ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শনিবার ৬ জুন ২০২৬ ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Saturday, 6 June, 2026, 4:54 PM

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে

রাজশাহীর বাগমারায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, বাড়ি নির্মাণের নামে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা গ্রহণ এবং পরে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ উঠেছে এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার এক প্রবাসী নারী আদালতের দ্বারস্থ হয়ে বিচার দাবি করেছেন।

অভিযুক্ত মুনসুর রহমান বাগমারা উপজেলার গনিপুর ইউনিয়নের পোড়াকয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় আক্কেলপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী নারী সাংবাদিকদের জানান, প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর আত্মীয়তার সূত্রে মুনসুর রহমানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। বিয়ের আশ্বাস ও ভবিষ্যৎ সংসারের স্বপ্ন দেখিয়ে মুনসুর রহমান তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে বাড়ি নির্মাণসহ নানা অজুহাতে মোট ৪৮ লাখ ৭ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এসব অর্থ লেনদেনের প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করেন ওই প্রবাসী নারী। 

তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশে ফিরে মুনসুর রহমানের বাড়িতে ওঠেন। আনুষ্ঠানিক বিয়ে না হলেও বিয়ের প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে প্রায় আট মাস স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে বসবাস করেন। এ সময় তিনি মুনসুর রহমানকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বিশ্বাস করে নিজের সঞ্চিত অর্থ তার হাতে তুলে দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে মুনসুর রহমান বিভিন্ন অজুহাত দেখাতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও অস্বীকার করেন। এরপর তিনি এলাকা ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান নিতে শুরু করেন।

ভুক্তভোগী নারীর দাবি, বর্তমানে তিনি যে বাড়িতে অবস্থান করছেন সেটিও তার অর্থায়নে নির্মিত। অথচ ওই বাড়ি থেকে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে।  এছাড়া মুনসুর রহমানের স্বজনরা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, তার ব্যবহৃত ল্যাপটপ, ব্যাংকের চেকবই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নগদ অর্থও জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলে তাকে এবং তার স্বজনদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসী ওই নারী জানান, তিনি ২০১৮ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে জর্ডানে যান এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় দীর্ঘ সময় কর্মরত ছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ ভবিষ্যৎ সংসারের আশায় মুনসুর রহমানকে দিয়েছেন। এখন তিনি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, আমি তাকে বিশ্বাস করেছিলাম। সংসার করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমার জীবনের সঞ্চয়, পরিশ্রমের টাকা সবকিছু তার হাতে তুলে দিয়েছি। এখন আমি বিচার চাই, আমার টাকা ফেরত চাই এবং এই প্রতারণার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী আদালতে মুনসুর রহমানের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুনসুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়টি শোনার পর তিনি কোনো মন্তব্য না করে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status