|
আয়েশা মনির হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য: জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার চাচার
মোঃ বাচ্চু, রাঙ্গাবালী
|
![]() আয়েশা মনির হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য: জবানবন্দিতে হত্যার কথা স্বীকার চাচার গত শুক্রবার বিকেলে রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের মাঝনেতা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় আয়েশা মনি। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শনিবার আয়েশার বাবা বাবুল প্যাদা রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর তিন দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়েশার ছবি প্রচার, এলাকায় মাইকিং এবং স্বজন-প্রতিবেশীদের উদ্যোগে ব্যাপক খোঁজ চালানো হয়। কিন্তু কোথাও কোনো সূত্র না মেলায় উৎকণ্ঠার মধ্যেই সময় কাটছিল পরিবারটির। অবশেষে রোববার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তদন্তের অংশ হিসেবে বাড়িতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে রান্নাঘরের এক কোণ থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় আয়েশা মনির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবার ও এলাকাবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত আয়েশা মনি স্থানীয় নেতা সালেহা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার মা আসমতারা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে শিশুটির চাচা রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি পারিবারিক বিরোধের জের ধরে হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর মরদেহ গোপন করতে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে রান্নাঘরের এক পাশে লুকিয়ে রাখা হয়। রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের জবানবন্দি অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসী এ ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও রহস্যজনক উল্লেখ করে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
