|
নাগেশ্বরীতে হলিকেয়ারে প্রসূতির মৃত্যু,রফাদফা দুই লাখে অভিযোগ
মুতাসিম তানিম,কুড়িগ্রাম
|
![]() নাগেশ্বরীতে হলিকেয়ারে প্রসূতির মৃত্যু,রফাদফা দুই লাখে অভিযোগ পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই প্রাণ হারাতে হয়েছে ওই তরুণীকে। তবে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নিহতের পরিবারকে দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ‘মীমাংসা’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। নিহত জীম কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার গংগারহাট এলাকার মোহাম্মদ জহুরুল হকের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল প্রসববেদনা উঠলে সন্ধ্যায় জীমকে নাগেশ্বরী পৌরসভার গোরধারেরপাড় ব্রিজসংলগ্ন হলিকেয়ার ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দিবাগত রাত ৪টার দিকে ভুরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. রোকেয়া আক্তার বিজলীর তত্ত্বাবধানে তার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। অপারেশনের পর একটি সুস্থ সন্তান জন্ম নিলেও এরপর থেকেই জীমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। স্বজনদের দাবি, অপারেশনের সময় চরম অসতর্কতা ও অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগে ত্রুটির কারণে তার কিডনিতে জটিলতা দেখা দেয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, সিজারের সময় অসাবধানতাবশত প্রস্রাবের নালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে শরীরে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিকল হতে শুরু করে। প্রায় ১৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে গত ১০ মে বিকেলে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জীম। জন্মের পরই মায়ের স্নেহ হারায় তার নবজাতক সন্তান। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন বুঝেও প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দায় এড়াতে দ্রুত অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পর থেকেই হলিকেয়ার ক্লিনিকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. রোকেয়া আক্তার বিজলী ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। নিহতের চাচা শহিদুল ইসলাম বলেন, “রোগীর চিকিৎসায় প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পরে হলিকেয়ার ক্লিনিকের মালিক বখতিয়ারুল ইসলাম আমাদের দুই লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। মামলা করে আর কী হবে?” তবে অর্থ লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার না করে হলিকেয়ার ক্লিনিকের পরিচালক ও ডা. বিজলীর স্বামী বখতিয়ারুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা সমাধান করেছি।” কীভাবে সমাধান করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। একপর্যায়ে ফোন কেটে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, নাগেশ্বরীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা নামসর্বস্ব বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে নেই কার্যকর তদারকি। অদক্ষ চিকিৎসক ও অব্যবস্থাপনার কারণে এসব ক্লিনিক এখন সাধারণ মানুষের জন্য ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। নিহত জীমের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে। দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন এলাকাবাসী। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
