চট্টগ্রাম নগরে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। চলতি মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এসব এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি সম্ভাব্য মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা হচ্ছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরের সাগরিকা মোড়সংলগ্ন কাজীর দীঘি এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
মেয়র বলেন, নগরের ঝুঁকিপূর্ণ ও হটস্পট এলাকাগুলোতে মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। এসব কার্যক্রম সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জমা পানিতেই এডিসের বংশবিস্তার
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, এডিস মশা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, বালতি, ড্রাম, এসির নিচের ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন এবং পরিত্যক্ত পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
এ ছাড়া ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব পরিত্যক্ত সামগ্রীতে পানি জমতে পারে, সেগুলো দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানান তিনি।
‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’
নগরবাসীর উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এই অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শুধু নিজের বাসাবাড়ি বা আঙিনা পরিষ্কার রাখলেই হবে না, আশপাশের মানুষকেও সচেতন করতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম যথেষ্ট নয়। নগরবাসীর সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া এ রোগ প্রতিরোধ করা কঠিন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
দিনের বেলায়ও সতর্ক থাকার পরামর্শ
এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় উল্লেখ করে মেয়র দিনের সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি ঘুমানোর সময় নিয়মিত মশারি ব্যবহারের আহ্বান জানান তিনি।
কাজীর দীঘি ও আশপাশের এলাকায় চসিকের ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংস, ওষুধ প্রয়োগ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একই সঙ্গে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়।
মেয়র জানান, নগরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চসিকের মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।