ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ১৯ জুন ২০২৬ ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
ধনীদের সম্পদের বিপরীতে গরিবের আমল
মুফতি মাহমুদ হাসান
প্রকাশ: Wednesday, 30 October, 2019, 1:58 PM

ধনীদের সম্পদের বিপরীতে গরিবের আমল

ধনীদের সম্পদের বিপরীতে গরিবের আমল

জনৈক কবি বলেন, ‘কুঈ বুরা নেহী হ্যায় কুদরত কী কারখানে মে’—অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টির লীলাভূমিতে কোনো কিছুই খারাপ নয়। ধনী-গরিব সব ধরনের মানুষ দিয়েই আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সাজিয়েছেন। মানবসভ্যতার শুরু থেকেই এ ধারাবাহিকতা চলমান, আর তা পৃথিবী ধ্বংসের আগ পর্যন্ত থাকবে। হাদিস শরিফের বাণী অনুসারে কিয়ামতের পূর্বক্ষণে একটি সময় শুধু এমন আসবে, যখন পৃথিবীতে দারিদ্র্য মোটেই থাকবে না, তখন কিন্তু পৃথিবীর আয়ুও শেষ হয়ে আসবে। যদিও আল্লাহ ও রাসুলের বিধান অনুযায়ী দেশের দায়িত্বশীল ও সমাজপতিদের দায়িত্ব হলো ধনী-দরিদ্রের ব্যবধানের মাত্রা কমানো ও শ্রেণিবৈষম্য দূর করা এবং যথাসম্ভব দারিদ্র্যের হার কমানোর চেষ্টা করা। কিন্তু সৃষ্টিগত ও প্রকৃতিগতভাবে সম্পদশালিতায় কিছু তারতম্য কিয়ামত পর্যন্ত থেকেই যাবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তাআলা দরিদ্রদের ঠকিয়েছেন। বরং তাদের দুনিয়ার যৎসামান্য অভাব ও কষ্টের বিনিময়ে পরকালে রয়েছে ধনীদের তুলনায় বিশাল পুরস্কার। কিছু আমলের দ্বারা দরিদ্র মুমিনরা ধনী মুমিনদের চেয়ে আখিরাতে অনেক এগিয়ে থাকবে। নিচে আমরা তা সামান্য আলোচনা করব, ইনশাআল্লাহ!

ধনীদের আগে দরিদ্রদের জান্নাতে প্রবেশ : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দরিদ্র মুমিনরা ধনীদের চেয়ে অর্ধদিন আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর আখিরাতের অর্ধদিনের পরিমাণ হলো পৃথিবীর ৫০০ বছর।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৪১২২)

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে দরিদ্র অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখো, দরিদ্র থাকা অবস্থায় মৃত্যু দিয়ো এবং কিয়ামত দিবসে দরিদ্রদের দলভুক্ত করে হাশর কোরো। (এ কথা শুনে) আয়েশা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কেন এরূপ বলছেন? তিনি বলেন, হে আয়েশা! তারা তো তাদের সম্পদশালীদের চেয়ে ৪০ বছর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা! তুমি যাচ্ঞাকারী দরিদ্রকে ফিরিয়ে দিয়ো না। যদি দেওয়ার মতো কিছু তোমার কাছে না থাকে, তাহলে একটি খেজুরের টুকরো হলেও তাকে দিয়ো। হে আয়েশা! তুমি দরিদ্রদের ভালোবাসবে এবং তাদের তোমার সান্নিধ্যে রাখবে। তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তোমাকে তাঁর সান্নিধ্যে রাখবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৫২)

যে আমলে ধনীদের ছাড়িয়ে যাবে : আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, দরিদ্র লোকেরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, সম্পদশালী ও ধনী ব্যক্তিরা তাদের সম্পদের দ্বারা উচ্চ মর্যাদা ও স্থায়ী আবাস লাভ করছেন, তাঁরা আমাদের মতো সালাত আদায় করছেন, আমাদের মতো সিয়াম পালন করছেন এবং অর্থের দ্বারা হজ, ওমরাহ, জিহাদ ও সদকা করার মর্যাদাও লাভ করছেন। এ কথা শুনে তিনি বলেন, আমি কি তোমাদের এমন কিছু কাজের কথা বলব, যা তোমরা করলে যারা নেক কাজে তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে, তাদের পর্যায়ে পৌঁছতে পারবে? তবে যারা পুনরায় এ ধরনের কাজ করবে তাদের কথা স্বতন্ত্র। তোমরা প্রত্যেক সালাতের পর ৩৩ বার করে ‘সুবহানাল্লাহ’, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ এবং ‘আল্লাহু আকবার’ পাঠ করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস : ৫৯৫)

সহিহ মুসলিমের অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, কিছু সাহাবি বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! ধনীরাই তো বেশি নেকির অধিকারী হয়ে গেল। তারা নামাজ পড়ছে, যেমন আমরা নামাজ পড়ছি, তারা রোজা রাখছে, যেমন আমরা রাখছি এবং (আমাদের চেয়ে তারা অতিরিক্ত কাজই করছে যে) নিজেদের প্রয়োজন অতিরিক্ত মাল থেকে তারা সদকা করছে।’ তিনি বলেন, ‘আল্লাহ কি তোমাদের জন্য সদকা করার মতো জিনিস দান করেননি? নিঃসন্দেহে প্রত্যেক তাসবিহ সদকা, প্রত্যেক তাকবির সদকা, প্রত্যেক তাহলিল তথা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা সদকা, ভালো কাজের নির্দেশ দেওয়া সদকা ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা সদকা এবং তোমাদের স্ত্রী-মিলন করাও সদকা।’ সাহাবিরা বলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের কেউ স্ত্রী-মিলন করে নিজের যৌনক্ষুধা নিবারণ করে, তবে এতেও কি তার পুণ্য হবে?’ তিনি বলেন, ‘তোমরা কী বলো, যদি কেউ অবৈধভাবে যৌন-মিলন করে, তাহলে কি তার পাপ হবে না? অনুরূপ সে যদি বৈধভাবে (স্ত্রী-মিলন করে) নিজের কামক্ষুধা নিবারণ করে, তাহলে তাতে তার পুণ্য হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০০৬)

সবরের নিয়ামতে ধন্য : আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, কিছুসংখ্যক আনসারি সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিছু চাইলে তিনি তাদের দিয়ে দেন, আবার তারা চাইলে তিনি তাদের দিয়ে দেন। এমনকি তাঁর কাছে যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেল। এরপর তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যে সম্পদ থাকে তা তোমাদের না দিয়ে আমার কাছে জমা রাখি না। তবে যে চাওয়া থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন আর যে পরমুখাপেক্ষী না হয়, আল্লাহ তাকে অভাবমুক্ত রাখেন। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করে, আল্লাহ তাকে সবর দান করেন। সবরের চেয়ে উত্তম ও ব্যাপক কোনো নিয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৬৯, মুসলিম, হাদিস : ১০৫৩)


অল্পে তুষ্টির নিয়ামত লাভ : আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ওই ব্যক্তি সফল, যে ইসলাম গ্রহণ করল ও মোটামুটি প্রয়োজন পরিমাণ রিজিক পেল এবং আল্লাহ তাআলা তাকে যা দিয়েছেন তার ওপর পরিতুষ্ট রইল।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১০৫৪)

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status