ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৭ মে ২০২৬ ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
কুড়িগ্রামে ১৮০ টি ইটভাটার মধ্যে ৭০টিই অবৈধ
আহম্মেদুল কবির, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: Monday, 5 January, 2026, 7:22 PM

কুড়িগ্রামে ১৮০ টি ইটভাটার মধ্যে ৭০টিই অবৈধ

কুড়িগ্রামে ১৮০ টি ইটভাটার মধ্যে ৭০টিই অবৈধ

পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বিহীন কুড়িগ্রামে ১৮০ টি ইটভাটার মধ্যে ৭০টিই অবৈধ। এসব অবৈধ ইটভাটার মালিক আদালতের রিট দেখিয়ে রমরমা অবৈধ কার্যক্রম চালাচ্ছে। তবে এসমস্ত ইটভাটা পরিবেশ দূষণ ও কৃষি জমির টপ সয়েল অংশের মাটি কাটা আইন তোয়াক্কা না করায় জেলা প্রশাসন থেকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য মতে জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ইটভাটা ১০৮টি, যার মধ্যে মাত্র ৩৮টির বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। বাকি ৭০টি ইটভাটা কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না।

এসব ইটভাটার মালিকরা সিন্ডিকেট করে ইট পোড়া হলে নতুন ইট দেয়ার নাম করে কিছু মৌসুমি মজুদদার ইট ব্যাবসায়ির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সময় মতো ইট না পাওয়ায় কিছু মৌসুমি মজুদদার ইটব্যবসায়ি যেমন ফতুর হচ্ছে তেমনি ইটের দাম বাড়িয়ে দিয়ে গ্রাহক সাধারণদের সাথে প্রতারণা করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলায় ২০টির মধ্যে ১৫টি এবং ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ৯টির মধ্যে ৩টি ইটভাটা অবৈধ। অভিযোগ উঠেছে, নাগেশ্বরীর এগারোমাথা এলাকায় কৃষিজমি থেকে রাতের আঁধারে মাটি কাটছে এএন ব্রিকস ও এনবি ব্রিকস। 

এছাড়া জেবিএল ও টিএমএইচ ব্রিকসও অবাধে মাটি সংগ্রহ করছে। সম্প্রতি জিএস ব্রিকস, ও উলিপুরের এসএফসি ব্রিকস অবৈধ ভাবে মাটি কাটার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত জেল- জরিমানা করলেও পরিস্থিতির  অপরিবর্তিত রয়েছে। ইতোমাধ্য এসমস্ত অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর যৌথ অভিযান শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত জেলার ১৩টি ভাটায় অভিযান চালিয়ে ১২ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

জরিমানাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উলিপুরের এসএম ব্রিকসকে ১ লাখ ৭০ হাজার, এনএম ব্রিকসকে ১ লাখ ৫০ হাজার, এসএফসি ব্রিকসকে ১ লাক ২০ হাজার এবং ভূরুঙ্গামারীর তিনটি ভাটায় ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ইটভাটা মালিকদের একাংশের দাবি, উচ্চ আদালত থেকে তারা তিন মাসের সময় পেয়েছেন। তবে তারা স্বীকার করেছেন যে, পরিবেশ অধিদপ্তর ও কাস্টমস সহ বিভিন্ন দপ্তরে অলিখিত ‘মাসোহারা’ দিয়েই তারা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন জাহান লুনা জানান, ফসলি জমি রক্ষা ও অবৈধ ভাটা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও জানিয়েছেন, নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

রংপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক নুর আলম বলেন, “কুড়িগ্রামের অনেক অবৈধ ভাটা মালিক আদালতের রিট দেখিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। তবে আইন অমান্য করে ফসলি জমির টপ সয়েল কাটা বা পরিবেশ দূষণ করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status