কুড়িগ্রামে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইসিটি সেন্টার বন্ধ
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Monday, 2 November, 2026, 5:09 PM
কুড়িগ্রামে বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইসিটি সেন্টার বন্ধ
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আইসিটি সেন্টারটি অযত্ন অবহেলায় বন্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। দেখার কেউ নেই, ২০২১ সালে ঢাকঢোল পিটিয়ে আইসিটি সেন্টারটি উদ্বোধন করা হলেও কার্যত দীর্ঘ ৬ বছর থেকে এর কোন কার্যক্রম শুরুই করা হয়নি।
আজ ২ নভেম্বর সোমবার সকালে আইসিটি সেন্টারটি পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখা যায় করুন চিত্র। সেন্টারটির প্রবেশপথে বাঁধা হচ্ছে গরু, সিঁড়ি ও গ্যালারিতে পড়ে আছে বিড়ি-সিগারেটের অবশিষ্টাংশ ও প্যাকেট। চারপাশে আগাছা, খড়কুটো ও ময়লা-আবর্জনা। জানালার অংশ ভাঙা। ভেতরে ধুলাবালি আর মাকড়সার জালের মধ্যে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে আইসিটি সেন্টারের কম্পিউটার ও মূল্যবান যন্ত্রাংশ, স্থানীয়রা বলছে নেশাখোররা শুনশান ভবনের আশপাশে বসে রাতদিন নেশার আসর বসায় প্রতিনিয়ত।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি সম্পদ দেখভাল করার যদি কোন ইচ্ছাই না থাকে তাহলে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করার কী যুক্তি থাকতে পারে, সেটা তারা জানতে চায়। তাঁরা আশার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, অত্র এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় এগিয়ে নিতে সরকারের এই সদিচ্ছা প্রশংসনীয় ছিলো। স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, এখানে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার, অনলাইন আবেদন ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা মিলবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের আর এসব কাজের জন্য দূরে যেতে হবে না। শুধুমাত্র কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর উদাসীনতায় সেই প্রত্যাশায় গুড়েবালি, গচ্ছা গেছে প্রায় ৫৬ লাখ টাকা। তবুও আইসিটি সেন্টারটি পুনর্জীবিত করা হোক এমন দাবি করেন তাঁরা। এ ব্যাপারে কথা হয়, দাসিয়ারছড়া মহাবিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক জয়ন্ত চন্দ্র সরকারের সাথে তিনি বলেন, "ছিটমহলের শিক্ষার্থী ও তরুণদের কম্পিউটার শিক্ষা, ইন্টারনেট সুবিধা এবং ডিজিটাল সেবা দেওয়ার কথা ছিল এই সেন্টার থেকে। বাস্তবে তারা কোনো সুবিধাই পাননি। এটি সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীনতার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
দাসিয়ারছড়া মহাবিদ্যালয়ের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, "আইসিটি সেন্টারটি চালু থাকলে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, অন-লাইন আবেদন, চাকরির প্রস্তুতি ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা সহজেই পাওয়া যেত। বছরের পর বছর ধরে ভবনটি বন্ধ থাকায় আমরা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।"
ছিটমহল বিনিময় আন্দোলনের নেতা মো. আলতাফ হোসেন বলেন, "আমাদের এলাকার শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের কম্পিউটার শিখতে উপজেলা শহর ফুলবাড়ী নয়ত জেলা শহর কুড়িগ্রামে যেতে হয়। আইসিটি সেন্টারটি চালু হলে এই এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের বিরাট উপকার হতো।"
আইসিটি সেন্টারটি চালু না হওয়ার পেছনে অবকাঠামোগত সমস্যা ও জনবল সংকটের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। উপজেলা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের আইসিটি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, "দাসিয়ারছড়া আইসিটি সেন্টারটিতে অবকাঠামোগত কিছু দুর্বলতা রয়েছে। ভবনের ওপরের প্লাস্টিকের টিনসহ ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, লোকবলও নেই। কিছু কম্পিউটারে সমস্যা হয়েছে। এগুলো চিহ্নিত করে সমস্যা সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছি।" এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের দাবি, শুধু ভবন নির্মাণ করে ফেলে না রেখে দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের মাধ্যমে আইসিটি সেন্টারটি কার্যকরভাবে চালু করা হোক। একই সঙ্গে কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পরীক্ষা ও মেরামত করে ইন্টারনেট সংযোগসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।