ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৬ চৈত্র ১৪৩২
সম্পর্কে ফিউচার ফেকিংয়ের শিকার হচ্ছেন না তো?
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Tuesday, 24 March, 2026, 12:22 PM

সম্পর্কে ফিউচার ফেকিংয়ের শিকার হচ্ছেন না তো?

সম্পর্কে ফিউচার ফেকিংয়ের শিকার হচ্ছেন না তো?

সম্পর্কে থাকা দুজন মানুষ নতুন নতুন স্বপ্ন দেখেন। তবে সঙ্গীকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখানো মানুষের সংখ্যাও নিতান্ত কম না। ফিউচার ফেকিং করেন অর্থাৎ ভবিষ্যৎ নিয়ে মিথ্যা আশ্বাস দেন, এমন মানুষ দীর্ঘদিনের সঙ্গী হিসেবে স্বস্তিদায়ক নন। এ প্রসঙ্গে শিশু-কিশোর ও পারিবারিক মনোরোগবিদ্যার সহকারী অধ্যাপক এবং যুক্তরাজ্যের সিনিয়র ক্লিনিক্যাল ফেলো ডা. টুম্পা ইন্দ্রানী ঘোষের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন রাফিয়া আলম।


একটা সত্যিকার সম্পর্ক কেবল সাময়িক ভালো লাগার ভিত্তিতেই টিকে থাকে না, বরং তা মজবুত হতে থাকে ভবিষ্যতের স্বপ্নের বুননে। সবার সব স্বপ্ন যে পূরণ হবে, তা নয়। তবে দুজনে মিলে স্বপ্নপূরণের পথের সব চ্যালেঞ্জ জয় করার প্রচেষ্টা থাকে। এই প্রচেষ্টার ঘাটতি থাকাটা ফিউচার ফেকিংয়ের বৈশিষ্ট্য।
ফিউচার ফেকিংয়র আরও কিছু দিক

যিনি ফিউচার ফেকিং করেন, তিনি পরিচয়ের অল্প সময়ের মধ্যেই বড় স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। ভবিষ্যৎকে অবিশ্বাস্য সুন্দর হিসেবে উপস্থাপন করতে থাকেন। তবে সঙ্গীর সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য কিছু একটা পরিকল্পনা করলে বারবার তা পেছাতে থাকেন।  ঝগড়া বা কথা–কাটাকাটির সময় ওই মিথ্যা আশ্বাসগুলোকে ব্যবহার করেন তিনি। মিথ্যা স্বপ্নগুলোকেই টেনে আনেন নিজের কথায়।

কারা করেন এমন আচরণ

নিজেকেই যাঁরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন, এমন মানুষ ফিউচার ফেকিং করতে পারেন। সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চাওয়ার কারণে এমনটা করতে পারেন একজন সঙ্গী। আবার যিনি নিজেই কোনো কারণে সম্পর্কে নিরাপদ বোধ করছেন না, তিনিও এমন আচরণ করতে পারেন। যিনি সম্পর্কের মধুর দিকটা উপভোগ করেন কিন্তু ভবিষ্যতের দায়িত্বকে এড়িয়ে যেতে চান, তিনিও করতে পারেন ফিউচার ফেকিং।


যার সঙ্গে ফিউচার ফেকিং করা হয়, তিনি আবেগীয় দিক থেকে দ্বিধাগ্রস্ত থাকেন। একসময় নিজেকে তাঁর প্রতারিত মনে হয়। সম্পর্কের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলেন তিনি। হতাশায় ডুবেও যেতে পারেন।

ভবিষ্যতে কোনো সম্পর্কে জড়াতে গেলেও সঙ্গীকে বিশ্বাস করতে ভয় পেতে পারেন তিনি। তিনি অহেতুক দুশ্চিন্তায় ভুগতে পারেন সম্পর্কের ব্যাপারে। সহজ এবং স্বাভাবিক সম্পর্কে ঢোকা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

যেকোনো মানুষ তাঁর ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে চমৎকার সব স্বপ্ন দেখতে চাইতেই পারেন। তবে সবার সব স্বপ্ন যে পূরণ হওয়ার নয়, তা যেকোনো বাস্তববাদী মানুষই বুঝবেন। তবে স্বপ্নের তো কোনো সীমানা থাকে না। তাই দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু অবাস্তব স্বপ্নের কথাও সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায়।
এটা কিন্তু ফিউচার ফেকিং নয়। এ ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে এমন বোঝাপড়া থাকে, যাতে দুজনেই স্বপ্নটা দেখতে ভালোবাসেন, যদিও দুজনেই জানেন যে এ স্বপ্ন অবাস্তব।

আশ্বাসের চেয়ে কাজকে বেশি গুরুত্ব দিন। স্বপ্নপূরণের জন্য একজন মানুষ কতটা উদ্‌গ্রীব এবং বাস্তবে সে পথে তিনি কতটা এগোচ্ছেন, সেদিকে খেয়াল রাখুন। তাঁর পদক্ষেপ ছোট হলেও সেটিকে গুরুত্ব দিন। তবে পরিকল্পনামাফিক একেবারেই না এগোনো কিংবা বারবার পরিকল্পনা বদলানো, খুব একটা ভালো লক্ষণ না।


খুব অল্প সময়ে কাউকে বিশ্বাস করতে নেই। অল্প সময়ে স্বপ্ন দেখতে নেই। স্বল্প পরিচিত মানুষের দেখানো স্বপ্নকে বিশ্বাসও করতে নেই।

সম্পর্কে থাকলেও ব্যক্তিগত সীমা বজায় রাখুন। চট করেই কারও ওপর আবেগীয়ভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন না। সুন্দর সুন্দর কথার জালে জড়িয়ে সামাজিক স্বীকৃতি ছাড়া গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়াটা মারাত্মক ভুল।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status