ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ৭ মে ২০২৬ ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
তজুমদ্দিনে নিষিদ্ধ জালের দাপট,ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি রেণু পোনা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 7 May, 2026, 8:00 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 7 May, 2026, 8:02 PM

তজুমদ্দিনে নিষিদ্ধ জালের দাপট,ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি রেণু পোনা

তজুমদ্দিনে নিষিদ্ধ জালের দাপট,ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি রেণু পোনা

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় মেঘনা নদী ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় নিষিদ্ধ জালের অবাধ ব্যবহার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। মৎস্য আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এক শ্রেণির অসাধু জেলে বেহুন্দি, কারেন্ট ও খুঁটা জাল ব্যবহার করে নির্বিচারে নিধন করছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু পোনা। এতে মেঘনার রূপালী ইলিশসহ অন্যান্য দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

​গত ৬ মে (বুধবার) উপজেলার গুরিন্দা মাছ ঘাট সংলগ্ন মেঘনা পাড়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। জেলেরা নৌকা থেকে প্রচুর পরিমাণে রেণু পোনা তীরে স্তূপ করে সেখান থেকে সামান্য কিছু বড় মাছ আলাদা করছেন। নদীর তীরবর্তী অগভীর পানিতে পেতে রাখা হয়েছে নিষিদ্ধ জালের মেলা। বিশেষ করে স্থানীয়ভাবে ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে পরিচিত বেহুন্দি জালের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এই জালের ছিদ্র এতই ছোট যে, সেখান থেকে মাছের রেণু বা ডিমের কণা পর্যন্ত বের হতে পারে না।

​এই মরণফাঁদে আটকা পড়ছে ইলিশের জাটকা,​আইড়, পাঙাশ ও পোয়া মাছের রেণু সহ ​বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের পোনা ও কণা
​বড় মাছগুলো আলাদা করার পর অবশিষ্ট রেণু পোনাগুলো তীরে স্তূপ করে সেখান থেকে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে স্বল্প মূল্যে 'ভাগ' হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। যা নদীর প্রাকৃতিক বাস্তুসংস্থানকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

​অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে জেলেরা দাবি করেন, বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে এই পথে নামছেন। এই কাজ বন্ধ হলে তাদের সংসার পরিচালনা কষ্ট হবে। তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কিছু মৌসুমি জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ী এই নিষিদ্ধ জালের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।
​নিষিদ্ধ জালের দাপট প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আমির হোসেন বলেন, "আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি এবং বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দিচ্ছি। তবে তজুমদ্দিনের বিশাল জলসীমায় জনবল সংকটের কারণে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তবুও আমরা নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সহায়তায় বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছি।

​পরিবেশবাদীদের শঙ্কা
​পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মেঘনা নদী মাছশূন্য হয়ে পড়বে। কোটি কোটি রেণু পোনা এভাবে ধ্বংস হতে থাকলে শুধু জাতীয় মাছ ইলিশই নয়, বিপন্ন হবে অন্যান্য দেশীয় প্রজাতির মাছও।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status