পঞ্চগড়ে বিএমডিএ জোনে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের কোন সত্যতা মেলেনি
পঞ্চগড়ে বিএমডিএ (বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) জোনে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি বিএমডিএ প্রধান কার্যালয় রাজশাহী, নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আবু সঈদ মো: কামরুজ্জামান এনডিসি। তিনি আজ ০৪ ফেব্রুয়ারী /২০২৬ খ্রি: বুধবার সকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সাহেবজোত গ্রামে ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় বিএমডিএর আঞ্চলিক অফিসের উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত করেন।
গত ২৮ জানুয়ারী /২৬ খ্রি: তারিখে তেঁতুলিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাহেবজোত গ্রাম ও তার পাশ্ববর্তী এলাকার ইরি-বরো-ভুট্টা ও গম চাষী কৃষকরা , তেঁতুলিয়া কৃষি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। যার প্রেক্ষিতে গত ২৯ জানুয়ারী দৈনিক দেশবার্তা, দৈনিক আমার দেশ সহ বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত ও ভাইরাল হয়। এরই প্রেক্ষিতে রাজশাহী বরেন্দ্র অঞ্চলের নির্বাহী পরিচালক সরেজমিনে তদন্তে আসেন ।
অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশিত পত্রিকার মাধ্যমে জানা যায় সেচযন্ত্র নষ্ট হলে কৃষকদের কাছে মেরামতের টাকা নেওয়া হয়, ঘন্টা ভিত্তিক পানির বিল ১৫০ টাকা হরে পরিশোধ করতে হয়, এছাড়াও বৈদ্যুতিক ফেজ কেটে গেলে তাদেরকেই মেরামত করতে হয়। গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর বিএমডিএর গভীর নলকূপটির প্রিপেইড মিটার ও মই চুরি হয়ে যায় । এরপর থেকেই বন্ধ রয়েছে পানি সেচ ব্যবস্থা। কৃষকরা – বিএমডিএর দায়িত্বপ্রাপ্ত তেঁতুলিয়া উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোজাহারুল ইসলামের কাছে গেলে তিনি ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।
তদন্তে এসে নির্বাহী পরিচালক প্রথমে চুরি হওয়া পাম্পের বর্তমান অবস্থা পরির্দশন করেন। এর পর কৃষকদের সাথে কথা বলেন। কৃষকদের সভাপতি গিয়াসউদ্দিনকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করলে , কেউ ঘুষ কিংবা বাড়তি টাকা দাবি করেননি বলে জানায়। এরপর নির্বাহী পরিচালক অভিযোগের কপি দেখিয়ে বলেন , তাহলে কেন আপনি অভিযোগ করেছেন যে আপনাদের কাছ থেকে উৎকোচ চাওয়া হয়েছে। এরপর কৃষকদের সভাপতি রীতিমত তোপের মুখে পরেন। পরে তিনি জানান পত্রিকার প্রতিনিধি তাকে বলেন অভিযোগ অথবা নিউজ করে দিলে সত্যতা পাওয়া যাবে বলে অভিযোগ করেছেন।
নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আবু সঈদ মো: কামরুজ্জামান এনডিসি বলেন চুরির জিনিস কিনে দেয়া সরকারি কোন নীতিমালা নাই। এজন্য নিরাপত্তা বাড়াতে হবে । এর পেছনে যে খরচ হবে প্রয়োজনে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু টাকা দিয়ে যন্ত্রাংশ কিনে পাম্প চালু করতে পারেন এবং বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন। এক্ষেত্রে কৃষকদের আবেদন করতে হবে, এবং কমিটমেন্ট দিতে হবে পরবর্তীতে টাকা কিস্তির মাধ্যমে শোধ করতে হবে। টাকা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন সরকারি ফি’র বাইরে একটিও টাকা নেওয়ার সুযোগ নাই। কৃষকরা যে টাকা দিবে সেটার মানি রিসিট পাবে। যে টাকা চাওয়া হয়েছে সেটি চুরি যাওয়া মালামালের বিপরীতে টাকা। এক্ষেত্রে কৃষকদের অভিযোগ মিথ্যা।
সবশেষ জানানো হয় , মিথ্যা তথ্য ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচারের জন্য ইতিমধ্যেই প্রতিবাদ পাঠানো হয়েছে। কৃষকরা অভিযোগ তুলে নেওয়ার পর এবং আবেদন ও কমিটমেন্টের পর পাম্প চালু করা যেতে পারে বলে কৃষকদের অবহিত করেন ।
নির্বাহী পরিচালকের তদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী , বিএমডিএর ঠাকারগাঁও সার্কেল- সমসের আলী , নির্বাহী প্রকৌশলী , বিএমডিএর প্রধান কার্যালয়- রাজশাহীর মনিরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিএমডিএর পঞ্চগড় রিজিয়ন ফরিদুল ইসলাম , সহকারী প্রকৌশলী, বিএমডিএর , পঞ্চগড় রিজিয়ন- শহীদুল ইসলাম।