সশস্ত্র সংঘাত ও লাগাতার অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেক বাড়ছে জনদুর্ভোগ
রুপম চাকমা,বাঘাইছড়ি
প্রকাশ: Thursday, 5 November, 2026, 6:21 PM
সশস্ত্র সংঘাত ও লাগাতার অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেক বাড়ছে জনদুর্ভোগ
সশস্ত্র সংঘাত, গোলাগুলি ও লাগাতার অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে প্রখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র রাঙামাটির সাজেক ভ্যালির জনজীবন। গত ১১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া দফায় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ফলে সারাদেশের সঙ্গে সাজেকের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন পর্যটন খাতের সাথে জড়িত কয়েক হাজার পেশাজীবী মানুষ।
সংঘর্ষ ও অবরোধের সূত্রপাত গত ২৯ সেপ্টেম্বর ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নের চাইল্যাতলী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যকার গুলাগুলিতে সঞ্চিতা ত্রিপুরা নামের ৭ বছরের এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। এর পরেই সাজেকে চরম অস্থিরতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার প্রতিবাদে সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন এবং গণঅধিকার রক্ষা কমিটি যৌথভাবে গত ৮ অক্টোবর এক সমাবেশে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি আদায় না হওয়ায় গত ১১ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ ডাকেন তাঁরা। পরবর্তীতে দফায় দফায় অবরোধের সময় বাড়ানো হয়।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংগঠনের বক্তব্য গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা অভিযোগ করে বলেন, সাজেক এলাকায় কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা ও অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে না এবং বর্তমান অস্থিরতার জন্য জেএসএস দায়ী।
অন্যদিকে, বাঘাইছড়ি সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক জানান, সাজেকে অস্থিরতার পেছনে মূলত ইউপিডিএফ দায়ী এবং তারা অবরোধকারী সংগঠনগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে।
চলমান সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে পাহাড়ের দুই সংসদ সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে খাগড়াছড়ি সার্কিট হাউজে সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, "সংগঠনগুলোর ৫টি দাবির মধ্যে ৪টিতে সমঝোতা হয়েছে। তবে যেহেতু সাজেকে একাধিক সশস্ত্র সংগঠন রয়েছে, তাই শুধু জেএসএসকে সরিয়ে দেওয়া একক সমাধান নয়; অবৈধ অস্ত্রধারী যারাই রয়েছে, সরকার তাদের সকলের বিরুদ্ধেই কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।"
অর্থনৈতিক ক্ষতি ও মানবিক সংকট সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস—এই পর্যটনের ভরা মৌসুমে সাজেক বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে হোটেল-রিসোর্ট ও পর্যটন ব্যবসা। ব্যবসায়ীদের দাবি, এতে প্রতিদিন অন্তত দুই কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে। পর্যটন ব্যবসার পাশাপাশি থমকে গেছে পরিবহন খাতও। দফায় দফায় চলা অবরোধে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার চালক ও পরিবহন শ্রমিক। এতে পরিবহন খাতের ক্ষতি ছাড়িয়েছে কোটি টাকা।
পর্যটক শূন্য থাকায় স্থানীয় দোকানপাটেও বেচাকেনা নেই বললেই চলে। সাধারণ মানুষের আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ে চরম মানবিক সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে এই অস্থিরতা যেন পাহাড়ের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধন নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়েও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের দ্রুত অবসান, যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বাভাবিকীকরণ এবং সাজেকে স্থায়ী স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।এদিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তৈরি অদ্ভুত পরিশ্রিতির ফলে সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবি মানুষ পড়েছে কঠিন সমস্যায় তারা না পাড়ছে সইতে না পারছে বলতে ফলে ক্রমেই সাধারণ মানুষের জনসমর্থন হারাচ্ছে আঞ্চলিক দলগুলো। এভাবে চলতে থাকলে আঞ্চলিক সংগঠন গুলোর মুখোমুখি অবস্থান নিবে পাহাড়ের মানুষ এমনটাই দাবি স্থানীয় বিশ্লেষকদের।