নোয়াখালীর সেনবাগে পুলিশ আসছে খবর শুনে পালাতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত মো. কবির হোসেন (৫০) বসন্তপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ির মোকলেসুর রহমানের ছেলে। তিনি বসন্তপুর বাজারে ব্যবসা করতেন।
সোমবার (১৬ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পেয়ে বসন্তপুর গ্রামের চৌকিদার বাড়ীর পার্শ্ববর্তী একটি সুপারি বাগান থেকে ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, ব্যবসায়ী কবিরের বিরুদ্ধে মারামারির ঘটনায় ২০১৪ সালের একটি মামলা ছিল। রোববার রাত ১২টায় সেনবাগ থানার এসআই আল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সিএনজি যোগে বসন্তপুর বাজারে গিয়ে কবিরের চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়ায়। এসময় কবিরকে পুলিশ জানতে চেয়ে কবিরকেই প্রশ্ন করলে কবির নিজেকে মাঈন উদ্দিন বলে পরিচয় দেয়। পরে বাজারের নাইটগার্ড জলিলের দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ পার্শ্ববর্তী কবিরের বাড়ীর দিকে যায়। এ সুযোগে কবির পার্শ্ববর্তী একটি সুপারি বাগানে গিয়ে পালিয়ে আশ্রয় নেয়। সোমবার সকালে স্থানীয়রা ওই সুপারি বাগানের মধ্যে কবিরের লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, কবির এর আগেও কয়েকবার স্টোক করেছিল। ধারণা করা হচ্ছে রাতে ওই বাগানে পুনরায় স্টোকে তার মৃত্যু হয়েছে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা বলেন, ওই ব্যবসায়ী কবিরের বিরুদ্ধে একটি মামলায় ওয়ারেন্ট ছিল। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে যায় পুলিশ। কবিরের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পেয়ে কবির যেন কোর্টে আত্মসমর্পণ করে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে পুলিশ চলে আসে। বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজন জানায়, একটি সুপারি বাগানের মধ্যে কবিরের লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে কবিরের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে নিহতের পরিবারের লোকজনের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করবে এমন ভয়ে স্টোকে তার মৃত্যু হয়েছে।