|
তিস্তা টোল প্লাজায় পৌনে ২ কোটি টাকার ডলারসহ কুড়িগ্রাম হাটির পাড়ার যুবক গ্রেফতার
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
|
![]() তিস্তা টোল প্লাজায় পৌনে ২ কোটি টাকার ডলারসহ কুড়িগ্রাম হাটির পাড়ার যুবক গ্রেফতার ১৪ মে বৃহস্পতিবার রাত ২ টার দিকে লালমনিরহাট জেলা পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে লালমনিরহাট থানাধীন ০৮ নং গোকুন্ডা ইউনিয়নের তিস্তা টোল প্লাজার দক্ষিণ পার্শ্বে অস্থায়ী পুলিশ চেকপোস্টে ওই যুবককে তল্লাশি করে নগদ ১ লাখ ৫৯ হাজার ৩০০ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকাসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত লিখন মিয়া কুড়িগ্রাম জেলা শহরের হাটিরপাড়া এলাকার মো. নুরনবী সরকার বাবুর ছেলে। তার মাতার নাম মোছাঃ জিন্নাত নাসরিন রুপা। লালমনিরহাট থানার পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সন্দেহভাজন ওই যুবককে আটকের পর স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১০০ ইউএস ডলারের ১৫৮১টি নোট এবং ৫০ ইউএস ডলারের ২৪টি নোট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মোট ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৩০০ ইউএস ডলারের কোনো বৈধ উৎস বা কাগজপত্র সে দেখাতে পারেনি সে। লালমনিরহাট থানা পুলিশ জানিয়েছে অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বহনের দায়ে ধৃত আসামির বিরুদ্ধে Foreign Exchange Regulation Act, 1947 অনুযায়ী লালমনিরহাট থানায় মামলা রুজু প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। রয়েছে। এদিকে লিখন গ্রেফতার হওয়ার খবর কুড়িগ্রাম শহরের প্রাণকেন্দ্র হাটির পাড়াসহ সংলগ্ন ঘোঘপাড়ায় জানাজানি হলে ডলার চোরাচালানের সঙ্গে তার গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এলাকার বেশির ভাগ লোকই জানায়, লিখন একটি দরিদ্র পরিবারের ছেলে। তার পিতা স্থানীয় আদর্শ পৌর বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে দিন আনে দিনে খায়। তার পক্ষে এধরণের চোরাচালান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকা অন্য বিষয় ইঙ্গিত করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকে ধারণা করে বলেন, লিখন তারই এক আত্নীয় যে কি- না কুড়িগ্রামের গোল্ড ব্যবসায়ী হিসেবে সু-পরিচিত এবং মাত্র অল্প কয়েক বছরের মধ্যে একই জায়গায় ৫ তলা বিশিষ্ট ২ টি বাড়ি এবং কয়েক কোটি টাকা মূল্যের শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জায়গা - জমি ক্রয় করেছে এবং নিজ নামে ও আত্নীয় স্বজনের নামে একাধিক ব্যাংক ব্যালেন্সের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার পাহাড় বানিয়েছে। লিখন বেশ কিছুদিন থেকে ওই আত্নীয় আন্ডারে কাজ করে। কি কাজ করে জানতে চাইলে অনেকে বলেন, লিখন ওই আত্নীয়ের স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। কেউ কেউ ধারণা করে বলেন, স্বর্ন ব্যবসার অন্তরালে লিখনকে দিয়ে ডলার চোরাচালান ব্যবসা করা হলো কী না কিংবা পূর্ব থেকে করা হচ্ছিলো কী না বিষয়টি গভীর ভাবে তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। কেউ কেউ বলছেন তার এমনই ক্ষমতা টাকা দিয়ে সে রাতকে সে দিন এবং দিনকে রাত বানাতে পারে। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ এই বৈদেশিক মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে। আটক যুবক এসব ডলার কোথা থেকে সংগ্রহ করেছেন এবং কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তা খতিয়ে দেখতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে একই সঙ্গে এই ডলার চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
