|
নানা সমস্যায় জর্জরিত রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সময়মতো মেলে না অ্যাম্বুলেন্স চালকের দেখা
মিন্টু কান্তি নাথ,রাজস্থলী
|
![]() নানা সমস্যায় জর্জরিত রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সময়মতো মেলে না অ্যাম্বুলেন্স চালকের দেখা চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদাসীন মনোভাব ও বিভিন্ন অনিয়মের কারণে রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবায় অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগী রোগী ও স্বজনদের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন না উপজেলার বিপুল জনগোষ্ঠী। বর্তমানে যে জনবল আছে তারাও নিয়মিত উপস্থিত থাকেন না স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যার কারণে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে প্রায় ৪০ হাজার বিশাল জনগোষ্ঠীকে। একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তিন টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের সবগুলোতেই বর্তমানে অব্যবস্থাপনা ও জনবল সংকট চরমে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে গড়ে প্রতিদিন ৭ থেকে ১০ জন রোগী ভর্তি হন। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ৫০ শয্যার নতুন ভিআইপি বেড থাকলেও কার্যকর চালু না হওয়ায় বেডের অভাবে অধিকাংশ রোগীকে রাখা হচ্ছে মেঝেতে। আন্তঃবিভাগে পুরুষ ও নারী ওয়ার্ড থাকলেও নেই কোনো শিশু ওয়ার্ড। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার সময় হাসপাতালটিতে শয্যা সংখ্যা ছিল ১০টি। সর্বশেষ এটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয় এবং কত সাল সাল থেকে এটি ৫০ শয্যার প্রশাসনিক অনুমোদনও পায়। যে সকল ডাক্তার ও নার্স আছেন তারাও প্রায় সময়ই কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকেন। হাসপাতালে সেবা প্রার্থীদের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বৃহন্পতিবার সকাল দশটায় সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ নওশাদ খান এর বিষয় নিয়ে আলাপ কালে ড্রাইবারের বিষয় টা জানার আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি কোন জবাব দিতে পারেন নি। রোগীর গাড়ীর চালক প্রতিনিয়ত মদ্যপান করে হাসপাতালে আসেন, আবার কোন জরুরী রোগী চট্রগ্রাম মেডিকেলে রেফার করলে নেওয়ার সময় তাকে পাওয়া যায়না। সাংবাদিকেরা হাসপাতাল ত্যাগ করার সময় কয়েকজন ডাক্তার প্রবেশ করছে হাসপাতালে। আবার বাস্তবে দেখা যায় মেডিকেল টেকনোলজিস জসিম উদ্দিন সপ্তাহে আসে দুই দিন না হয় তিন দিন, সকালে এসে ১১ টায় চলে যায়। জসিম উদ্দিনের বিষয়ে জানতে চাইলে ডা, নওশাদ বলেন তাকে কয়েকবার শোকজ করছি। এলাকাবাসীর বিস্তর অভিযোগ হাসপাতালের রোগীর বাহনের চালক কে দ্রুত অন্য জায়গাই বদলী করে আরেক জন ড্রাইবার নিয়োগ দেওয়ার জন্য। উপস্থিত রোগীর স্বজনদের মধ্যে কয়েকজন জানান, রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নার্স ও ডাক্তারদের ডাকলেও তাদের সাড়া পাওয়া যায় না। প্রায় সময়ই ডাক্তার ও নার্সরা রোগীদের সাথে চরম খারাপ আচরণ করেন। পর্যাপ্ত ওষুধ থাকা সত্ত্বেও শুধু স্যালাইন ব্যাতীত আর কিছুই পাওয়া যায় না। অথচ এখানে ভালো মানের ব্যবস্থাপনা থাকলে আমরা ৪০ হাজার জনগোষ্ঠী পর্যাপ্ত সেবা পেতাম এবং কষ্ট করে চট্রগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ও চন্দ্রঘোনা মিশন হাসপাতালে যেতে হত না। এ বিষয়টি জানতে রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ নওশাদ খান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অব্যবস্থাপনা,রোগীর বাহন চালক, ডাক্তার, নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিন সময়মত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত না থাকার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি বিষয়টি দেখব এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব। রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অব্যবস্থাপনার বিষয়টি রাঙ্গামাটি জেলার সিভিল সার্জন নূয়েন খীসা কে অবগত করা হলে তিনি জানান,রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যারা দায়িত্বে অবহেলা করছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নিব। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
