|
কুড়িগ্রাম এখন যানজটের শহর মুক্তি চায় শহরবাসী পুলিশ প্রশাসন থেকে সতর্কতা জারি
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() কুড়িগ্রাম এখন যানজটের শহর মুক্তি চায় শহরবাসী পুলিশ প্রশাসন থেকে সতর্কতা জারি অবশেষে আজ ১৩ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদিনব্যাপী পুলিশ প্রশাসন ও জেলা পরিবহন মালিক সংগঠনের আলোচনা স্বাপেক্ষে যানজট নিরসনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে মাইকিং করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম শহরে যানজটে নাকাল পথচারীদের যাতায়াত সহনীয় রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং একই সাথে সূধীসমাজ কিছু প্রস্তাবনার তুলে ধরেছেন, প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন হলে কুড়িগ্রাম শহরের যানজট নিরসন হবে বলে আশা করছে শহরবাসী। গতকাল ১২ সেপ্টেম্বর জেলা শহরের যানজটের নাজেহাল অবস্থার প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জনাব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ তার ফেইসবুক আইডি থেকে কুড়িগ্রাম জেলা শহরের যানজট নিরসনে ৩ টি প্রস্তাবনা পোস্ট করেন। প্রস্তাবনা ৩টি হচ্ছে- যানজটের জনভোগান্তি দূর করতে কুড়িগ্রাম শহরের ভিতর মূল সড়ক থেকে নৈশকোচ কাউন্টার সরিয়ে শহরের পাশে স্থায়ীভাবে নৈশকোচ স্ট্যান্ড নির্মাণ, শহরের ভিতর অটোরিকশা ও থ্রিহুইলার চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে সুশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ গ্রহণ এবং পৌর এলাকার রাস্তা সমুহের সংস্কার ও নির্বিঘ্নে শহরের প্রবেশ দ্বার দিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে, ত্রি-মোহনী থেকে শাপলা চত্বর পর্যন্ত ডিভাইডারযুক্ত ফোরলেন সড়ক নির্মাণের প্রস্তাবনা তুলে ধরে তা অতিসত্বর বাস্তবায়নের দাবী জানান। যানজট নিরসনে এর আগে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রামজেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু শহরের যাতায়াতের পাকা রাস্তাগুলোর বেহাল দশা পর্যবেক্ষণ করে প্রশাসনকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনিও একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। কুড়িগ্রাম শহরের সূধী-সুশীল সমাজ ও সাধারণ পথচারীরাও চায় শহরের যানজট নিরসন হোক। বিভিন্ন মিডিয়া শহরের যানজটের বিষয়টি বারবার সংবাদ আকারে তুলে ধরলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। স্থানীয়রা বলছে বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের স্বদিচ্ছার অভাবে শহরের যাতায়তের রাস্তা বর্ধিত করা হয়নি। দৃশ্যমান কোন সংস্কারও করা হয়নি।যা করা হয়েছে সব লুটপাট। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক দুঃখ করে বলেন, শহরের অভ্যান্তরে পৌরসভার প্রত্যেকটি রাস্তা এখন চলাচলে অনুপযোগী দেখে নিজেকে লজ্জা লাগে। একটি রাস্তা সংস্কারের ছয় মাস না যেতেই ভেঙে চুরে গর্তে পরিণত হয়। বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। তিনি দুঃখ করে বলেন, কুড়িগ্রাম উন্নয়নের নামে যে পরিমাণ লুটপাট করা হয়েছে এর একটা তদন্ত হওয়া দরকার। উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম জেলা শহর শাপলা চত্ত্বর থেকে পশ্চিমে- দক্ষিণে রংপুর জেলা যেতে আরকে রাস্তা, দক্ষিণে উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার রাস্তা এবং অপর দিকে উত্তরে নাগেশ্বরী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা যাওয়ার যাতায়তের একমাত্র একটি পাকা রাস্তা বলা যায়। এই একটি মাত্র মুল পাকা রাস্তাকে কেন্দ্র করে শহরের যাতায়াতের হালচাল। দূর্নীতি ও পিসি বানিজ্যের ফাঁদে পড়ে উক্ত পাকা রাস্তাটি হয়েছে মানুষের মরণ ফাঁদ। রাস্তার ১ হাত ২ হাত পরপর এক- একটা গর্ত মানুষের কোমর ভেংগে দিচ্ছে। রিকসা, বাই সাইকেল, মোটর সাইকেল চালকরা প্রতিদিনই কোন না কোন ক্ষতির শিকার হচ্ছে,যে দুই একটি রাস্তা দৃশ্যমান ভালো মনে হলেও ভুরুঙ্গামারীর সোনাহাট ইপিজেট থেকে অতিরিক্ত লোড নিয়ে আসা পাথরবাহী ট্রাকের কারণে পাকা রাস্তাগুলো দেবে গেছে। দূর্নীতির কারণে আটকে যাওয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ কাজ আজ পর্যন্ত শেষ না হওয়ায় ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে শহরবাসী। কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জনাব সোহেল হোসাইন কায়কোবাদের প্রস্তাবনার সাথে একমত হয়ে সাধারণ পথচারীরা কুড়িগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র ঘোষপাড়ার মুল রাস্তার সাথে রেল বিভাগের দখল হয়ে যাওয়া সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঘোষপাড়ায় একটি চৌরাস্তা এবং একটি ওভার ব্রিজ নির্মান। সেখান থেকে সদর হাসপাতাল হয়ে পৌরবাজার যাওয়ার রাস্তাটি ডিভাইডার দিয়ে টু- লেনের রাস্তা, অপরদিকে ঘোষপাড়ার শাপলা চত্ত্বর থেকে চিলমারী যাওয়ার রাস্তা এবং একই সাথে শাপলা চত্ত্বর থেকে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ হয়ে ধরলা ব্রিজ ও শাপলা চত্ত্বর থেকে জিয়াবাজার হয়ে ধরলা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটি ডিভাইডার দিয়ে ফোরলেন করারও দাবী জানানো হয়। এমন দাবীর সাথে একমত পোষণ করে কুড়িগ্রাম শহরের দাদামোড়ের বেশির ভাগ ব্যবসায়িরা বলেন, কিছু দখলবাজ কয়েক যুগ থেকে দাদামোড় থেকে কালিবাড়ি যাওয়ার রাস্তাটির দু'সাইড এমন ভাবে দখল করে রেখেছে ফলে এখানে ২৪ ঘন্টাই যানজট লেগে থাকে অপরদিকে দাদামোড় থেকে ঘোষপাড়া যাওয়ার রাস্তাটিরও ঠিক একই অবস্থা। কুড়িগ্রাম পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণীর বলা হলেও কুড়িগ্রাম পৌরবাসী শুধুমাত্র যানজটের কারণে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন করে যানজট থেকে মুক্তি চায় শহরবাসী। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
