ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে এবার সরিষার আবাদ রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এবার ৭ হাজার ১২৫ হেক্টরের বেশি জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। আর এত বেশি পরিমাণ জমিতে অতীতে কখনোই সরিষার চাষ হয়নি বলে জানান কৃষি দপ্তর। সরিষার গাছে গাছে আসা হলুদ ফুল ইতিমধ্যে ঝরতে শুরু করেছে।চারদিকে হলুদ ফুলে ভরে গেছে ফসলের মাঠ।
চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বেড়ে উঠা গাছ আর ফুল দেখে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।শুধু তাই নয় সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ বক্স স্থাপনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হওয়ায় মধু উৎপাদনেও যুক্ত হচ্ছেন অনেকে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর বলছে এবার উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে, বারি সরিষা-৭,৮ সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৮, বারি সরিষা-২০। এছাড়াও বিনা সরিষা-৪, ৯, ১০, ১১ উল্লেখযোগ্য।এদের জীবনকাল ৯০-৯৫ দিন এবং প্রচলিত জাতের তুলনায় বেশি তেল ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন, যা আধুনিক কৃষি ও অধিক মুনাফার জন্য উপযুক্ত।
হোসেনগাঁও ইউনিয়নের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই তিনি ২-৩ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেন। এবার কৃষি কর্মকর্তারা আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরামর্শ দেন। গত বছর ভালো লাভ হওয়ায় তিনি রাজি হয়ে যান। এবার চাষ করেছেন বেশ কয়েক বিঘা জমিতেও।
কাশিপুর ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক বাবুল হোসেন বলেন,এর আগে আমি সরিষার চাষ করিনি তবে এবারেই প্রথম আমি দুই বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছি। মনে করছি আমার বিঘা প্রতি ৫ হাজার করে খরচ হবে।এবং প্রতি বিঘা জমি থেকে ১৫ হাজার টাকা করে বিক্রি করবো ভলে আশা করছি।
বাচোর ইউনিয়নের মামুন ও হোসেনগাঁও ইউনিয়নের লিটন আলী সহ অনেকে বলেন,আমন ধান কাটার পরে কৃষকদের বোরো ধান চাষের আগে যে কয়েক মাস জমি খালি পড়ে থাকে সে সময় টায় এই সরিষার আবাদ করে কৃষকরা। এই ফসল টি যেমন বছরের একটি বাড়তি ফসল তেমনি কৃষকদের জন্য মোটা অংকের একটি বাড়তি আয়ের সুযোগ হয়ে যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আরো জানা যায়, গত মৌসুমে বিভিন্ন জাতের ৬ হাজার ৪ শত ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছিল, কিন্তু এবার লক্ষ মাত্রা অতিক্রম করে ৭ হাজার ১ শত ২৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৭ শত হেক্টর জমিতে বেশি সরিষা আবাদ হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, এবার এ উপজেলায় ৮ ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় রেকর্ড পরিমাণে সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সব সময় সঠিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করছি এ বছর ঘন কুয়াশা কম থাকায় সরিষার ফসল ভালো হয়েছে।সেই সাথে আশা করছি যেভাবে ভালো ফলন দেখতে পাচ্ছি সেভাবে ফলন ও এবার বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।