|
নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে তত তারা লুটপাট করতে পারবে : এম মঞ্জুরুল করিম রনি
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে তত তারা লুটপাট করতে পারবে : এম মঞ্জুরুল করিম রনি দুপুরে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুর মহানগর বিএনপির আয়োজনে গাজীপুরের জয়দেবপুর বঙ্গতাজ অডিটোরিয়ামে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি জিয়াউর রহমান স্বরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এম মঞ্জুরুল করিম রনি আরো বলেন,'আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যিনি একজন মেজর ছিলেন, সেনাবাহিনীর মেজর থাকা অবস্থায় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট, চট্টগ্রামের সেনা বিদ্রোহ করে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা করেন, তখন তিনি কোন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন মেজর শুধুমাত্র দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন এবং শত্রুদেরকে মোকাবিলা করেছিলেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান অস্ত্র হাতে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এই দেশকে স্বাধীন করেছেন। অপরদিকে আমরা কি দেখেছি শেখ মুজিবুর রহমান সে ষড়যন্ত্র করে পাকিস্তানিদের সাথে হাত করে স্বেচ্ছায় কারাবন্দি হয়েছিল। ওই সময়ে আওয়ামী লীগের নেতারা যারা ছিলেন তারা তখন ভারতে পালিয়ে গেছে, যুদ্ধ করতে তারা বাংলাদেশে আসে নি।' বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, '৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল, একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও বাকশাল কায়েম করেছিল এবং এই বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতাকে বিপন্ন করেছিল, কারণ যারা শেখ মুজিবুর কে এদেশের শাসক বানিয়েছিল তারা বাংলাদেশকে একটি তাদের দেশের অঙ্গরাজ্য পরিণত করতে চেয়েছিল। তারা বাংলাদেশকে কখনও স্বাধীন ভাবতে দেয় নাই, সেখান থেকে বাংলাদেশকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিল জিয়াউর রহমান, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করেছিলেন এবং বাংলাদেশকে বিপন্ন হওয়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছেন।' মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন,' আজকের জামাতে ইসলাম ও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের দয়াতেই তারা বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পেয়েছিল। কারণ তিনি নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন, সেজন্যই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এবং সেনাবাহিনীকে বেরাকে ফিরিয়ে নিয়েছিলেন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যই। কোন ক্ষমতা দখল করার জন্য নয়। যদি ক্ষমতায় দখল করতে চাইতেন তাহলেতো তিনি রাষ্ট্রপ্রতি ছিলেন সেভাবেই তিনি থাকতে পারতেন। বিএনপির এই নেতা বলেন, কেন তিনি রাজনৈতিক দল গঠন করেছিলেন। এই ইতিহাঁস তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।" তিনি বলেন,'বিএনপি জন্ম থেকেই গণমানুষের দল ছিল এবং বাংলাদেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপি কাজ করে আসছেন। পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তিনি বাংলাদেশকে আবারও স্বৈরাচার মুক্ত করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং ১৯৯১সালে বাংলাদেশের মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিল। রনির দাবি, ষড়যন্ত্র থেমেছিল না ষড়যন্ত্র এখনো চলমান আছে। আপনারা দেখছেন বিগত ১৬ বছর আওয়ামী লীগ যে ক্ষমতায় ছিল তারা যে অত্যাচার নির্যাতন আমাদের এবং আপনাদের উপর চালিয়েছিল সেটা কি আমরা ভুলে গেছি? আমরা কেউ ভুলি নাই। এখনো আমাদের দলের বিরুদ্ধে প্রিয় নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলমান আছে।' গাজীপুর মহানগর বিএনপির এই নেতা এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, আপনারা দেখছেন একটি দল নির্বাচন দিতে চাচ্ছে না, তারা নির্বাচনকে পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে কেন পিছিয়ে দিতে চাচ্ছে কারণ তারা জানে নির্বাচন দিলে তারা ভোট পাবে না। বিএনপি'র প্রতিটি কর্মী আপনারা রাজপথে দীর্ঘ ১৬ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলেন মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষায়। ইনশাল্লাহ আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন আদায় করে নিব। শেখ হাসিনার পিয়ন ৪০০ কোটি টাকা কামিয়েছে আর ছয় মাসে দেখেছি আসিফের পিএস সাড়ে তিন'শ' কোটি টাকা কামিয়েছে এই কারণেই তারা নির্বাচন দিতে চায় না। নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে তত তারা লুটপাট করতে পারবে। তাই আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, প্রয়োজনে আরো সংগ্রাম করতে হবে। প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামতে হবে। বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদেরকে যে নির্দেশনা দিবেন তার নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমাদেরকে সতর্ক থেকে মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াই করে যেতে হবে। উপস্থিতিদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, আপনারা এখানে যারা আছেন আমরা সকলেই মামলা হামলায় জর্জরিত, আমাদের মামলা একটাও যায়নি কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যারা আছে তাদের উপর যে মামলা গুলো ছিল সেগুলো কিন্তু উঠে গেছে সুতরাং আমাদের একমাত্র মুক্তির পথ হচ্ছে একমাত্র সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কারণ বিএনপি গণমানুষের দল, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই দেশের শক্তি সুতরাং আমরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসতে চাই। যেসব দল নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায় তারা জানে নির্বাচন দিলে তারা পাশ করতে পারবে না বলেও জানান এই নেতা। অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দিতে সাহস পাননি, তখন বাংলাদেশের রাখাল রাজা খ্যাত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গর্জে ওঠে এই দেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং অস্ত্র হাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছেন বলেও মন্তব্য করেছেন বিএনপির নেতা কর্মীরা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন,গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি আহমদ আলী রুশদি, আ ক ম মোফাজ্জল হোসেন চেয়ারম্যান, ভিপি জয়নাল আবেদীন, টঙ্গী পূর্বথানা বিএনপির, সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দীন,সদর মেট্রো থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম টুটুল,বাসন থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম মনির, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহবায়ক প্রভাষক বশির আহমেদ, সদস্য সচিব ভিপি আসাদুজ্জামান আসাদ। আরো উপস্থিত ছিলেন, কোনাবাড়ী থানা বিএনপি'র সভাপতি ইদ্রিস আলী সরকার, সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন, পুবাইল মেট্রো থানা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন বকুল, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কাশিমপুর মেট্রো থানা বিএনপি'র সভাপতি খন্দকার আলী হোসেন, গাজীপুর মহানগর কৃষক দলের আহবায়ক আতাউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খান জাহিদুল ইসলাম, মহানগর আহবায়ক সাজেদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান রাজু। এছারা গাজীপুর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাহাদাত হোসেন শাহীন, গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক কামরুল হাসান সবুর, যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারহাজ বিন ফয়েজ প্রবাল, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রোহানুজ্জামান শুক্কুর, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিরন, গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম শামীম সহ মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
