|
একাই ১০০ সৈন্যকে পরাস্তকারী বীর সাহাবি
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() একাই ১০০ সৈন্যকে পরাস্তকারী বীর সাহাবি ইসলামগ্রহণ ও জিহাদি জীবন রাসুল (সা.) মদিনায় হিজরতের আগে-পরের কোনো একসময়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। এরপর বদর যুদ্ধ ছাড়া উহুদ, খন্দকসহ বাকি সক যুদ্ধে রাসুল (সা.)-এর সাথে অংশগ্রহণ করেন। হুদাইবিয়ার বাইআতে রিজওয়ানেও তিনি শরিক ছিলেন। আবু বকর (রা.)-এর খেলাফতামলে ভণ্ড মুসাইলামাতুল কাজ্জাবের বিরুদ্ধে ইয়ামামার ভয়াবহ অভিযানে তিনি বীরত্বপূর্ণ ভূমিকায় উত্তীর্ণ হন। সে-অভিযানের সেনাপতি ছিলেন খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.)। মুসলিম-বাহিনী যেন বীরত্বের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন সেজন্য সেনাপতিকে তিনি উত্সাহ-উদ্দীপনামূলক ভাষণদানের জন্য পরামর্শও দেন। সে-দিন তীর-তলোয়ার ও বর্শা-বল্লমের ৮০টিরও বেশি যখমে তাঁর সারা শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায়। খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা.) দীর্ঘ এক মাস যাবত তাঁর চিকিত্সা-সেবায় নিয়োজিত থাকেন। (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা : ৩/১২৫, ক্র.৩১, রিজালুন হাওলার রাসুল : ১/৩২৪) উমার (রা.)-এর খেলাফতামলে হিজরি ১৭ থেকে ২০ সনে পারস্যের রামহুরমুয, তুসতার ও সুস বিজিত হয়। তুসতার অভিযানে তিনি আবু মুসা আল-আশআরি (রা.)-এর বাহিনীর দক্ষিণভাগের অধিনায়ক ছিলেন। এই যুদ্ধে তিনি একাই প্রতিপক্ষের একশত সৈন্যকে হত্যা করেন। (আল-কামিল ফিত তারিখ : ২/৫৪০পৃ.; আল-আলাম ২/১৫পৃ.; মুজামুল বুলদান ১/২৫৬পৃ.; উসদুল গাবাহ ১/১৭২পৃ. সূত্রে— আসহাবে রাসুলের জীবনকথা ৪/১০; রিজালুন হাওলার রাসূল ১/৩২৫) অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতা রণক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অসাধারণ বীরত্ব ও সাহসিকতার অধিকারী। শত্রু-বাহিনীর মোকাবেলায় ছিলেন গর্জেওঠা সিংহপুরুষ। শত্রুর মোকাবিলায় ছুটছেন তো ছুটছেন; পেছনে তাকানো কী জিনিস তা জানতেন না। তাই তো উমার (রা.) তাঁকে কোনো বাহিনীর অধিনায়ক নিয়োগ করেননি এবং অন্য সামরিক অফিসারদেরকেও বলে দিয়েছেন, বারা ইবনে মালিককে তোমরা কোনো মুসলিম-বাহিনীর সেনাপ্রধান নিয়োগ করবে না। কারণ, সে একটা বিপদ। সে সৈন্যবহর নিয়ে সামনেই যাবে; পেছনে সরবে না। (সিয়ারু আলামিন নুবালা : ৩/১২৫পৃ. ক্র.৩১; উসদুল গাবাহ : ১/২০৬; আল-আলাম ২/৪৭) আনাস (রা.) বলেন, আমি (আমার ভাই) বারা ইবনে মালিককে দেখতে গেলাম। গিয়ে দেখি তিনি গুণগুণ সূরে কবিতা পাঠ করছেন। আমি বললাম, ভাই! এভাবে আর কতদিন চলবে? আল্লাহ আপনাকে এর চেয়ে উত্তম বস্তু কোরআন দান করেছেন। জবাবে তিনি বললেন, তুমি কি আশঙ্কা করছো যে, আমি এভাবে বিছানায় মৃত্যুবরণ করব, অথচ আমি অন্যের সহযোগিতা ছাড়াই শুধু নিজ হাতেই ১০০ জনকে হত্যা করেছি। আমি আশাবাদী আল্লাহ আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু থেকে বঞ্চিত করবেন না। মহান আল্লাহ তাঁর সেই তামান্না পূরণ করেছেন। ইসলামী ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়ানক যুদ্ধে তিনি শাহাদাতবরণ করলেন। (আল-ইসতি‘আব ১/১৫৩; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৩/১২৬,; রিজালুন হাওলার রাসুল : ১/৩২২) ইন্তেকাল তুসতার অভিযানের সময় তিনি একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের যোদ্ধা মারযুবানের মুখোমুখি হন। রণক্ষেত্রে কাপুরুষতা ও সাহসহীনতার ইতিহাস তাঁর জীবনে নেই। জীবনবাযি রেখে লড়তে থাকলেন। একপর্যায়ে মারযুবান তাঁকে শহীদ করে দেয়। তুসতারের পূর্ব ফটকে তিনি সমাহিত হন। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ আলস্নামা ওয়াক্বিদী রহ. এর মতে এটা ২০ হিজরী সনের ঘটনা। অপর বর্ণনামতে ১৯/২৩ হিজরী সনের ঘটনা। (উসদুল গাবাহ ১/২০৬) বারা ইবনে মালিক (রা.) রাসুল (সা.)-এর ঘনিষ্ঠ সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত। দীর্ঘ বছর রাসুল (সা.)-এর সাহচর্য লাভ করেছেন। নিশ্চয় তিনি প্রিয় নবীর যবানে মুবারক থেকে অসংখ্য হাদিস শ্রবণ করেছেন। আশ্চর্যের ব্যাপর হলো, হাদিসগ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিস তেমন দেখা যায় না। সম্ভবত যুদ্ধ-জিহাদে ব্যস্ত থাকার কারণে হাদিস-বর্ণনার কাজে মনোযোগ দিতে পারেননি। রিজাল-শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে তিনি মর্যাদাবান সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ রয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
