ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
তদন্তে ভয়াবহ তথ্য
তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবহৃত বিমানে বড় ত্রুটি, কারণ অনিয়ম
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 7 March, 2026, 10:05 AM

তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবহৃত বিমানে বড় ত্রুটি, কারণ অনিয়ম

তারেক রহমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটের ব্যবহৃত বিমানে বড় ত্রুটি, কারণ অনিয়ম

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে বার বার যান্ত্রিক ত্রুটি, রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ছিল এয়ারক্রাফটটি। একই এয়ারক্রাফট দিয়ে ভিভিআইপি ফ্লাইট হিসেবে তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানকে (২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫) বহন করে আনা হয়।

গুরুতর বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিমান। তদন্ত কমিটির জমা দেওয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

কমিটির প্রধান ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলম। কমিটির সদস্য সচিব ব্যবস্থাপক, অর্থ (ফাইন্যান্স) আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সদস্য ছিলেন উপমহাব্যবস্থাপক, প্রশিক্ষণ (এয়ারক্রাফট/অ্যারো) মো. জুবিয়ারুল ইসলাম।

প্রতিবেদনটি ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে। প্রতিবেদনটি বিমানে জমা পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিমানের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগ। তবে বিমানের কেউই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল এবং মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৯ ও ১৭ ডিসেম্বর এয়ারক্রাফটটির রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। নথি অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যে শেষ করা হয়। তবে বোয়িং ৭৮৭-৯ বিমানের জন্য নির্ধারিত সময়ের তুলনায় এটি অস্বাভাবিকভাবে কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম, বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা

এয়ারক্রাফটটির ত্রুটি নির্ণয় বা কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং সংশ্লিষ্ট জনবল রেকর্ড উপস্থাপন করতে না পারাকে গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করেছে তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছিল না। ১৫ দিনের মধ্যে একই ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি।

বিমানের সিস্টেম সাধারণত শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য সংরক্ষণ করে। তবে তদন্ত শুরুর সময় পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। এতে গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক তথ্য সময়মতো সংগ্রহ বা সংরক্ষণ করা হয়নি বলে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকার সময় আবারও ভিএফএসজি বিকল হয়ে যায়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এমন ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ড বা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

প্রকৌশল বিভাগের ভুল ত্রুটি নির্ণয়ের কারণে এমন একটি বিমান ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহৃত হওয়ায় সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য বিমান থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ এবং পরিবহন ব্যয়ের কারণে মোট প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির মতে, এটি কেবল একটি যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপনের ঘটনা নয়; বরং পুরো ব্যবস্থাপনার একটি সমন্বিত ব্যর্থতার প্রতিফলন।

দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদনে বিমানের দুই প্রকৌশলী হীরালাল ও মো. সাইফুজ্জামান খানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কমিটির মতে, ত্রুটি সংশোধন ও বিমানকে পুনরায় পরিষেবায় ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা যথাযথ সতর্কতা ও যাচাই-বাছাই করেননি।

বিশেষ করে কম ফুয়েল প্রেসারে সতর্কবার্তা পাওয়ার পরও বিমানটিকে ফ্লাইটের জন্য ছাড়পত্র দেওয়াকে গুরুতর সিদ্ধান্তগত ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status