ই-পেপার সোমবার ● ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ● ৫ নভেম্বর ২০২৬ ● ২০ কার্তিক ১৪৩৩
জাল দলিল দিয়ে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা, চট্টগ্রামে একজনের কারাদণ্ড
মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: Tuesday, 3 November, 2026, 8:07 PM

জাল দলিল দিয়ে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা, চট্টগ্রামে একজনের কারাদণ্ড

জাল দলিল দিয়ে সরকারি জমি দখলের চেষ্টা, চট্টগ্রামে একজনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম নগরের লালখানবাজার এলাকায় জাল দলিল তৈরি করে সরকারি সম্পত্তি নিজের দখলে নেওয়ার চেষ্টার মামলায় মো. সাদেক খান নামে এক ব্যক্তিকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। তবে রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এ কারণে তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রেজাউল করিম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় আসামিকে এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলায় দুদকের পক্ষ থেকে মোট ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, লালখানবাজার মৌজায় সরকারের অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ০.৭৯০৬ একর জমি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে একটি জাল দলিল তৈরি করেন সাদেক খান। ১৯৬৮ সালের ২২ মে তারিখ উল্লেখ করে ২৬৩১ নম্বরের একটি দলিল তৈরি করা হয়। পরে সেটিকে টার্নার মরিসান কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে জমি কেনার বৈধ দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি।

তবে দুদকের তদন্তে দলিলটির সত্যতা নিয়ে গুরুতর অসংগতি পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নথি যাচাই করে দেখা যায়, ১৯৬৮ সালের ৪৬ নম্বর বালামের ২৮৮ ও ২৮৯ পৃষ্ঠায় থাকা ২৬৩১ নম্বর দলিলটি আসলে একটি দানপত্র। দলিলটির গ্রহীতা হিসেবে আনোয়ারার রায়পুর ইউনিয়ন হাইস্কুলের সেক্রেটারির নাম উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ দলিলটি লালখানবাজারের জমিসংক্রান্ত নয়, বরং আনোয়ারার একটি সম্পত্তির।

এ ছাড়া লালখানবাজার মৌজার ১৯৬৮ সালের দলিলের সূচিপত্রেও ওই নম্বরের কোনো দলিলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এরপরও দলিলটির ফটোকপি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখা এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের একটি মামলায় জমির মালিকানা প্রমাণের নথি হিসেবে দাখিল করা হয়েছিল।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বিতর্কিত জমিটি পিএস খতিয়ান নম্বর ৩১৩-এর ৯২৩ নম্বর দাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তী সময়ে বিএস খতিয়ান নম্বর ২৬৯-এর ১৮১৫ নম্বর দাগ হিসেবে জমিটি চিহ্নিত হয়। ২০১২ সালের ৮ এপ্রিল সরকারি গেজেটে জমিটিকে অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। পরে সরকারি বন্দোবস্তের আওতায় কাজী আকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে জমিটি ইজারা দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, সরকারি সম্পত্তির মালিকানা দাবি প্রতিষ্ঠা করতে সাদেক খান জাল দলিলটি সরকারি বন্দোবস্তসংক্রান্ত ভিপি মামলা এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালের মামলায় ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে জমিটি আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় ২০১৫ সালের ১১ জুন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অর্পিত সম্পত্তি শাখা থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক। অনুসন্ধান শেষে ২০১৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় করা মামলাটি তদন্তের পর ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা ফজলুল বারী আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ১৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বিচার চান সাদেক খান। বিচারিক কার্যক্রমে দুদকের পক্ষে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সবশেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাকে দণ্ডবিধির ৪৭১ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে এক বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার রায় দেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status