|
সোনালি ধান, কালো মেঘ: কাটার আগেই ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় সুনামগঞ্জের হাওর
এস এম মিজান, সুনামগঞ্জ
|
![]() সোনালি ধান, কালো মেঘ: কাটার আগেই ডুবে যাওয়ার শঙ্কায় সুনামগঞ্জের হাওর সুনামগঞ্জের বিস্তীর্ণ হাওরজুড়ে এ বছর বোরো ধানের ফলন হয়েছে চোখ ধাঁধানো। দিগন্তজোড়া সোনালি ক্ষেত যেন কৃষকের এক বছরের ঘাম আর আশার প্রতিচ্ছবি। কিন্তু এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ফসল ঘরে তোলার আগেই একের পর এক সংকট এসে যেন সব হিসাব পাল্টে দিচ্ছে। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা এখন আগাম বন্যা। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে পারে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি, যা ২৮ থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে রূপ নিতে পারে অতি ভারী বর্ষণে। এতে নদ-নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। আর সেই বন্যাই কেড়ে নিতে পারে কৃষকের বছরের সেরা ফসল। এরই মধ্যে মাঠে নেমে পড়েছে ধান কাটার হিড়িক। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, কাজ ততটা সহজ নয়। অনেক জমিতে পানি জমে থাকায় হারভেস্টার মেশিন ঢুকতে পারছে না। অন্যদিকে শ্রমিকের তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষকদের অতিরিক্ত মজুরি দিয়ে শ্রমিক আনতে হচ্ছে। মাটিয়ান হাওরের কৃষক শাহিন মিয়া, বলেন, জমিতে পানি জমে থাকায় মেশিন দিয়ে ধান কাটা যাচ্ছে না। শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না সহজে। বেশি টাকা দিয়ে শ্রমিক আনতে হচ্ছে, অথচ বাজারে ধানের দাম কম। খরচ উঠানোই কঠিন হয়ে গেছে। একই চিত্র শনির হাওরে। চাষি শফিকুল ইসলাম বললেন, কিছু ধান কাটা হয়েছে, বাকিটা এখনও মাঠে। কিন্তু বৃষ্টির খবর শুনে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। বন্যা হলে সব শেষ এই আশঙ্কায় দিন কাটছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মামুন হাওলাদার জানান, আগামি ২৭ এপ্রিল মাঝারি হতে ভারী বৃষ্টি এবং ২৮-৩০ এপ্রিল ভারী হতে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পুর্ভাবাস রয়েছে। প্রধান নদীসমুহে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে। ফলে ২৮ এপ্রিল থেকে সুনামগঞ্জ জেলায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আছে। এতে করে হাওরে ফসলের ক্ষতির আশংকা আছে। তাই হাওরে যে সকল জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেছে সে সকল জমির ধান দ্রুত কাটার অনুরোধ করা গেলো। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এই বিশাল সম্ভাবনা এখন প্রকৃতির খেয়াল আর বাজার ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। হাওরের কৃষকদের জন্য এখন প্রতিটি দিন যেন সময়ের সঙ্গে দৌড়। একদিকে পাকা ধান, অন্যদিকে বাড়তে থাকা পানির চাপ। সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারলেই বাঁচবে বছরের পরিশ্রম নইলে সোনালি স্বপ্ন ডুবে যাবে বন্যার জলে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
উচ্ছেদ হওয়া হকারদের দ্রুত পুনর্বাসনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
নরসিংদীতে স্কুল পরিদর্শনে গিয়ে মিড ডে মিলের খাবারে গন্ধ পেলেন - প্রতিমন্ত্রী
মেঘনা ব্যাংক ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ডদ ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত
কুড়িগ্রামে বিসিক শিল্প নগরীতে উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী অভাবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উজ্জ্বল সম্ভবনা ভেস্তে যাচ্ছে
