দীর্ঘদিন ধরে রান খরায় ভুগছিলেন তামিম ইকবাল। সময়টা হবে বছরখানেকেরও বেশি। গেল বছর ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ছিলেন পুরোপুরি ফ্লপ। পরে বিরতিও নিয়েছিলেন। তবু স্বরূপে ফিরতে পারেননি। স্বভাবতই সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছিলেন তিনি। অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন ড্যাশিং ওপেনার।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পুরনো রূপে ফিরলেন তামিম। স্ট্রোকের ফুলঝুরি ছুটিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের ১২তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। সাফল্য পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত তিনি। লম্বা সময় ধরে রানে না থাকায় চাপে ছিলেন, সেটিও অকপটে স্বীকার করলেন এ বাঁহাতি ওপেনার। তার কথাতেই সব স্পষ্টভাবে ফুটে উঠল।
গেল বুধবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তামিম। তিনি বলেন, চাপে ছিলাম, এটি মিথ্যা নয়। তবে আমার কাছে মনে হয়, বরাবর আমি ব্যাটিংটা ভালো করছিলাম। হয়তো বড় ইনিংস খেলতে পারছিলাম না। টেস্টে ৪১ করেছিলাম। পাকিস্তানে ৩৫/৩৬ রানের একটা ইনিংস খেলেছিলাম। বিশ্বাস ছিল, বড় রান পেয়ে যাব। এটি শুধু সময়ের ব্যাপার।
গেল এক বছরে তামিমকে ক্রিজে সেভাবে আগ্রাসী দেখা যায়নি। তবে এদিন শুরু থেকেই তাকে বেশ আক্রমণাত্মক দেখা গেছে। কিন্তু তিনি জানান, আগের মতোই ছিল তার ব্যাটিংয়ের ধরন। ড্যাশিং ওপেনার বলেন, সত্যি বলতে কী– এ ম্যাচে আমি ভিন্ন কিছু করিনি। একটা জিনিস হয়েছে, সেটি হলো– আমি ২-৩টা বাউন্ডারি বেশি পেয়েছি। কোনো ওভারে দুটি বল আমার পায়ে থাকলে, সেগুলো ফ্লিক করে চার মেরেছি। সেঞ্চুরি হওয়ার আগে আমি এগিয়ে কোনো বড় শট খেলিনি। সব শটই ছিল ক্রিকেটীয়। হয়তো অনেক শট গ্যাপে পড়েছে, বাউন্ডারিতে চলে গেছে।
তামিম এর আগে দেশের হয়ে ওডিআই ক্রিকেটে সবশেষ সেঞ্চুরি করেন ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে খেলেন ১০৩ রানের ইনিংস। দীর্ঘ ১৯ মাস পর তিন অঙ্কের ঘর স্পর্শ করলেন তিনি।
সিলেটে ১৫৮ রানের রাজসিক ইনিংস খেলেন তামিম। এ পথে তিনটি রেকর্ড গড়েন তিনি। এটিই কোনো বাংলাদেশির ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। সেই সঙ্গে একদিনের ক্রিকেটে দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ৭০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন মারকুটে ওপেনার।
পাশাপাশি ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের দৌড়ে লিটল মাস্টার শচীন টেন্ডুলকার, ব্যাটিং দানব ক্রিস গেইল, বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানদের পেছনে ফেলেন তামিম।
তার রেকর্ড রাঙা ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছে রোমাঞ্চকর জয়। ৮ উইকেটে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩২২ রান প্রায় টপকেই যাচ্ছিল জিম্বাবুয়ে। শেষ বলের মীমাংসায় ৪ রানের ব্যবধানে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পান লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। শেষ অবধি রুদ্ধশ্বাস জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জেতেন তারা।