|
ডামি নির্বাচনের প্রার্থী থেকে ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারক, সারওয়াত শুক্লাকে ঘিরে প্রশ্ন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ডামি নির্বাচনের প্রার্থী থেকে ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারক, সারওয়াত শুক্লাকে ঘিরে প্রশ্ন সম্প্রতি ক্রীড়াঙ্গনে নারীর অধিকার, নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন জোরদারে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে, সেখানে সদস্য করা হয়েছে ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লাকে। এর আগে তিনি বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্বও পেয়েছেন। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। তাদের প্রশ্ন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যেখানে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ এখনো উপেক্ষিত, সেখানে আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাচ্ছেন? ![]() ডামি নির্বাচনের প্রার্থী থেকে ক্রীড়াঙ্গনের নীতিনির্ধারক, সারওয়াত শুক্লাকে ঘিরে প্রশ্ন ডামি নির্বাচনের প্রার্থী রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি অনেকটা ওপেন সিক্রেট যে, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং তার স্বামী ব্যারিস্টার ওমর সাদাত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পুরো সময়জুড়েই ক্ষমতার বলয়ের কাছাকাছি অবস্থান করেছেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো। নির্বাচন ঠেকাতে দলটির নেতাকর্মীরা তখন মাঠে আন্দোলনও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে টাঙ্গাইল-৪ আসন থেকে প্রার্থী হন সারওয়াত শুক্লা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময় আওয়ামী লীগের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপনের যে চেষ্টা চলছিল, সেখানে সারওয়াত শুক্লার মতো প্রার্থীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। মেয়ের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সে সময় বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-তাঁতী বিষয়ক সম্পাদক এবং সারওয়াত শুক্লার মা রাবেয়া সিরাজকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বিষয়টি দলীয় অবস্থানের সঙ্গে সারওয়াত শুক্লার অবস্থানের দূরত্বও স্পষ্ট করে। ৫ আগস্টের পর বদলে যায় দৃশ্যপট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন খাতে আওয়ামী আমলের প্রভাবশালীদের সরিয়ে নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দাবি ওঠে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই পরিবর্তনের মধ্যেও নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন কিছু ব্যক্তি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থাকা প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির মাধ্যমে নিজের পুরোনো এলিট যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে পুনর্বাসিত হন সারওয়াত শুক্লা। প্রথমে বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। এরপর চলতি জুন মাসের শুরুতে ক্রীড়াঙ্গনে নারীর নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা, সুরক্ষা, অধিকার এবং কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় গঠিত পাঁচ সদস্যের কমিটিতেও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। আর এতেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। আলোচনায় ওমর সাদাত সারওয়াত শুক্লার স্বামী ব্যারিস্টার ওমর সাদাতের নামও আইনাঙ্গনে বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে। আইনজীবীদের একটি অংশের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাষ্ট্রীয় ও করপোরেট বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে ২০২০ সালের সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনে তার ভূমিকা নিয়ে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের বিপক্ষে এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করেন ওমর সাদাত। সাদা প্যানেলের পক্ষে সমর্থন আদায়ে নিজের বাসভবনে করপোরেট জগতের আইনজীবীদের নিয়ে একটি নৈশভোজেরও আয়োজন করেছিলেন তিনি। ওই আয়োজনে এ এম আমিন উদ্দিন এবং অনীক আর হকসহ আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের দাবি, ওই নির্বাচনে নানা অন্তর্ঘাত ও কারচুপির কারণে সভাপতি পদে পরাজিত হন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। যদিও সাধারণ আইনজীবীদের ভোটে ১৪টি পদের মধ্যে সম্পাদকসহ ৮টি পদে জয় পেয়েছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল। তাদের মতে, সভাপতি পদে জয়নুল আবেদীনের পরাজয়ের পেছনে ওমর সাদাতদের মতো ‘ঘরের শত্রুদের’ ভূমিকাও ছিল। ত্যাগীদের প্রশ্ন, কারা করছেন পুনর্বাসন? বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ১৭ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেত্রীরা আজও কাঙ্ক্ষিত মূল্যায়ন পাচ্ছেন না। অথচ যারা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিতর্কিত নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসছেন। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের ভাষ্য, “যারা রাজপথে মার খেয়েছেন, মামলা-হামলার শিকার হয়েছেন, কারাগারে গেছেন, তারা এখনো অপেক্ষায় আছেন। আর যারা আওয়ামী লীগের পাতানো নির্বাচনে অংশ নিয়ে সেই নির্বাচনকে বৈধতা দিতে ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তারা এখন রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পদ পাচ্ছেন।” তাদের দাবি, দলের ভেতরে থাকা কোনো প্রভাবশালী মহল এসব ব্যক্তিকে পুনর্বাসন করছে কি না, তা শীর্ষ নেতৃত্বের খতিয়ে দেখা উচিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল জবাবদিহি, সংস্কার এবং বৈষম্য দূর করা। কিন্তু সেই বাস্তবতায় আওয়ামী আমলের সুবিধাভোগী হিসেবে অভিযুক্ত কিংবা বিতর্কিত নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে। বিএনপির বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলছেন, “যেখানে ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীরা এখনো মূল্যায়ন পাচ্ছেন না, সেখানে ডামি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা কীভাবে বড় বড় পদে বসছেন?” তাদের দাবি, কারা এসব ব্যক্তির পুনর্বাসনের পেছনে কাজ করছেন, তা এখনই খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
