|
অবৈধ ফোন সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয়, সুমাস টেক–গ্রামীণফোন পার্টনারশিপ ঘিরে বিতর্ক
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() অবৈধ ফোন সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয়, সুমাস টেক–গ্রামীণফোন পার্টনারশিপ ঘিরে বিতর্ক দেশের শীর্ষ টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে এবার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অবৈধ বা ‘গ্রে মার্কেট’ মোবাইল ফোন বিক্রিতে পরোক্ষভাবে সহায়তা করার। সম্প্রতি বহুল আলোচিত অবৈধ ফোন বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ‘সুমাস টেক লিমিটেড’-এর সঙ্গে একটি কৌশলগত পার্টনারশিপ বা ব্যবসায়িক চুক্তি করেছে গ্রামীণফোন। এনইআইআর (NEIR) বাস্তবায়নের এই সংবেদনশীল সময়ে এমন সিদ্ধান্ত টেলিকম খাতে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পার্টনারশিপের আওতায় গ্রামীণফোনের নির্দিষ্ট পণ্য কিনলে সুমাস টেকের আউটলেটে ব্যবহারের জন্য ৫ হাজার টাকার এক্সক্লুসিভ ভাউচার দেওয়া হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরাসরি গ্রাহকদের একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের দোকানে যেতে উৎসাহিত করছে এবং কার্যত অবৈধ ফোন কেনার পথ সুগম করে দিচ্ছে। গ্রামীণফোনের দাবি, এই চুক্তির উদ্দেশ্য সুমাস টেক আউটলেটগুলোতে তাদের পণ্য আরও সহজলভ্য করা। তবে প্রশ্ন উঠেছে যে প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা গ্রে মার্কেট ফোন বিক্রির জন্য কুখ্যাত, তাদের সঙ্গে একটি তথাকথিত ‘কমপ্লায়েন্ট’ টেলিকম কোম্পানি কীভাবে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলে? চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের চিফ মার্কেটিং অফিসার ফারহা নাজ জামান, হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেট কমিউনিকেশন নাফিস আনোয়ার চৌধুরী, হেড অফ কাস্টমার সার্ভিস আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, হেড অফ ডিস্ট্রিবিউশন এসকে ইফতেখার আহমেদ এবং সুমাস টেক লিমিটেডের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আবু সাইদ পিয়াস ও হেড অফ মার্কেটিং রাসেদুল আলম রাফি খানসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সুমাস টেকের বিরুদ্ধে অবৈধ ফোন আমদানি ও বিক্রির অভিযোগ নতুন নয়। এমন বাস্তবতায় সরকার যখন ১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবৈধ ফোন বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে, ঠিক সেই সময়ে গ্রামীণফোনের এই অংশীদারত্ব সরকারি নীতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মোবাইল আমদানিকারক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই ভাউচার অফার মূলত গ্রাহকদের সুমাস টেকের দোকানে নিয়ে যাওয়ার কৌশল। সেখানে গিয়ে তারা সহজেই অবৈধ ফোন কেনার প্রলোভনে পড়বে। এটি চোরাচালান ও গ্রে মার্কেট ব্যবসাকে পরোক্ষভাবে বৈধতা দেওয়ার নামান্তর। একদিকে বিটিআরসি ও সরকার অবৈধ ফোনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলছে, অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর সেই অবৈধ ফোনের কারবারিদের সঙ্গেই ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তুলছে এই দ্বিচারিতা টেলিকম খাতের বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পার্টনারশিপের মাধ্যমে সুমাস টেক নিজেদের ব্র্যান্ড ইমেজ পরিষ্কার করার সুযোগ পাচ্ছে। গ্রামীণফোনের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের বৈধ ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে এবং আড়ালে অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করছে। এ অবস্থায় গ্রামীণফোনের করপোরেট দায়বদ্ধতা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই চুক্তির আগে কি সুমাস টেকের ব্যবসায়িক ইতিহাস যাচাই করা হয়েছে? এনইআইআর বাস্তবায়নের সময় এমন পার্টনারশিপ কি সরকারের অবৈধ ফোনবিরোধী উদ্যোগকে দুর্বল করে দেবে না? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবিলম্বে এই পার্টনারশিপ তদন্তের আওতায় আনা উচিত। অন্যথায় অবৈধ ফোন বন্ধের সরকারি উদ্যোগ কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আর করপোরেট স্বার্থের আড়ালে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র, বৈধ ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোক্তা। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
পবিত্র মোহন দাস সভাপতি ও মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল সম্পাদক
তেঁতুলিয়ায় স্মার্ট ইএসডিও ট্যুরিজম প্রকল্পের আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উদযাপন
নলডাঙ্গায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের মাঝে অ্যাসিস্টিভ ও কৃষি প্রণধনা বিতরণে হুইপ দুলু
বাউফলে মান্তা সম্প্রদায়ের পাশে স্প্রেইড হিউম্যানিটি, খাদ্যসামগ্রী বিতরণ
