সরকার নিষিদ্ধ ড্রাম চিমনির অবৈধ ইটভাটা স্থাপন করে ইটভাটার আঁড়ালে দেদারছে মাদক ব্যবসা শুরেু করেছেন বাগমারার শুভডাঙ্গা ইউনিয়নের বাড়িগ্রামের আব্দুল গফুরের পুত্র খোরশেদ আলম প্রামানিক(৩৫)। তিনি বিগত প্রায় পাঁচ বছর ধরে পাশ্ববর্তী গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চাঁইসারা গ্রামে পনের বিঘা আয়তনের একটি অবৈধ ড্রামচিমনির ইটভাটা স্থাপন করেন।
এতে এলাকার পরিবেশ বিপন্ন হওয়া সহ কৃষি আবাদেও মারাত্বক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
এ নিয়ে এলাকাবাসী সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি রাজশাহীর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা পরিবেশ দপ্তরেও পৌছানো হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী। প্রায় অর্ধশতাধিক এলাকাবাসীর স্বাক্ষরিত ও তাদের পক্ষে অভিযোগটি দায়ের করেন চাঁইসারা গ্রামের মৃত জীতেন্দ্রনাথ মণ্ডলের পুত্র নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, ভূমিদশ্যু খোরশেদ আলম ওই গ্রামে কিছু জমি মালিকের কাছে নামমাত্র মূল্যে জমি লীজ নিয়ে এবং বাঁকি গুলো জমি জোরপূর্বক দখল করে অবৈধ ওই ইটভাটাটি স্থাপন করেন। অবৈধ হওয়ায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কখনও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কিছুদিন ভাটার ব্যবসাটি ভালো চললেও পরে ব্যবসায় মন্দাভাব দেখা দেয়। আর এই মন্দাভাব কাটিয়ে ওঠতেই খোরশেদ আলম ইটভাটার আঁড়ালে শুরু করেন অভিনব মাদক বানিজ্য। এলাকাবাসীর অভিযোগ মতে, তিনি নিজেও একজন মাদকাসক্ত। তার রয়েছে মাদক বিক্রির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খোরশেদ আলম গাঁজা ফেন্সিডিল ইয়াবা ও চোলাই মদ পৌছে দেন চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোতে। এছাড়া প্রতিসন্ধ্যা থেকে শুরু করে রাত অবধি তার ইটভাটাতেও নিয়মিত বসে মাদকের আসর। এখান থেকেও তিনি হাজার হাজার টাকা ইনকাম করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ওই ভাটার পাশে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ভাটায় কখনও দিনে দুপুরে মাদকসেবীদের আনাগোনা শুরু হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসা যাওয়া করতে ভয় পায় ও আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়ে। এছাড়া ভাটা সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক হিন্দু বসতি। নেশাখোররা ভাটায় নেশাদ্রব্য গ্রহন করে রাস্তায় হিন্দু যুবতী মেয়ে দেখলেই নানান ভাবে কটুক্তি ও যৌন হয়রানীর শুরু করে । ওই সমস্ত নেশাখোর লম্পটদের মাধ্যমে শ্লীলতাহানীর ভয়ে অনেক হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের পরিবারের সুন্দরী যুবতীেেদর অন্য অত্মীয়ের বাড়িতে রেখে এসেছেন কেউ কেউ। ওই গ্রামের কৃষক নয়ন কুমার, নিরেন্দ্রনাথ, ভ’পেন, অজিত দাস, যোগেন দাস সহ প্রায় ২৫/৩০ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানান, একে তো অবৈধ ভাটা। সেখানে আগের মত আর ইটকেনাবেচা হয়না। ব্যবসা খারাপ চলায় ভাটা মালিক ক্ষতি পোষাতে এখন মাদক ব্যবসায় নেমে পড়েছেন। মাদক ব্যবসার কারণে এলাকায় এখন নতুন নতুন এবং অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা বেড়েই চলেছে। তাদের আচরন এবং কথাবার্তা উগ্র এবং মারমুখি। এ কারণে আমরা স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চরম আতংকের মধ্যে রয়েছি। এছাড়া ভাটা মালিক খোরশেদ মাদক ব্যবসা নির্বিগ্ন করার জন্য ভাটার আশেপাশে অবৈধ ভাবে বেঁড়া দিয়ে আমাদের চলাচলে মারাত্বক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে চলেছেন।
এসব ঘটনায় স্থানীয় হাটগাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অভিযোগ দিলেও তাদের একাধিক নোটিশকে আমলে না নিয়ে মাদকাসক্ত ও ভুমি দশ্যু খোরশেদ আলম আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। এভাবে অভিযোগ দেওয়ায় তিনি তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে মারপিট ও এলাকা ছাড়ার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাটপাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আফজাল হোসেন বলেন, মাদক বিষয়টি আমাদের জানা নেই। সেখানে ইটভাটার পাশ দিয়ে চলাচলের একটি রাস্তা বন্ধ করা নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এ বিষয়ে উভয় পক্ষকে ডাকা হলে এক পক্ষ না আসায় মিমাংসা করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান হবিবুর রহমান জানান, সেখানে নোটিশ করলে বিবাদী পক্ষ ভাটা মালিক উপস্থিত না হওয়ায় সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
এসব বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে খোরশেদ আলম তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলোকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য মূলক দাবী করে বলেন, আমি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূর থেকে এখানে এসেছি প্রকৃত অর্থে ব্যবসা করার জন্যই। আমার ভাটার কারণে প্রায় শতাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি হিন্দুদের ওপর জুলুম নির্যাতন করার অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে বলেন, এবারের হরি বাসর অনুষ্ঠানে তারা আমাকে বিশেষ অতিথি বানিয়েছে। আমি সাধ্যমত তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করি।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহকারি কমিশনার(ভুমি) মাহমাদুল হাসান বলেন, অভিযোগরে বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করা হবে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।