ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বৈশাখ ১৪৩৩
ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা, ৫ দিনের রিমান্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসক
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Tuesday, 27 January, 2026, 4:30 PM

ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা, ৫ দিনের রিমান্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসক

ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা, ৫ দিনের রিমান্ডে ইন্টার্ন চিকিৎসক

টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে টাঙ্গাইল সদর আমলি আদালতের বিচারক অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মাহবুব খান ৫ দিনের রিমান্ড আদেশ মঞ্জুর করেন।

গ্রেপ্তার ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির (২৫) ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার লক্ষ্মীখোলা গ্রামের হাসান আলীর ছেলে। তার স্ত্রীও টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত আছেন।

এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে মারধর করেন কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনা জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ইমনের বিচার ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালকের অফিস কক্ষে ইমনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিক্ষোভের মুখে একপর্যায়ে পুলিশ অভিযুক্ত চিকিৎসককে উদ্ধার করে প্রথমে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরে টাঙ্গাইল সদর থানায় সোপর্দ করা হয়।

জানা গেছে, ইমন টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস শেষ করে সেখানেই ইন্টার্ন করছেন। এক মাসের মধ্যে তার ইন্টার্ন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তিনি গত দেড় মাস ধরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ও গাইনি বিভাগে নারী চিকিৎসকদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষ, ওয়াশরুমসহ কয়েকটি স্থানে গোপন ক্যামেরা স্থাপন করে রাখেন। এরই মধ্যে ১৪টি ভিডিও করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

সোমবার বিকেলে একজন নারী চিকিৎসক ওয়াশরুমে যান। এর কিছুক্ষণ আগে ইমন ওই ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে আসেন। নারী চিকিৎসক ওয়াশরুম ব্যবহারের সময় সেখানে একটি ক্যামেরা দেখতে পান।

পরে তিনি ইমনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি তা অস্বীকার করেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্পাই ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে ইমন ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে হাসপাতালে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম কনক বলেন, ‘হাসপাতালের পরিচালক আবদুল কুদ্দুস এক অফিস আদেশে ওই পুরুষ ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। অভিযোগ তদন্তের জন্য পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আটক ইমনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘অভিযুক্ত ইন্টার্নকে পুলিশ হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছি।’

টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি রুহুল আমিন বলেন, ‘খবর পেয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে থানায় নিয়ে আসা হয়। টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বাদী হয়ে সোমবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status