মেঘ-পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্যে ঘেরা দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালি। অথচ টানা অবরোধ কর্মসূচির কারণে এখন পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে সম্ভাবনাময় এই পর্যটন জনপদ। পর্যটকদের পদচারণা, যানবাহনের ব্যস্ততা, রিসোর্ট-হোটেলের কর্মচাঞ্চল্য এবং বাজারের স্বাভাবিক বেচাকেনা—সবকিছুতেই নেমে এসেছে স্থবিরতা। দীর্ঘদিনের অবরোধে শুধু পর্যটন খাত নয়, থমকে গেছে পাহাড়ের স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জনজীবনও।
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের পর্যটন সড়কে চলমান অবরোধের প্রভাবে সাজেকের পর্যটন ব্যবসায় দেখা দিয়েছে চরম মন্দাভাব। পর্যটক না আসায় অধিকাংশ রিসোর্ট, কটেজ, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কমেছে কর্মব্যস্ততা। পর্যটনকেন্দ্রিক পরিবহন ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, রিসোর্টের ম্যানেজার, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমজীবী মানুষ পড়েছেন আর্থিক সংকটে।
সাজেক ইউনিয়ন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন হওয়ায় এই ইউনিয়নে সর্বমোট ১৩৮ টা গ্রামের প্রায় দশ হাজার সাধারণ মানুষ পড়েছেন তীব্র খাদ্য সংকটে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাজেকের অনেক পরিবারের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। পর্যটকদের আগমন বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার কমে গেছে। অনেক কর্মচারী নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন না। অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণেও দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
এদিকে অবরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সাজেকের চলমান সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের জীবিকা আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে সাজেকের সুনাম ও পর্যটন সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটন ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চলমান সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের ন্যায্য দাবি ও মৌলিক অধিকার বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সাজেক আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের। তাঁদের দাবি, দ্রুত সংকট নিরসন করে স্বাভাবিক যোগাযোগ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক, ফিরিয়ে আনা হোক সাজেকের পর্যটনশিল্পের প্রাণচাঞ্চল্য এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।