল প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায়। কারণ ওদিকে নরওয়েজিয়ান ক্লাব বোডো/গ্লিমট হারিয়ে দিয়েছিল আতলেতিকো মাদ্রিদকে, যার ফলে বেনফিকা ২৫ নম্বরে নেমে যাচ্ছিল। সেরা ২৪ এ থেকে শেষ করতে হলে গোল ব্যবধানে আরও ভালো অবস্থানে যেতে হতো তাদের। ঠিক তখনই ফ্রি কিক পায় তারা। ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তের ওই ফ্রি-কিক থেকে গোল পেতে গোলরক্ষক ত্রুবিনও ছুটে যান রিয়ালের গোলমুখে। শেষমেশ তার হেডেই গোল হলো। স্তাদিও দা লুজ আনন্দে ফেটে পড়ে। এই গোলেই রিয়ালকে বেনফিকা টেনে নিয়ে যায় প্লে অফে, নিজেরাও জায়গা করে নেয় পরের রাউন্ডে। এই হারের পর রিয়াল মাদ্রিদকে বাড়তি দুটো ম্যাচের ঝক্কি পোহাতে হবে। ওদিকে বেনফিকা খানিকটা স্বস্তিতেই থাকতে পারে। কেন? লিগ পর্বে ২৪ নম্বরে থেকে শেষ করা তাদের প্রতিপক্ষ যে হতে পারে ৯ নম্বরে থেকে প্রথম পর্ব পার হওয়া এই রিয়াল মাদ্রিদই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের পরের ম্যাচে যদি দুই দল মুখোমুখি হয়, তখন নিশ্চিতভাবেই গত রাতের এই ম্যাচ আত্মবিশ্বাস দেবে মরিনিওর দলকে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
