ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৯ জুন ২০২৬ ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
সত্যিই কি ভূত আছে পৃথিবীতে?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 31 October, 2019, 10:05 PM

সত্যিই কি ভূত আছে পৃথিবীতে?

সত্যিই কি ভূত আছে পৃথিবীতে?

আবার চলে এলো ভূতেদের দিন। হ্যালোউইন ডে। আজ ৩১ অক্টোবর সারাবিশ্বে নানা আড়ম্বরে জমকালো সব আয়োজনে এই ভূতেদের দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। সারাবিশ্বে ভূত নিয়ে যখন এত মাতামাতি, এত আয়োজন তখন আমাদের দেশের ভূত আর ভূতের ইতিহাস নিয়েও তো কিছু বলা দরকার। কারণ আমাদেরও রয়েছে ভূত নিয়ে বিভিন্ন গল্প, প্রচলিত ইতিহাস, রূপকথা আরও কতো কি। ভূত নিয়ে আমাদের বিশ্বাস অবিশ্বাসের কথাই কথা জানাবো আজ।

ভূতের ভয়ে ছোটবেলায় চোখমুখ ঢেকে কাঁথামুড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। রাতের বেলায় দাদী-নানী, বাবা-মায়ের মুখে ভূতের কতো গল্প শুনেই তো আমরা ভয় পেয়েছি। মামদো ভূত, মেছো ভূত, গেছো ভূত, রাক্ষসের গল্প আজও আমাদের মনে দাগ কেটে আছে। রাতে অন্ধকারে থাকতে ভয় করেছে, জানালা দিয়ে বাইরে তাকাতে ভয় করেছে। কিন্তু এই যে ভূতের এত কথা, এত ভয়, এত গল্প আমরা শুনেছি, সেই ভূত কি আসলে পৃথিবীতে আছে বা আমরা কি আসলে কখনো নিজের চোখে ভূত দেখেছি?

ভূত আছে কি নেই, এই নিয়ে যুগে যুগে কম আলোচনা তো হয়নি। কিন্তু এই ভূত কি শুধু কল্পনাশক্তির দ্বারাই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কিনা তা আজও আমাদের অজানা। এটি একবারেই অমীমাংসিত। সবকিছু মিলিয়ে আমরা ভূতের গল্প শুনে আসছি যুগের পর যুগ ধরে। কিন্তু নিশ্চিত হতে পারিনি ভূত আছে কি নেই। বার বার একটি প্রশ্নই থেকে গেছে- ভূত কি সত্যিই আছে?

ভূত মানে মৃত আত্মা বা অপচ্ছায়া। ভূতে বিশ্বাস সেই প্রাচীনকাল থেকেই। অসংখ্য প্রাচীন লোককাহিনীতে ভূতের উল্লেখ আছে। পৃথিবীর অনেক জাতিই ভূতে পুরোপুরি বিশ্বাস করে।

এখনো অনেকের মধ্যেই ভূতবিষয়ক বিভিন্ন কিছু ধারণা, কুসংস্কার বা বিশ্বাসের প্রচলন রয়েই গেছে। বিশেষ করে আমাদের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলগুলোতে। যেমন নির্দিষ্ট কোনো গাছের নিচে দিয়ে যাওয়া যাবেনা, গেলেই ভূতের কবলে পড়ার ভয়। হতে পারে সেটা তেতুল গাছ, বটগাছ। শেওড়াগাছে ভূতপেত্নী আছে, এটা এখনো তো আমরা কথা প্রসঙ্গে বলি। শহরে বা গ্রামে কিছু এলাকায় এখনো অনেক চিহ্নিত গাছ থাকে যেটার আশেপাশে যাওয়াই নিষেধ।

আবার অনেক মিথের মধ্যে একটি হলো রাতের বেলায় পিঠা খাওয়া যাবে না। খেলে ভূতে ধরবে। আবার সন্তান না খেলে তাকে ভূত বা জুজুবুড়ির ভয় দেখিয়ে জোর করে খাওয়ানো হয়। সেই শিশু কিন্তু ছোটবেলা থেকেই শেখে যে ভূত জিনিসটাই ভয়ের। সে সত্যিকারের ভূত চোখে না দেখলেও কল্পনা থেকে বানানো ভূত, রাক্ষস-খোক্ষসের সঙ্গে সে ছোটবেলা থেকেই পরিচিত হতে থাকে।

অমাবস্যা বা পূর্ণিমা এলে তো ভূত নিয়ে বিভিন্ন মুখরোচক মিথগুলো বেশি ছড়াতে থাকে। এই সময়গুলোতে সন্ধ্যা পার হলেই আর ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না, এটা-ওটা খাওয়া যাবে না। এটা এখনো প্রযুক্তির যুগেও অনেকে মেনে চলে। আবার সন্ধ্যার পরে খোলাচুলে বের হওয়া যাবেনা, মাছ ধরতে যাওয়া যাবে না, অনেককিছুর নাম মুখে নেওয়া যাবেনা- এগুলো একসময় একেবারে প্রতিষ্ঠিত ছিল। এখন সেই বিশ্বাস কমে গেলেও চলে যায়নি একেবারে।

আমাদের গল্প, রূপকথা, লোকগাঁথা, চলচ্চিত্রে ভূতের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। ভূতকে নিয়ে অসম্ভব সুন্দর কাহিনীগুলো শুনলে বিশ্বাস করতেই মন চাইবে। এখন এমনই অবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে যে ভূত থাক বা না থাক, ভূতের কিছু বিষয় বা ভূত নিয়ে বিশ্বাসের কিছু অনুষঙ্গ আমাদের মনের মধ্যে একেবারে গেঁথেই গেছে। আমরা এখনো এই অনেক বিষয়গুলোই মেনে চলি। বিষয়গুলো অভ্যাস হয়ে গেছে। অনেক সময় অশরীরি বা অতিপ্রাকৃত কিছু দেখে বা কোনো ঘটনা দেখে ভূত বলে ধরে নিই আমরা।

কিন্তু ভূত নিয়ে বিজ্ঞানের কি ব্যাখ্যা? আমরা তো জানি যে বিজ্ঞান সবকিছুরই ব্যাখ্যা দিতে পারে। ভূত নিয়ে আর পাঁচটা লোকের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলেই আপত্তি নিয়ে সবাই বলে বসবে ধুর, ভূত বলে কিছুই নেই, এটা চোখের ভুল, অযাচিত বিশ্বাস ইত্যাদি ইত্যাদি। আবার কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে ভয়ও পেয়ে বসতে পারে। নিজের বা অন্যের ভৌতিক কাহিনী বলার চেষ্টাও করবে। কিন্তু বিজ্ঞান বলে, মানুষ সাধারণত অবাস্তব কাহিনীর জন্ম দেয় তার কল্পনাশক্তির ওপর ভর করে। হাজার বছর ধরে ভূতের গল্প প্রচলিত থাকলেও বিজ্ঞানের কাছে সেটার কোনো ব্যাখ্যা নেই।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status