|
মাদকের করাল গ্রাসে দেবিদ্বার
৭ মাসে ৬২ মামলায় গ্রেপ্তার ৯৩: তরুণ সমাজ রক্ষায় আগস্টজুড়ে পুলিশের অল-আউট অ্যাকশন
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() ৭ মাসে ৬২ মামলায় গ্রেপ্তার ৯৩: তরুণ সমাজ রক্ষায় আগস্টজুড়ে পুলিশের অল-আউট অ্যাকশন দেবিদ্বার থানা পুলিশের সাম্প্রতিক ৭ মাসের (জানুয়ারি ২০২৬ – জুলাই ২০২৬) তথ্য বিশ্লেষণে মাদকের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এই সময়ে পরিচালিত একাধিক অভিযানে মোট ৬২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯৩ জন মাদক কারবারিকে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি ২০২৬ থেকে জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে মোট ৫ হাজার ৫২২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০৬ কেজি ৫৫০ গ্রাম গাঁজা, ৩টি গাঁজার গাছ এবং ১ হাজার বোতল নিষিদ্ধ স্কাফ (ESKuf) সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ১ লাখ ৮ হাজার ৯৭০ টাকা, ৫টি মোবাইল ফোন এবং পাচারে ব্যবহৃত ৪টি গাড়ি (১টি কাভার্ডভ্যান, ১টি মোটরসাইকেল, ১টি প্রাইভেটকার ও ১টি হাইচ) এবং ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি মাসে ৬টি মামলায় ১৩ জন গ্রেপ্তার করে উদ্ধার করা হয় ২,১২১ পিস ইয়াবা, ৬০ কেজি গাঁজা, ৩৫,৭০০ টাকা, ১টি কাভার্ডভ্যান ও ১টি মোটরসাইকেল। ফেব্রুয়ারি মাসে ৫টি মামলায় গ্রেফতার ১৩ জন। উদ্ধার হয় ১,৬১৭ পিস ইয়াবা, ২৪ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৫৭,২৩০ টাকা, ৪টি মোবাইল ও ১,০০০ বোতল স্কাফ। মার্চ মাসে দায়েদকৃত ৯টি মামলায় ১৪ জন গ্রেপ্তার এবং উদ্ধার করা হয় ৬৪৩ পিস ইয়াবা, ৫ গ্রাম গাঁজা, ৯৩০ টাকা, ১টি প্রাইভেটকার ও ১টি মোবাইল। এপ্রিল মাসে ৯টি মামলায় গ্রেপ্তার হয় ১২ জন। এবং উদ্ধার হয় ৩৫৫ পিস ইয়াবা, ৭ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা, ১টি হাইচ গাড়ি ও ৭,৮২০ টাকা। মে মাসে ১১টি মামলায় ১৪ জন গ্রেপ্তার করে উদ্ধার করা হয় ৩৪১ পিস ইয়াবা, ৩টি গাঁজার গাছ ও ২,৫০০ টাকা। জুন মাসে ৭টি মামলায় ৮ জন কে গ্রেপ্তার করা হয় এবং উদ্ধার হয় ১৭২ পিস ইয়াবা, ১০০ গ্রাম গাঁজা ও ১,৬৩০ টাকা। এছাড়া জুলাই মাসে দায়েদকৃত ১৫টি মাদক মামলায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং একই সাথে উদ্ধার করা হয় ২৭৩ পিস ইয়াবা, ১৪ কেজি ৪৫ গ্রাম গাঁজা ও ৩,১৬০ টাকা। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সহজলভ্য এসব মাদক সাময়িকভাবে যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করলেও দীর্ঘমেয়াদে তা মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি, লিভার ও কিডনি বিকল এবং তীব্র মানসিক বিষণ্নতার সৃষ্টি করে। পরিবার ধ্বংসের পাশাপাশি সমাজে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং কালচার ও সহিংসতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই মাদকের বিস্তার। স্থানীয়দের অভিযোগ, কঠোর পুলিশি নজরদারির পরও সিন্ডিকেটের শিকড় উপড়ানো না যাওয়ায় পরিবারের সন্তানকে নিয়ে চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবকরা। চলতি আগস্ট মাসজুড়ে থানা পুলিশ বিশেষ সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং কুমিল্লার পুলিশ সুপারের প্রশাসনিক অনুমতিতে দেবিদ্বারে মাসব্যাপী একদিন পর পর সচেতনতামূলক র্যালি ও সমাবেশ আয়োজন করা হচ্ছে। একই সাথে একদিন পর পর বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেবিদ্বার থানায় স্থাপন করা হয়েছে গোপন ‘অভিযোগ বক্স’। এই উদ্যোগের ফলে যেকোনো সাধারণ নাগরিক নিজ নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে মাদক কারবারি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য জমা দিতে পারবেন। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান জোরালো আহ্বান করে জানান- "দেবিদ্বারকে মাদকমুক্ত করতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তবে কেবল মামলা বা গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরের সামাজিক সচেতনতা ও পারিবারিক প্রতিরোধ। বিশেষ করে অভিভাবকরা যারা আছেন, আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে—সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। মাদক সম্পর্কিত যেকোনো তথ্য দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করুন। তথ্যদাতার পরিচয় ১০০% গোপন রাখা হবে। একটি সুন্দর ও সুস্থ দেবিদ্বার গড়তে আসুন সবাই একসাথে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।" |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
কৃষক দলের পদধারী নেতা হয়ে মহানগর মহিলা কলেজে একক আধিপত্য বিস্তার সহযোগী অধ্যাপক সেলিমের বিরুদ্ধে
মাদক ঠেকাতে দীঘিনালা পুলিশের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততার আহ্বান
সাজেক বাঘাইহাট জোনের উদ্যোগে ওয়ার্কশপ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্টিত
রংপুর অঞ্চলের সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করলেন কৃষি সচিব
