|
পাইকগাছায় শিক্ষার্থীবিহীন মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষগুলো রাতে মাদকের আড্ডাখানা, দিনে গোয়াল ঘর
শেখ সেকেন্দার আলী, পাইকগাছা
|
![]() পাইকগাছায় শিক্ষার্থীবিহীন মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষগুলো রাতে মাদকের আড্ডাখানা, দিনে গোয়াল ঘর উপজেলার দক্ষিণ সোনাতম কাটি গ্রামে ১৯৯৮ সালে ৩২ শতক জমির উপর সোনাতনকাটি আলহেরা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য স্থানীয় রেখা বেগম ও আনোয়ারা বেগম ও আকবর মোড়লরা এ সম্পত্তি দান করেন। শর্ত ছিলো শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে জমি দাতা বা তাঁদের উত্তরাধিকারীদের কাছে ফেরত যাবে। জমিদাতা আকবর মোড়ল জানান, কয়েকবছর মাদ্রাসা ভালভাবে ছলছিলো। কিন্তু সুপারিন্টেন্ডেন্টের নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে মাদ্রাসাটি শিক্ষার্থী শুন্য হয়ে পড়েছে। ২০১১ সাল থেকে কোন ক্লাসে একজনও শিক্ষার্থী নেই। নেই কোন শ্রেণী কক্ষ বা শিক্ষা উপকরণ। এদিকে ২০০১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ শাহ মোহাঃ রুহুল কুদ্দুস এর উদ্ধোধন করেন এবং আর্থিক অনুদানও প্রদান করেন। তবে জাল জালিয়াতি করে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে আসছেন এমনটি জানালেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে প্রতি বছর সরকার প্রদত্ত শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা বই চাহিদা দিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে নিয়ে থাকেন। চলতি বছর চাহিদা দিয়ে ছিলেন ২২৫ সেট। তারা পেয়েছেন প্রাক প্রাথমিক সহ পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে ১৫ সেট করে,দাখিল ৬ ষ্ট শ্রেণী থেকে দাখিল দশম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি শ্রেণীতে ১০ সেট করে। এবিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মীর নুরে আলম জানান, যেহেতু নন এমপিও প্রতিষ্ঠান । তাদের বইয়ের চাহিদা আরও বেশি ছিলো কিন্ত কম দেয়া হয়েছে। উপবৃত্তির টাকা ও পেয়ে আসছেন। কিন্তু কিভাবে পাচ্ছেন এ জিজ্ঞাসা সকলের। এবিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগার আলীর স্ত্রী রাশিদা খাতুন বলেন, মাদ্রাসা থেকে প্রতি বছর দাখিল পরীক্ষা দেয়া হয়। এবছরও পরীক্ষা দিয়েছে। সম্প্রতি বেলা ১১ টার দিকে মাদ্রাসা হয়ে সুপারিন্টেন্ডেন্টের বাড়ীতে সরজমিনে গেলে তার স্ত্রী ও সহকারী শিক্ষিকা রাশিদা খাতুনকে তার বাড়ীতে ধান শুকাতে দেখা যায়। তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলে আমি এই মাত্র ক্লাস নিয়ে আসলাম। অতচ মাদ্রাসার শ্রেণী কক্ষগুলোতে গোখাদ্য ও ছাগল বাধা ছিলো। কোন অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা প্রভাষক শফিয়ার রহমান জানালেন, এতো জালিয়াতি ও দুর্নীতি আমি কোন প্রতিষ্ঠানে দেখিনি। এখানে যা কিছু বরাদ্দ হয় সবই স্বামী ও স্ত্রী আত্মসাৎ করেন। জমি দাতা আকবর মোড়ল বলেন, যেহেতু আমরা মাদ্রাসা করার জন্য জমি দান করছিলাম কিন্তু সেখানে ছেলে মেয়ে নেই যুগযুগ ধরে। একারণে আমাদের জমি ফেরৎ চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন করেছি। সুপারিন্টেন্ডেন্ট আজগর আলীর সাথে মুঠোফোন কয়েকবার ফোন করার পর একবার রিসিভ করে বলেন কে বলছেন? সাংবাদিক পরিচয় দিতেই বলেন পরে কথা বলছি। এ বলে মোবাইল কেটে দেন। এরপর থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, খোজ খবর নিয়ে বিষয়ে গুরুত্বসহকারে দেখা হবে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
